পঞ্চম শ্রেণী
আমাদের পরিবেশ
প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
১ ) বর্ম কাকে বলে ?
উত্তর : আগেকার দিনের যোদ্ধারা যুদ্ধের সময় দেহে আঘাত না লাগার জন্য পুরু চামড়ার তৈরি যে পোশাক পড়ত , তাকে বর্ম বলা হয় ।
২ ) শরীরের বর্ম কাকে বলে ?
উত্তর : আমাদের শরীরের চামড়া বা ত্বককে শরীরের বর্ম বলা হয় ।
৩ ) চামড়া বা ত্বককে শরীরের বর্ম বলে কেন ?
উত্তর : চামড়া আমাদের শরীরকে বাইরের আঘাত এবং সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে বাঁচায় । তাই একে শরীরের বর্ম বলে ।
৪ ) চামড়া বা ত্বকের নীচে কি কি আছে ?
উত্তর : শিরা , ধমনি ও মাংসপেশি ।
৫ ) ধমনি ও শিরা কেমন দেখতে ?
উত্তর : সরু নলের মতো ।
৬ ) কোন প্রাণীর চামড়া খুব মোটা হয় ?
উত্তর : গণ্ডারের চামড়া ।
৭ ) গণ্ডারের চামড়া দিয়ে আগেকার দিনে কি বানানো হত ?
উত্তর : যুদ্ধের পোশাক এবং ঢাল ।
৮ ) চামড়ার নীচে ফুলে থাকা অংশকে কি বলে ?
উত্তর : শিরা ।
৯ ) আমাদের শরীরে শিরা , ধমনি , মাংসপেশি না থাকলে কি হত ?
উত্তর : সামান্য আঘাতেই শরীর থেকে রক্ত পড়ত ।
১০ ) চামড়া দিয়ে কি কি জিনিস তৈরি হয় ?
উত্তর : ব্যাগ , বেল্ট , জুতো ইত্যাদি ।
১১ ) চামড়ার কাজ লেখ ।
উত্তর :
• চামড়া বা ত্বক আমাদের দেহকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে ।
• ত্বক সূর্যের আলোর ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মির হাত থেকে আমাদের বাঁচায় ।
• ত্বক রোগজীবাণুকে দেহের ভিতরে প্রবেশে বাধা দেয় ।
১২ ) চামড়ার ব্যবহার লেখ ।
উত্তর : পশুর চামড়া শুকিয়ে মানুষ সেখানে লিখত ।
• আগেকার দিনে যোদ্ধাদের বর্ম , ঢাল প্রভৃতি তৈরিতে চামড়া ব্যবহার হত ।
• এছাড়া বর্তমানে চামড়ার সাহায্যে পোশাক , জুতো , ব্যাগ , বেল্ট প্রভৃতি তৈরি হয় ।
১৩ ) বর্তমানে চামড়ার ব্যবহার কমানো হচ্ছে কেন ?
উত্তর :
• চামড়ার বেশি ব্যবহারে পরিবেশ দূষিত হয় ।
• চামড়া কারখানার নোংরা বর্জ্য পদার্থ জলাশয়ে পড়ে জলদূষণ ঘটে ।
• এছাড়া এইসব কারখানা থেকে হাওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়ায় , যার ফলে বায়ুদূষণ ঘটে ।
১৪ ) শরীরের কোন জায়গায় শিরাগুলিকে দেখা যায় ?
উত্তর : যে সকল জায়গায় চামড়া পাতলা হয় ।
১৫ ) আমাদের পায়ের তলার চামড়া কেমন হয় ?
উত্তর : মোটা বা পুরু ।
১৬ ) আমাদের শরীরের সব ভার ও চাপ কিসের উপর পড়ে ?
উত্তর : গোড়ালির উপর ।
১৭ ) হাতের কোন দিকটায় বেশি ঘষাঘষি হয় ?
উত্তর : হাতের চেটো বা তালুতে ।
১৮ ) হাতের চেটো বা তালুর দিকে শিরা দেখা যায় না কেন ?
উত্তর : হাতের চেটো বা তালুর চামড়া বেশি পুরু বা মোটা হয় ।
তাই সেখানে শিরা দেখা যায় না ।
১৯ ) চামড়া পুরু না পাতলা কিভাবে মাপা যায় ?
উত্তর : দুই আঙুল দিয়ে ধরে ।
২০ ) শরীরের যে দিকটা বেশি ঘষাঘষি হয় সেখানকার চামড়া কেমন হয় ?
উত্তর : পুরু বা মোটা ।
২১ ) আমাদের শরীরের চামড়া কোথাও পুরু আবার কোথাও পাতলা কেন ?
উত্তর : আমাদের শরীরের যে সকল অংশ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হওয়ার জন্য বেশি ঘষাঘষি করতে হয় , সেইসকল অংশের চামড়া পুরু বা মোটা হয় । যেমন- হাতের তালু বা চেটোর চামড়ায় কোনো কিছু ধরার জন্য এবং গোড়ালির চামড়া হাঁটাচলার জন্য বেশি ঘষাঘষি হয় । তাই এই সকল অংশের চামড়া পুরু হয় ।
২২ ) ত্বকের কয়টি স্তর থাকে ?
উত্তর : দুটি ।
২৩ ) ত্বকের ভিতরের স্তরে আঘাত লাগলে কি হবে ?
উত্তর : জ্বালা করবে ।
২৪ ) ত্বক পুড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কি করা উচিৎ ?
উত্তর : সেই স্থানে ঠাণ্ডা জল দেওয়া উচিৎ যাতে সেই স্থানের জ্বালা কমে যায় এবং চামড়ার ভিতরের স্তরের কোনো ক্ষতি না হয় ।
২৫ ) ত্বক বা চামড়া বেশি পুড়ে গেলে কোথায় নিয়ে যাওয়া উচিৎ ?
উত্তর : হাসপাতালে ।
২৬ ) মানুষের শরীরে কিভাবে ফোসকা পড়ে ?
উত্তর : চামড়া পুড়ে গেলে চামড়ার উপরের স্তরটি গরমে মরে যায় । তখন নিচের স্তর থেকে জল বেরিয়ে আসে । দুটি স্তরের মাঝে সেই জলীয় তরল জমা হয় । ফলে জায়গাটা ফুলে ওঠে এবং ফোসকা পড়ে ।
২৭ ) ফোসকা পড়লে ত্বকের উপরের স্তরে কি করতে হবে ?
উত্তর : বরফ লাগাতে হবে ।
২৮ ) ত্বক পুড়ে গিয়ে ফোসকা পড়লেও বেশি ক্ষতি হয় না কেন ?
উত্তর : কারণ এতে চামড়ার ভিতরের স্তর বেঁচে যায় ।
২৯ ) ত্বকের উপরের স্তরে কি থাকে না ?
উত্তর : রক্ত থাকে না ।
৩০ ) শরীরের চামড়া কখন বাড়ে ?
উত্তর : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর বাড়তে থাকলে শরীরের চামড়া বাড়ে ।
৩১ ) বয়স বাড়লে বা বৃদ্ধ হলে চামড়া কুঁচকে যায় কেন ?
উত্তর : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চামড়াও বাড়ে । কিন্তু বয়স যখন অনেক বেশি হয়ে যায় অর্থাৎ বৃদ্ধ হলে শরীর ছোট হতে শুরু করে । কিন্তু আগের বেড়ে যাওয়া চামড়া কমে না । তখন চামড়া কুঁচকে যায় ।
৩২ ) কোন বস্তুর উপস্থিতির জন্য চামড়ার রং কালো হয় ?
উত্তর : মেলানিন ।
৩৩ ) শরীরে মেলানিন তৈরি করতে সাহায্য করে কে ?
উত্তর : রোদ ।
৩৪ ) সূর্যরশ্মির প্রভাবে আমাদের ত্বকে কোন ভিটামিন তৈরি হয় ?
উত্তর : ভিটামিন D
৩৫ ) চামড়ায় মেলানিন থাকার সুবিধা কি ?
উত্তর : মেলানিন সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি শুষে নিয়ে ত্বকের ক্যানসার আটকায় ।
৩৬ ) সাহেবদের গায়ের রং খুব ফর্সা হয় কেন ?
উত্তর : সাহেবদের গায়ের চামড়ায় মেলানিন খুব কম থাকে । তাই তাদের গায়ের রং ফর্সা হয় ।
৩৭ ) কালো চামড়ার শরীর অনেক জায়গায় সাদা হয়ে যায় কেন ?
উত্তর : অপুষ্টি বা কোনো অসুখের কারণে শরীরে যে সকল জায়গায় মেলানিন তৈরি হয় না , সেই সকল জায়গা সাদা হয়ে যায় ।
৩৮ ) কোন চামড়া রোগের বিরুদ্ধে বেশি লড়াই করতে পারে ?
উত্তর : কালো চামড়া ।
৩৯ ) গায়ে রোদ লাগানো ভালো কেন ?
উত্তর : গায়ে রোদ লাগালে আমাদের চামড়ায় মেলানিন নামক রঞ্জক উৎপন্ন হয় যা সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে আমাদের ক্যানসারের হাত থেকে রক্ষা করে ।
গায়ে রোদ লাগালে ত্বকে ভিটামিন D উৎপন্ন হয় যা শিশুদের রিকেট রোগ প্রতিরোধ করে ।
৪০ ) শরীর থেকে কিভাবে নুন বেরিয়ে যায় ?
উত্তর : ঘামের মধ্যে দিয়ে ।
৪১ ) ঘামের মধ্যে কি থাকে ?
উত্তর : নুন এবং শরীরের কিছু বর্জ্য ।
৪২ ) কালো চামড়ার মানুষদের জন্য লড়াই করেছেন এমন দুজন মানুষের নাম লেখ ।
উত্তর : মহত্মা গান্ধি এবং নেলসন ম্যান্ডেলা ।
৪৩ ) অতিরিক্ত ঘাম হলে নুনজল খেতে বলা হয় কেন ?
উত্তর : ঘামের সঙ্গে আমাদের দেহ থেকে জল ও নুন বেরিয়ে যায় । ফলে শরীর দুর্বল হয়ে যায় , দেহের রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় ও মাথা ঘোরে । তাই অতিরিক্ত ঘাম হলে নুনজল খেতে বলা হয় ।
৪৪ ) আমাদের শরীর থেকে ঘাম বেরিয়ে যাওয়ার সুবিধা লেখ ।
উত্তর : ঘামে নুন এবং শরীরের কিছু বর্জ্য পদার্থ থাকে । ঘামের সঙ্গে সঙ্গে বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যাওয়ায় শরীর সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকে । এছাড়া ঘাম বেরোলে আমাদের দেহ ঠাণ্ডা ও শীতল হয় ।
৪৫ ) আমাদের শরীর থেকে ঘাম বেরিয়ে যাওয়ার অসুবিধা লেখ ।
উত্তর : অতিরিক্ত ঘাম হলে আমাদের শরীর থেকে জল এবং নুন বেরিয়ে যায় । ফলে মাথা ঘোরা , অজ্ঞান হয়ে যাওয়া , রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া প্রভৃতি ঘটনা ঘটতে পারে ।
৪৬ ) চুল , লোম , পালক প্রভৃতির গোড়াগুলি মাথার কোথায় আটকে থাকে ?
উত্তর : চামড়ার ভিতরের পর্দায় ।
৪৭ ) চামড়াকে প্রথম ধাক্কা থেকে বাঁচায় কারা ?
উত্তর : চামড়ার উপর অবস্থিত লোম , চুল , পালক , আঁশ প্রভৃতি ।
৪৮ ) গায়ে প্রচুর লোম আছে এমন কয়েকটি প্রাণীর নাম লেখ ।
উত্তর : গোরু , ছাগল , ভেড়া প্রভৃতি ।
৪৯ ) দুটি প্রাণীর নাম লেখ যাদের দেহ আঁশ দিয়ে ঢাকা থাকে ?
উত্তর : মাছ , সাপ ।
৫০ ) মানুষের বয়স বাড়লে চুলের রং সাদা হয়ে যায় কেন?
উত্তর: মেলানিন নামক বস্তু থাকার জন্য চুলের রং কালো হয়। বয়স বাড়লে এই মেলানিন তৈরি কমে যায়। তাই বয়স বাড়লে চুলের রং সাদা হয়ে যায়।
৫১ ) চুল, পালক, লোম প্রভৃতি প্রতিদিন উঠলেও শেষ হয়ে যায় না কেন?
উত্তর: প্রতিদিন চুল, পালক, লোম প্রভৃতি উঠলেও তা একেবারে শেষ হয়ে যায় না। কারণ চামড়া আবার তা তৈরি করে নেয়।
৫২ ) কোন প্রাণীর গায়ে শক্ত খাড়া লোম থাকে?
উত্তর: শজারুর গায়ে।
৫৩ ) শজারুর লোম কেমন হয়?
উত্তর: শজারুর লোম হয় কাঁটার মতো এবং শক্ত, খাড়া ও সুঁচালো।
৫৪ ) গণ্ডারের খড়গ আসলে কি? এটি কোথায় থাকে?
উত্তর: অনেকগুলি চুল জমাট বেঁধে শক্ত হয়ে খড়গ তৈরি হয়েছে। এটি থাকে গণ্ডারের নাকের উপরে।
৫৫ ) কাকাতুয়ার মাথায় কি থাকে?
উত্তর: ঝুঁটি থাকে।
৫৬ ) কাকাতুয়ার ঝুঁটি আসলে কি?
উত্তর: কাকাতুয়ার ঝুঁটি হল জমাট বাধা পালকের রূপান্তর।
৫৭ ) মানুষ ছাড়া আর কোন প্রাণীর দাঁড়ি, গোঁফ হয়?
উত্তর: ছাগলের দাঁড়ি ও বিড়ালের গোঁফ হয়।
৫৮ ) উড়তে পারলেও পাখি নয় এমন একটি প্রাণীর নাম লেখ।
উত্তর: বাদুড়।
৫৯ ) কোন স্তন্যপায়ী প্রাণী উড়তে পারে?
উত্তর: বাদুড়।
৬০ ) আমাদের আঙুলকে সব ধরণের আঘাত থেকে রক্ষা করে কে?
উত্তর: নখ।
৬১ ) নখের রং গোলাপি হয় কেন?
উত্তর: কারণ নখের নীচে রক্ত থাকে।
৬২ ) ডাক্তাররা রোগীর নখ দেখেন কেন?
উত্তর: নখের নীচে রক্ত থাকে। তাই ডাক্তাররা রোগীর নখ দেখে বুঝতে পারেন যে রোগী রক্তাল্পতা রোগে আক্রান্ত হয়েছে কিনা।
৬৩ ) রক্তাল্পতা হলে নখে কি কি হয়?
উত্তর: নখ ফেটে যায়, নখের মাঝখানটা চামচের মতো উঁচু এবং ফ্যাকাসে হয়ে যায়।
৬৪ ) নখে ময়লা জমলে কি হয়?
উত্তর: নখের গোড়া পেকে যায় এবং পুঁজ হয়। এছাড়া সেখানে জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে।
৬৫ ) নতুন নখ গজাতে কত সময় লাগে?
উত্তর: প্রায় দুই মাস।
৬৬ ) নখ কাটলে কষ্ট হয় না কেন?
উত্তর: নখের যে অংশ চামড়ার সঙ্গে লেগে থাকে না তা কাটলে কোনো ব্যাথা বোঝা যায় না। কারণ এর নীচে কোনো শিরা থাকে না। নখ আসলে মরা কোশ।
৬৭ ) নখ দিয়ে কি কি কাজ করা যায়?
উত্তর:
* নখ ছোট জিনিস ধরতে বা মাটি দিয়ে কোনো কিছু খুঁটে তুলতে সাহায্য করে।
* পায়ে কাঁটা ফুটলে নখ দিয়ে তা সহজেই তুলে ফেলা যায়।
* এছাড়া নখ বাইরের আঘাত থেকে আঙুলকে রক্ষা করে।
৬৮ ) বিড়ালের নখ দেখা যায় না কেন?
উত্তর: বিড়ালের নখগুলি থাবার নীচে লুকানো থাকে। তাই দেখা যায় না।
৬৯ ) বিড়ালের নখ কখন দেখা যায়?
উত্তর: বিড়াল যখন কিছু ধরে বা শিকার করে তখন এদের নখগুলি বাইরে বেরিয়ে আসে ও দেখা যায়।
৭০ ) কুকুরের নখ কেমন হয়?
উত্তর: কুকুরের নখ ধারালো হয়। কিন্তু সেটি থাবার মধ্যে লুকানো থাকে।
৭১ ) ধারালো নখ আছে এমন কয়েকটি প্রাণীর নাম লেখ।
উত্তর: কুকুর, বিড়াল, বাঘ, সিংহ প্রভৃতি।
৭২ ) গোরু ছাগলের নখ আসলে কি?
উত্তর: গোরু ছাগলের খুরই হল ওদের নখ।
৭৩ ) শিকারি পাখিদের নখ কেমন হয়?
উত্তর: শিকারি পাখিদের নখ হুকের মতো বাঁকানো এবং ছুঁচালো। কারণ এরা নখ দিয়ে নানা জিনিস ধরে উড়ে যায়। যেমন- প্যাঁচা, ঈগল প্রভৃতি।
৭৪ ) পশুপাখিদের নখ বেশি বাড়ে না কেন?
উত্তর: পশুপাখিরা নখ কাটে না। মাটিতে ঘষে। তাই এদের নখ বাড়তে পারে না।
৭৫ ) বেশিরভাগ পাখির নখই ধারালো ও শক্ত হয় কেন?
উত্তর: বেশিরভাগ পাখি নখ দিয়ে নানা জিনিস ধরে বা শিকার করে। এরপর সেগুলি নখে করে নিয়ে উড়ে যায়। এই কারণে বেশিরভাগ পাখির নখ ধারালো ও শক্ত হয়।
৭৬ ) নখ নেই এমন দুটি প্রাণীর নাম লেখ।
উত্তর: মাছ, সাপ প্রভৃতি।
৭৭ ) ত্বক, চুল, নখ প্রভৃতি কিভাবে যত্ন করতে হয়?
উত্তর: নিয়মিত সাবান, শ্যাম্পু ও জল দিয়ে ত্বক, চুল, নখ পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া চুলে তেল ও ত্বকে ক্রিম লাগাতে হবে।
৭৮ ) ত্বক, চুল, নখ প্রভৃতির যত্ন না নিলে কি হবে?
উত্তর: নখে নখকুনি হয়, চামড়ায় ফুসকুড়ি, চুলকানি এবং চুলে খুসকি ও উকুন হতে পারে।
৭৯ ) কোনো জীবের দেহে কয়টি হাড় আছে তা কিভাবে জানা যায়?
উত্তর: জীবের কঙ্কাল দেখে জানা যায়।
৮০) মানুষের কনুই থেকে কাঁধ পর্যন্ত হাড়টি দেখতে কেমন?
উত্তর: গোল নলের মতো।
৮১ ) কবজি থেকে কনুই পর্যন্ত কয়টি হাড় থাকে?
উত্তর: দুইটি।
৮২ ) হাতের আঙুলে কয়টি হাড় থাকে বা ভাঁজ থাকে?
উত্তর: বুড়ো আঙুলে দুটি এবং অন্যান্য আঙুলে চারটি হাড়।
৮৩ ) মানুষের দেহের সবচেয়ে ছোট এবং সবচেয়ে বড় হাড় কোনটি?
উত্তর:
* সবচেয়ে ছোট- স্টেপিস (কানের হাড়)।
* সবচেয়ে বড়- ফিমার (কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত)।
৮৪ ) অস্থিসন্ধি কাকে বলে?
উত্তর: হাড় হল অস্থি এবং জোড় ইল সন্ধি। অর্থাৎ মানুষের দেহের দুই বা তার বেশি হাড়ের জোড় বা মিলনস্থলকে অস্থিসন্ধি বলে।
৮৫ ) অস্থিসন্ধি না থাকলে আমাদের কি অসুবিধা হত?
উত্তর: হাত পা ঘুরিয়ে কাজ করতে অসুবিধা হত।
৮৬ ) মানুষের শরীরের সমস্ত হাড়কে একত্রে কি বলা হয়?
উত্তর: নরকঙ্কাল।
৮৭ ) কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত হাড়টির নাম কি?
উত্তর: হিউমেরাস।
৮৮ ) কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত হাড় দুটির নাম কি?
উত্তর : বুড়ো আঙুলের দিকের হাড়টি আলনা এবং কড়ে আঙুলের দিকের হাড়টি রেডিয়াস।
৮৯ ) কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত হাড় কি নামে পরিচিত?
উত্তর: ফিমার।
৯০ ) হাঁটুর নীচ থেকে গোড়ালি পর্যন্ত হাড় দুটির নাম কি?
উত্তর: টিবিয়া ও ফিবুলা।
৯১ ) মেরুদণ্ডের হাড়কে কি বলে?
উত্তর: ভার্টিব্রা বা কশেরুকা।
৯২ ) লিগামেন্ট কাকে বলে?
উত্তর: হাড়গুলি অস্থিসন্ধিতে একপ্রকার দড়ির মতো জিনিস দিয়ে লাগানো থাকে। একে বলে লিগামেন্ট।
৯৩ ) মানুষের দেহের সবচেয়ে শক্ত হাড় কোনটি?
উত্তর: চোয়ালের হাড়।
৯৪ ) সাইনোভিয়াল তরল কি?
উত্তর: সচল অস্থিসন্ধির মাঝে একপ্রকার হড়হড়ে তরল থাকে। এই তরল কমে গেলে হাড়ের নড়াচড়া করতে অসুবিধা হয়। একেই সাইনোভিয়াল তরল বলে।
৯৫ ) কি করলে অস্থিসন্ধিগুলি নমনীয় থাকে?
উত্তর: জিমনাস্টিক করলে।
৯৬ ) অস্থি মজবুত রাখার জন্য আমাদের কি প্রয়োজন? এটি কিভাবে পাওয়া যেতে পারে?
উত্তর: ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। এটি ডিম ও দুধ থেকে পাওয়া যেতে পারে।
৯৭ ) হাড় ভালো রাখা যায় কিভাবে?
উত্তর:
* হাড় ভালো রাখতে গেলে ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার যেমন- দুধ, ডিম প্রভৃতি খেতে হবে।
* জিমনাস্টিক করলে অস্থিসন্ধি নমনীয় থাকে।
* নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করলেও হাড় মজবুত থাকে।
৯৮) পেশি কাকে বলে?
উত্তর: হাড়ের উপর এবং চামড়ার নিচে যে মাংসল পদার্থ থাকে, তাকে পেশি বলে।
৯৯) জিভের পেশি কি কি কাজ করে?
উত্তর: জিভের পেশি স্বাদ গ্রহণ করতে এবং কথা বলতে সাহায্য করে। এছাড়া মুখের ভিতর চিবানোর সময় খাবারকে ওলটপালট করতে ও গিলতে সাহায্য করে।
১০০ ) আমাদের দেহের দুটি অঙ্গের নাম লেখ যেখানে কোনো হাড় নেই, পুরোটাই পেশি।
উত্তর: চোখ এবং জিভ।
১০১ ) চোখের পেশি কি কাজ করে?
উত্তর: চোখের পেশি আমাদের কোনো কিছু দেখতে ও পড়তে সাহায্য করে।
১০২ ) হাতের পেশি কোন কোন কাজে সাহায্য করে?
উত্তর: কোনো কিছু ধরতে, লিখতে বা কোনো জিনিসকে টেনে তুলতে সাহায্য করে।
১০৩ ) হাতের দুটি পেশির নাম লেখ।
উত্তর: বাইসেপস্ এবং ট্রাইসেপস্।
১০৪ ) পাখিদের কোন পেশি খুব শক্ত হয়?
উত্তর: ডানার পেশি।
১০৫ ) দুটি প্রাণীর নাম লেখ যাদের মুখের পেশির খুব জোর।
উত্তর: বাঘ ও সিংহ।
১০৬ ) কোন প্রাণীর দেহের বেশিরভাগটাই পেশি?
উত্তর: কেঁচো।
১০৭ ) আমাদের শরীরের কোন অঙ্গের পেশি কোনো কাজ করে না?
উত্তর: কানের লতির পেশি।
১০৮ ) কি করলে হাতের পেশি লম্বায় বাড়ে?
উত্তর: মাঝে মাঝে হাত টানটান করে ছেড়ে দিতে হবে এবং নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। তাহলেই হাতের পেশি লম্বায় বাড়বে।
১০৯ ) কি করলে পেশি জোরালো ও মজবুত হবে?
উত্তর:
* মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, সয়াবিন প্রভৃতি প্রোটিন জাতীয় খাদ্য ও ফলমূল গ্রহণ করলে পেশি শক্ত ও মজবুত হবে।
* নিয়মিত ব্যায়াম করলে এবং মাঝে মাঝে হাত পা টানটান করে ছেড়ে দিলেও পেশি লম্বায় বাড়ে ও মজবুত হয়।
১১০ ) স্টেথোস্কোপের যে দিকটা বুকে ঠেকায় সেটি কেমন দেখতে?
উত্তর: ফানেলের মতো।
১১১ ) ডাক্তারবাবুরা বুকে স্টেথোস্কোপ দিয়ে কি করেন?
উত্তর: বুকের মধ্যে হৃৎপিণ্ডের শব্দ শোনেন।
১১২ ) হৃৎপিণ্ডের ধুকপুক শব্দ কখন বেড়ে যায়?
উত্তর: কোনো পরিশ্রমের সময় বা কোথাও খুব জোরে দৌড়ে গেলে বা দৌড়ে এলে।
১১৩ ) কোন অঙ্গের সাহায্যে রক্ত আমাদের সারা দেহে ছড়িয়ে যায়?
উত্তর: হৃৎপিণ্ডের সাহায্যে।
১১৪ ) কিসের মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে প্রবাহিত হয়?
উত্তর: ধমনির সাহায্যে।
১১৫ ) হৃৎপিণ্ড কি?
উত্তর: যে অঙ্গ পাম্প করে ধমনির সাহায্যে সারা শরীরে রক্ত পাঠায়, তাকে হৃৎপিণ্ড বলে। অর্থাৎ হৃৎপিণ্ড হল আমাদের শরীরের একটি পাম্প মেশিন।
১১৬ ) সারা শরীরে রক্ত যাওয়া প্রয়োজন কেন?
উত্তর:
* রক্ত সারা শরীরে অক্সিজেন এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে দেয়।
* বিভিন্ন কলাকোশ থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং অন্যান্য দূষিত পদার্থ রক্তের মাধ্যমে অপসারিত হয়েই নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছায়।
১১৭ ) বাতাসে ছড়িয়ে থাকা জীবাণুগুলির মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকারক জীবাণু কোনটি?
উত্তর: যক্ষ্মা রোগের জীবাণু।
১১৮ ) যক্ষ্মা রোগের জীবাণু কিভাবে বাতাসে ছড়ায়?
উত্তর:
* রোগাক্রান্ত ব্যক্তির থুতু, হাঁচি, কাশি প্রভৃতি থেকে এই রোগের জীবাণু বাতাসে ছড়ায়।
* এমনকি মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কথা বললেও যক্ষ্মা রোগের জীবাণু বাতাসে ছড়ায়।
১১৯ ) বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যক্ষ্মা রোগ কোথায় হয় এবং কেন?
উত্তর: বাতাসে যক্ষ্মা রোগের জীবাণু ভেসে বেড়ায়। ফুসফুস দিয়ে আমরা শ্বাস গ্রহণ করি ও ত্যাগ করি। তাই ফুসফুসেই এই রোগ বেশি হয়।
১২০ ) কত বছর আগে যক্ষ্মা রোগের জীবাণু আবিস্কার হয়?
উত্তর: আজ থেকে প্রায় ১৩০ বছর আগে।
১২১ ) যক্ষ্মা রোগের জীবাণুর নাম কি?
উত্তর: মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস।
১২২ ) যক্ষ্মা রোগের একমাত্র চিকিৎসা কি?
উত্তর: DOT চিকিৎসা।
১২৩ ) কত বছর আগেও যক্ষ্মা রোগের কোনো ভালো চিকিৎসা ছিল না?
উত্তর: আজ থেকে প্রায় ৬০-৭০ বছর আগেও।
১২৪ ) যক্ষ্মা রোগ সারতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তর: প্রায় বছরখানেক হাসপাতালে গিয়ে DOT চিকিৎসা করালে যক্ষ্মা রোগ পুরোপুরি সেরে যায়।
১২৫ ) DOT এর পুরো কথা কি?
উত্তর: Directly Observed Treatment
১২৬ ) যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ বা উপসর্গগুলি লেখ।
উত্তর:
* প্রথম প্রথম বিকেলের দিকে জ্বর এবং রাতের দিকে ঘাম ও শ্বাসকষ্ট দেখা যায়।
* সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর টানা কফ উঠতে থাকে।
* খাওয়ায় অরুচি, ওজন কমে যাওয়া, বুকে ব্যাথা প্রভৃতি হয়।
* এছাড়া অসুখ বাড়লে কাশির সঙ্গে কাঁচা রক্তও ওঠে।
১২৭ ) অনেক বছর আগে যক্ষ্মা রোগের জীবাণু আবিস্কার হওয়া সত্ত্বেও অনেক পরে এর ভালো চিকিৎসা শুরু হল কেন?
উত্তর: যক্ষ্মা রোগের জীবাণু কি ওষুধে মারা যাবে তা জানতে বহুদিন ধরে অনেক পরীক্ষা ও গবেষণা করতে হয়েছে। তাই ১৩০ বছর আগে জীবাণু আবিস্কারের পরেও প্রায় ষাট সত্তর বছর লেগে গেছে এই রোগের ভালো চিকিৎসা শুরু হতে।
১২৮ ) কয়েকটি রোগের নাম লেখ যাদের জীবাণু বাতাসে ওড়ে?
উত্তর: যক্ষ্মা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, সাধারণ সর্দিকাশি প্রভৃতি।
১২৯ ) হাঁচি কাশির সময় মুখে রুমাল চাপা দিতে হয় কেন?
উত্তর: হাঁচি কাশির সময় মুখে রুমাল চাপা দিতে হয়। নাহলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের জীবাণুগুলি বাতাসে ছড়িয়ে পড়বে ও সুস্থ মানুষের দেহে রোগ সৃষ্টি করবে।
১৩০ ) দুটি জলবাহিত এবং দুটি বায়ুবাহিত রোগের নাম লেখ।
উত্তর:
* জলবাহিত- কলেরা, টাইফয়েড, ডায়রিয়া, জন্ডিস প্রভৃতি।
* বায়ুবাহিত- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রভৃতি।
১৩১ ) যক্ষ্মা রোগের বিরুদ্ধে দেহে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কোন টিকা দেওয়া হয়?
উত্তর: বিসিজি টিকা।
১৩২ ) বিসিজি এর পুরো কথা লেখ।
উত্তর: Bacillus Calmette Geurin
১৩৩ ) মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় কেন?
উত্তর: ভালো করে না খেলে, প্রচুর পরিশ্রম করলে এবং ধুলো ও ধোঁয়া ভরা জায়গায় বসবাস করলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
১৩৪ ) কলেরা রোগের লক্ষণ লেখ।
উত্তর: কলেরা রোগ হলে চালধোয়া জলের মতো এবং আঁশটে গন্ধযুক্ত পায়খানা হয় এবং প্রচুর বমি হয়।
১৩৫ ) কলেরা হলে অথবা খুব বেশি পায়খানা বমি হলে কোথায় নিয়ে যাওয়া উচিৎ?
উত্তর: হাসপাতালে।
১৩৬ ) কি কারণে পায়খানা বমি হয়?
উত্তর: দূষিত জল পান করলে অথবা কলেরা রোগে ওষুধ সময়মতো না পড়লে পায়খানা বমি হয়।
১৩৭ ) ORS কি?
উত্তর: মানবদেহে জলের পরিমাণ কমে গেলে ORS সেই জলের ঘাটতি পূরণ করে মানুষকে সুস্থ করে তোলে।
১৩৮ ) সাধারণত কোন কোন রোগে ORS খেতে বলা হয়?
উত্তর: ডায়রিয়া, কলেরা প্রভৃতি রোগে।
১৩৯ ) ORS এর পুরো কথা কি?
উত্তর: ওরাল রি-হাইড্রেশন সলিউশন।
১৪০ ) ORS কিভাবে তৈরি করা যায়?
উত্তর: এক গ্লাস জল কুড়ি মিনিট ফুটিয়ে তাকে ঠাণ্ডা করতে হবে। এরপর ওই জলে এক চামচ চিনি এবং এক চিমটে নুন ভালো করে গুলে দিলেই ORS তৈরি হয়ে যাবে।
১৪১ ) কে কত বছর আগে স্টেথোস্কোপ আবিষ্কার করেন?
উত্তর: বিজ্ঞানী রেনে লিনেক আজ থেকে ২০০ বছর আগে।
১৪২ ) স্টেথোস্কোপের সাহায্যে কি হয়?
উত্তর: হৃৎপিণ্ডের ধুকপুক শব্দ শোনা যায়।
১৪৩) রেনে লিনেক সবসময় কি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতেন?
উত্তর: ফুসফুস নিয়ে।
১৪৪) আদি একনলা স্টেথোস্কোপ কি দিয়ে তৈরি হয়েছিল?
উত্তর: কাঠ দিয়ে।
১৪৫) রেনে লিনেক প্রথম কাকে দিয়ে কাঠের স্টেথোস্কোপ বানিয়েছিলেন?
উত্তর: ছুতোরকে দিয়ে।
১৪৬) রেনে লিনেক কিভাবে প্রথম স্টেথোস্কোপ বানিয়েছিলেন?
উত্তর: বিজ্ঞানী রেনে লিনেক একটুকরো লম্বা মোটা কাগজ গোল করে পেঁচিয়ে সরু একটা নল বানালেন এবং আঠা দিয়ে তা ভালো করে জুড়ে তৈরি করলেন স্টেথোস্কোপ।
১৪৭) লিনেক এর তৈরি কাগজ এর স্টেথোস্কোপ এর সমস্যা কি ছিল?
উত্তর:
* কাগজের নলের ভিতর দিয়ে বুকের ধুকপুক আওয়াজ পুরো ভালো করে শোনা যায় না।
* কাগজের নল সহজে নষ্ট হয়ে যায়।
১৪৮ ) সবচেয়ে নীচের স্তরে কি প্রকার মাটি জমা হয় ?
উত্তর : ভারী ও মোটা দানার মাটি ।
১৪৯ ) মিহি দানার মাটি কোথায় জমা হয় ?
উত্তর : মাটির একেবারে উপরের স্তরে ।
১৫০ ) একটি গ্লাসের মধ্যে জল নিয়ে মাটি গুলে দিলে কি দেখা
যাবে ?
উত্তর : মাটির ভিতরের কণাগুলি স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়েছে ।
১৫১ ) মাটির তলার মাটি কেমন তা জানার তিনটি উপায় লেখো ।
উত্তর : মাটির তলার মাটি কেমন তা জানা যায় টিউবওয়েল বসানোর সময় , কুয়ো খনন করার সময় এবং পুকুর কাটার সময় ।
১৫২ ) মাটির দলা জলে ফেললে সেখান থেকে কি উঠতে থাকে ?
উত্তর : বুজবুজ উঠতে থাকে ।
১৫৩ ) জলে ভেসে থাকা জিনিস কি দিয়ে ভালোভাবে দেখা যেতে
পারে ?
উত্তর : আতসকাচ দিয়ে ।
১৫৪ ) আতসকাচকে ইংরেজিতে কি বলে ?
উত্তর : লেন্স ।
১৫৫ ) জলে গোলা হলে মাটিতে থাকা কি প্রকার জিনিস উপরে
ভেসে থাকে ও কি প্রকার জিনিস নীচে পড়ে যায় ?
উত্তর : হালকা জিনিস উপরে ভেসে থাকে এবং ভারী জিনিস নীচে থিতিয়ে পড়ে ।
১৫৬ ) মাটির সবচেয়ে মিহি কণাকে কি বলে ? এই কণার ফাঁকে
কি থাকে ?
উত্তর : মাটির সবচেয়ে মিহি কণাকে কাদার কণা বলে । এই কণার ফাঁকে ফাঁকে একটু জল আর বাতাস থাকে ।
১৫৭ ) প্রথম সিমেন্ট তৈরি হয়েছিল কত বছর আগে ?
উত্তর : প্রায় দুশো বছর আগে ।
১৫৮ ) এদেশে প্রথম সিমেন্ট তৈরি শুরু হয় কত বছর আগে ?
উত্তর : প্রায় ১২০ বছর আগে ।
১৫৯ ) মাটি কয়প্রকার ও কি কি ?
উত্তর : তিন প্রকার । এঁটেল মাটি , বেলে মাটি এবং দোঁয়াশ মাটি ।
১৬০ ) এঁটেল মাটি কাকে বলে ?
উত্তর : যে মাটিতে কাদার ভাগ সবচেয়ে বেশি থাকে এবং কাদার কণাগুলি গায়ে গায়ে লেগে সিমেন্টের মতো শক্ত হয়ে যায় , তাকে এঁটেল মাটি বলে ।
১৬১ ) বেলে মাটি কাকে বলে ?
উত্তর : যে মাটিতে কাদার ভাগ কম এবং বালির ভাগ বেশি থাকে এবং জলধারণ ক্ষমতা খুব কম হয় , তাকে বেলে মাটি বলে ।
১৬২ ) দোআঁশ মাটি কাকে বলে ?
উত্তর : যে মাটিতে বালি এবং কাদার ভাগ প্রায় সমান সমান থাকে এবং কিছু পরিমাণ জৈব পদার্থ মিশে থাকে , তাকে দোআঁশ মাটি বলে ।
১৬৩ ) এঁটেল মাটির বৈশিষ্ট্য লেখো ।
উত্তর :
• এই মাটিতে কাদার পরিমাণ বেশি থাকে ।
• এই মাটির জলধারণ ক্ষমতা বেশি ।
• এই মাটির কণাগুলি খুব সূক্ষ্ম এবং ঘনসন্নিবিষ্ট ।
• এই মাটিতে জল দিলে তা আঠালো এবং কর্দমাক্ত হয় , কিন্তু জল শুকিয়ে গেলে সিমেন্টের মতো শক্ত হয়ে যায় ।
১৬৪ ) বেলে মাটির বৈশিষ্ট্য লেখো ।
উত্তর :
• এই মাটিতে বালির পরিমাণ খুব বেশি থাকে ।
• এই মাটির জলধারণ ক্ষমতা খুব কম ।
• এই মাটির বড় বড় বালিকণার ফাঁক দিয়ে জল সহজেই অনেক নীচে চলে যেতে পারে ।
১৬৫ ) দোআঁশ মাটির বৈশিষ্ট্য লেখো ।
উত্তর :
• এই মাটিতে বালি এবং কাদার ভাগ প্রায় সমান সমান থাকে ।
• এই মাটির জলধারণ ক্ষমতা মাঝারি ।
• এই মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ খুব বেশি থাকে ।
• এই মাটিতে চাষবাস খুব ভালো হয় ।
১৬৬ ) মাটির জৈব এবং অস্বাভাবিক উপাদানগুলির নাম লেখ ।
উত্তর :
• জৈব উপাদান- গোবর , মাছের কাঁটা , পচাপাতার কুচি ইত্যাদি ।
• অস্বাভাবিক উপাদান- পেনসিলের শিস , পলিথিনের টুকরো , অ্যালুমিনিয়ামের কুচি ইত্যাদি ।
১৬৭ ) সিমেন্ট তৈরি হওয়ার আগে কীভাবে ইট গাঁথা হত ?
উত্তর : এঁটেল মাটি দিয়ে ইট গাঁথা হত । কারণ এই মাটিকে গুঁড়ো করে জল দিলে তা সিমেন্টের মতো আঠালো এবং শক্ত হয়ে যেত ।
১৬৮ ) এমন একটি জিনিসের নাম লেখ যার ভিতর দিয়ে জল গলে যাবে কিন্তু মাটির কণা গলে না ?
উত্তর : ফিলটার কাগজ ।
১৬৯ ) জলে মাটি গুলে দিলে কোন মাটি থেকে তাড়াতাড়ি ও বেশি পরিমাণে জল বেরিয়ে যেতে পারে ?
উত্তর : বেলে মাটি থেকে ।
১৭০ ) কোন মাটি ভিজতে বেশি সময় লাগে ?
উত্তর : এঁটেল মাটি ।
১৭১ ) মাটির সজীব জৈব উপাদান কাকে বলে ?
উত্তর : মাটিতে বসবাসকারী যে সকল জীব বিভিন্ন জটিল জৈব যৌগকে ভেঙে সরল পদার্থ উৎপাদনে সাহায্য করে এবং মাটিকে উর্বর করে তোলে , তাদের মাটির সজীব জৈব উপাদান বলে ।
১৭২ ) মাটির সজীব জৈব উপাদানগুলি কি কি ?
উত্তর : কেঁচো , ব্যাকটেরিয়া , বিভিন্ন ছোট ছোট কীটপতঙ্গ প্রভৃতি ।
১৭৩ ) মাটির কোন জৈব উপাদান কৃষকের বন্ধু ?
উত্তর : কেঁচো ।
১৭৪ ) কেঁচো ও জীবাণুরা মাটিকে কীভাবে উর্বর হতে সাহায্য করে ?
উত্তর : কেঁচো ও জীবাণুরা মাটির মৃত জৈব উপাদানকে ভাঙতে সাহায্য করে । ফলে মাটি উর্বর হয় ।
১৭৫ ) মাটিতে কি প্রকার সার দিলে মাটি উর্বর হয় ?
উত্তর : জৈব সার ।
১৭৬ ) কয়েকটি জৈব এবং কয়েকটি রাসায়নিক সারের নাম লেখ ।
উত্তর :
• জৈব সার- কম্পোস্ট সার , গোবর সার ।
রাসায়নিক সার- নাইট্রোজেন সার , ফসফেট সার , ইত্যাদি ।
১৭৭ ) সারের থেকে কোন কোন উপাদান গাছ বেছে নেয় ?
উত্তর : নাইট্রোজেন , ফসফরাস , পটাশিয়াম প্রভৃতি ।
১৭৮ ) মাটির ক্ষতিকর উপাদান বা মাটির শত্রু কাদের বলা হয় ?
উত্তর : পলিথিন , প্লাস্টিক প্রভৃতিকে ।
১৭৯ ) গাছের শিকড় মাটিতে ঢুকতে না পারলে কি হয় ?
উত্তর : ঝড়ে গাছ উল্টে যায় ।
১৮০ ) পলিথিন , প্লাস্টিক কীভাবে মাটি ও গাছের ক্ষতি করে ?
উত্তর : পলিথিন , প্লাস্টিক প্রভৃতি কয়েকশো বছরেও ভাঙে না । মাটিতে এইসব জিনিস জমলে এরা মাটিকে আলো ও হাওয়া পেতে দেয় না । এমনকি গাছের শিকড় মাটিতে ঢোকার সময় বাধা সৃষ্টি করে । আর এই শিকড় মাটিতে ঢুকতে না পারলে ঝড়ের সময় গাছ উল্টে যাবে এবং মাটি অধিক পরিমাণে ক্ষয় হবে ।
১৮১ ) মাটির উর্বরতা বাড়ানোর কয়েকটি উপায় লেখো ।
উত্তর :
• মাটিতে প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্নপ্রকার জৈব ও অজৈব সার মেশাতে হবে ।
• মাটিতে সজীব উপাদানের সংখ্যা বাড়াতে হবে ।
• একই জমিতে একই ফসল বারবার চাষ না করে ভিন্ন ভিন্ন ফসলের চাষ করতে হবে ।
১৮২ ) কোন মাটি ধান চাষের জন্য উপযোগী ?
উত্তর : যে মাটিতে জল দাঁড়াতে পারে এবং মাটি সহজেই কাদা
হয়ে যায় , সেই মাটি ধান চাষের পক্ষে উপযোগী ।
১৮৩ ) বীজতলা কাকে বলে ?
উত্তর : ধান চাষের জন্য প্রথমে জমির মধ্যে ছোট জায়গায় কাদা করে ঘনভাবে ধান ছড়াতে হয় । একেই বীজতলা বলে ।
১৮৪ ) কোন ধান চাষের জন্য বীজতলা দরকার হয় না ?
উত্তর : আউশ ধান চাষের জন্য ।
১৮৫ ) কোন ধান রোয়ার জন্য জমিতে একটু জল দাঁড়ানো প্রয়োজন ?
উত্তর : আমন ধান ।
১৮৬ ) বীজধান কাকে বলে ?
উত্তর : বীজতলা ঘন হয়ে যখন ছোট ছোট চারাগাছ বের হয় , তখন সেই গাছগুলিকে বীজধান বলে ।
১৮৭ ) বীজধান কীভাবে বসানো হয় ?
উত্তর : বীজধান এক বিঘত অন্তর সারি দিয়ে বসানো হয় ।
১৮৮ ) বীজধান কত বড় হলে সেগুলি তুলে বসাতে হয় ?
উত্তর : হাতখানেক অর্থাৎ এক হাতের সমান হলে ।
১৮৯ ) রোয়া কাকে বলে ?
উত্তর : সারিবদ্ধভাবে কাদা জমিতে বীজধান বসানোকেই রোয়া বলে ।
১৯০ ) ধান রোয়ার আগে মাটি কি করতে হয় ?
উত্তর : মাটি কাদা করতে হয় ।
১৯১ ) পাহাড়ে চা এবং বিভিন্ন শাকসবজি তৈরি করতে কতটা গভীর মাটি লাগে ?
উত্তর : প্রায় এক - দেড় বিঘত গভীর ।
১৯২ ) পাহাড়ের গায়ে কীভাবে চাষ করা হয় ?
উত্তর : পাহাড়ের ঢালে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে ছোট ছোট জমি তৈরি করে সেখানে বৃষ্টির জল আটকে চাষ করা হয় ।
১৯৩ ) পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি চা কোথায় চাষ হয় ?
উত্তর : দার্জিলিং জেলায় ।
১৯৪ ) মে - জুন মাসে দার্জিলিং - এ কি চাষ হয় ?
উত্তর : কপি ।
১৯৫ ) পাহাড়ের ঢালে জমি কেমন হয় ?
উত্তর : অনেকটা সিঁড়ির মতো ।
১৯৬ ) ধাপ চাষ কাকে বলে ?
উত্তর : পাহাড়ের ঢালে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে জমি তৈরি করে শস্য চাষ করাকে ধাপ চাষ বলে ।
১৯৭ ) মাটি তৈরিতে কারা সাহায্য করে ?
উত্তর : লাইকেন , মস , ফার্ন প্রভৃতি উদ্ভিদ ।
১৯৮ ) ধান বা শাকসবজি চাষে কতটা গভীর মাটি লাগে ?
উত্তর : এক - দেড় ফুট গভীর গর্ত লাগে ।
১৯৯ ) পাহাড়ে পাথর কীভাবে গুঁড়ো হয় ?
উত্তর : পাহাড়ে পাথর গুঁড়ো হয় ভূমিকম্প , সূর্যের তাপ এবং প্রবল বৃষ্টিতে ।
২০০ ) মাটি কীভাবে তৈরি হয় ?
উত্তর : ভূমিকম্প , সূর্যের তাপ , বায়ুপ্রবাহ , বৃষ্টিপাত প্রভৃতির ফলে পাথর চূর্ণ বিচূর্ণ হয় । এই সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম পাথরের গুঁড়োর সঙ্গে লাইকেন , মস , ফার্ণ প্রভৃতি উদ্ভিদের দেহ মিশে নরম মাটি তৈরি করে ।
২০১ ) পাহাড়ের রাস্তা কেমন হয় ?
উত্তর : খাড়া হয় ।
২০২ ) ধস নামা আসলে কি ?
উত্তর : পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিক্ষয়ের ফলে মাটি ও পাথর খসে পড়া ।
২০৩ ) কি কি কারণে পাহাড়ে ধস নামে ?
উত্তর : ভূমিকম্প হলে বা প্রবল বৃষ্টিপাতে মাটি গলে গেলে পাহাড়ে ধস নামে ।
২০৪ ) কি কি থাকলে ধস কম হয় ?
উত্তর : বড় গাছ , ঘাসের চাপড়া প্রভৃতি থাকলে ধস কম হয় ।
২০৫ ) পশ্চিমবঙ্গের কোথায় ধস নামতে দেখা যায় ?
উত্তর : দার্জিলিং - এ ।
২০৬ ) ভূমিক্ষয় কাকে বলে ?
উত্তর : মাটি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যাওয়াকে বলে ভূমিক্ষয় ।
২০৭ ) ভূমিক্ষয় কীভাবে হয় ?
উত্তর : মাটিতে প্লাস্টিক বা পলিথিন পড়ে থাকলে তার উপরে মাটির যে কণা থাকে তার সঙ্গে নীচের মাটির কণার কোনো যোগ থাকে না । ফলে ঝড়বৃষ্টি হলে উপরের মাটি ঝড়ে গিয়ে ভূমিক্ষয় হয় ।
২০৮ ) ভূমিক্ষয়ের প্রধান সমস্যাগুলি কি কি ?
উত্তর :
• ভূমিক্ষয়ের ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে ধস নামে এবং রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যায় ।
• প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় ।
• মাটির উর্বরতা কমে যায় । ফলে গাছপালা ভালো জন্মায় না ।
২০৯ ) কি কি করলে ভূমিক্ষয় কমবে ?
উত্তর :
• পাহাড়ের ঢালে বড় বড় গাছ লাগাতে হবে ।
• বিজ্ঞানসন্মত উপায়ে বাড়িঘর , রাস্তাঘাট প্রভৃতি নির্মাণ করতে হবে ।
• এছাড়া মাটিতে যাতে প্লাস্টিক , পলিথিন প্রভৃতি পড়ে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে ।
২১০ ) মোতিঝিল জলাশয়ের কথা কোন বইতে আছে ?
উত্তর : সহজ পাঠ বইতে ।
২১১ ) জলাশয় থেকে মাছ ধরে খায় এমন কয়েকটি পাখির নাম লেখো ।
উত্তর : মাছরাঙা , চিল , বক ।
২১২ ) জল থেকে ছোঁ মেরে মাছ নিয়ে যায় কে ?
উত্তর : মাছরাঙা ।
২১৩ ) পাঁকের মধ্যে মাছ খোঁজে কে ?
উত্তর : বক ।
২১৪ ) জল ছুঁয়ে নখে করে মাছ নিয়ে যায় কে ?
উত্তর : চিল ।
২১৫ ) নয়ানজুলি কি ? এখানে লোকেরা কি করে ?
উত্তর : নয়ানজুলি একটি জলাশয় । এখানে লোকেরা মাঝেমধ্যে মাছ ধরে । এরপর সেগুলি নিজেরা খায় ও বিক্রি করে ।
২১৬ ) নয়ানজুলি কোথায় দেখা যায় ?
উত্তর : রাস্তার ধারে ।
২১৭ ) পুকুরের চারপাশ পাকা করে দিলে কাদের ক্ষতি হতে পারে ?
উত্তর : কচ্ছপ , ব্যাঙের মতো প্রাণীদের ।
২১৮ ) বাঁওড় কি ?
উত্তর : নদীর বাঁকে খানিকটা জায়গা নদী থেকে আলাদা হয়ে বদ্ধ জলা হয়ে যায় । একেই বাঁওড় বলে ।
২১৯ ) ঝোরা কি ?
উত্তর : পাহাড়ি অঞ্চলে অনেক ছোট ছোট ঝরনা দেখা যায় । এদের ঝোরা বলে ।
২২০ ) শহর ও গ্রামের মধ্যে কোথায় জলাশয় বেশি দেখতে পাওয়া যায় ?
উত্তর : গ্রামে ।
২২১ ) শহরের জলের প্রধান উৎস কি কি ?
উত্তর : জলের ট্যাঙ্ক , কলের জল প্রভৃতি ।
২২২ ) কোন জলাশয়ে মাছ চাষ বেশি হয় ?
উত্তর : বিল ও ভেড়িতে ।
২২৩ ) জলের স্রোত কোথায় খুব বেশি হয় ?
উত্তর : পাহাড়ি অঞ্চলে ।
২২৪ ) জমি কোথায় উঁচু ও কোথায় নিচু কীভাবে বোঝা যায় ?
উত্তর : জমিতে জলের স্রোত কোনদিক থেকে কোনদিকে যায় তা দেখে ।
২২৫ ) রাসায়নিক বিক্রিয়া কি ?
উত্তর : যে বিক্রিয়ার ফলে কোনো বস্তু সম্পূর্ণভাবে নতুন বস্তুতে পরিণত হয় , কোনোভাবেই আর পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে না , সেই বিক্রিয়াকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে ।
২২৬ ) জলে পড়া নোংরার সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে কে ?
উত্তর : বাতাসের অক্সিজেন ।
২২৭ ) দুধে লেবুর রস দিলে কি হয় ?
উত্তর : দুধের সঙ্গে লেবুর রসের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় দুধ কেটে ছানা হয় ।
২২৮ ) জামায় লেগে থাকা দাগ কীভাবে উঠানো যায় ?
উত্তর : লেবুর রস দিয়ে ঘষলে ।
২২৯ ) জলে কি কি ভাবে নোংরা এসে পড়ে ?
উত্তর : বাড়িতে ব্যবহার করা আবর্জনাপূর্ণ জল , ড্রেনের নোংরা জল , খোলা জায়গায় পরিত্যক্ত বর্জ্য পদার্থ বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে পুকুরের জলে এসে পড়ে ।
২৩০ ) ' ড্রেনের নোংরা জল পুকুরে পড়লেও অনেক সময় পুকুরের জল নোংরা হয় না'- এর কারণ কি ?
উত্তর : এর কারণ হল বাতাসের অক্সিজেন পুকুরের জলের সঙ্গে মিশে গিয়ে নোংরার সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে নোংরাকে ভেঙে দেয় । এছাড়া মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী কিছু নোংরা খেয়ে নেয় ।
২৩১ ) চকচকে লোহার পেরেক বাতাসে ফেলে রাখলে কি হয় ?
উত্তর : জলীয় বাষ্পের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে লোহার চকচকে রং লালচে - বাদামি হয়ে যায় ।
২৩২ ) কয়লা পোড়ানো হলে কি হয় ?
উত্তর : অক্সিজেনের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন করে ।
২৩৩ ) মাছের ঘা সারাতে কোন রাসায়নিক ব্যবহার করা যেতে পারে ? এই রাসায়নিকে প্রচুর পরিমাণে কি থাকে ?
উত্তর : পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট । এতে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন থাকে ।
২৩৪ ) জলে রাসায়নিক পদার্থ বেশি দিলে কি হবে ?
উত্তর : জলে থাকা মাছ এবং অন্যান্য ছোট বড় জীবের মৃত্যু হবে ।
২৩৫ ) জল শোধনের কয়টি পদ্ধতি ও কি কি ?
উত্তর : দুটি পদ্ধতি । প্রাকৃতিক পদ্ধতি ও রাসায়নিক পদ্ধতি ।
২৩৬ ) প্রাকৃতিক জল শোধনে কোন কোন প্রাণী সাহায্য করে ?
উত্তর : জলে থাকা মাছ এবং অন্যান্য ছোট বড় প্রাণী ।
২৩৭ ) পুকুরের জল পরিস্কার রাখতে কি কি নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত ?
উত্তর :
- পুকুরের জলে বাসন মাজা , কাপড় কাচা প্রভৃতি বন্ধ করতে হবে ।
- পুকুরের জলে কোনো পশুকে স্নান করানো যাবে না ।
- পুকুরের জলে ময়লা আবর্জনা বা কোনো প্লাস্টিক ফেলা যাবে না ।
- পুকুরের সঙ্গে কোনো ময়লা জলের নর্দমা যুক্ত করা যাবে না ।
২৩৮ ) পুকুর পাড়ে ঝাড় হয়ে জন্মায় এমন দুটি গাছের নাম লেখো ।
উত্তর : বাঁশ এবং কলা গাছ ।
২৩৯ ) জলের মধ্যে কি কি উদ্ভিদ জন্মায় ?
উত্তর : শালুক , পদ্ম , পানা , কলমিশাক প্রভৃতি ।
২৪০ ) কলাগাছের ফলকে কি বলে ?
উত্তর : কাঁদি ।
২৪১ ) মোচা কি ? এটি কোথায় দেখা যায় ?
উত্তর : কলাগাছের ফুলকে মোচা বলে । এটি কলার কাঁদির শেষে ঝুলতে দেখা যায় ।
২৪২ ) ঢেঁকি শাক দেখতে কেমন ? এটি কোথায় জন্মায় ?
উত্তর : ঢেঁকি শাক দেখতে লতার মতো এবং পাতা খাঁজ কাটা । এটি জলের খুব কাছে ডাঙায় হয় ।
২৪৩ ) জলের মধ্যে কি কি প্রাণী দেখতে পাওয়া যায় ?
উত্তর : মাছ , ব্যাং , কচ্ছপ , কাঁকড়া প্রভৃতি প্রাণী ।
২৪৪ ) পানীয় জলের পুকুরে কি কি করা নিষিদ্ধ ?
উত্তর : স্নান করা ও নোংরা ফেলা ।
২৪৫ ) মাটির নীচের জল কি কি কাজে ব্যবহার হয় ?
উত্তর : কৃষিকাজে , পানীয় হিসাবে এবং গৃহস্থালির কাজে ।
২৪৬ ) সুন্দরবনের মাটির নীচের জল কেমন এবং কেন ?
উত্তর : সুন্দরবনের মাটির নীচের জল নোনতা হয় কারণ , এখানে মাটির নীচে সাগরের জল চুইয়ে আসে ।
২৪৭ ) মাটির নীচের জল অত্যাধিক ব্যবহার করলে কি হবে ?
উত্তর :
• মাটির নীচের জলস্তর অনেক নীচে নেমে যাবে । ফলে টিউবওয়েল দিয়ে আর জল উঠবে না ।
• পানীয় জল , চাষবাসে ব্যবহৃত জল প্রভৃতির জন্য জল পাওয়া যাবে না অর্থাৎ জলের সংকট দেখা দেবে।
৫) মাটির নীচের পানীয় জল অপচয়ের কারণ লেখো।
উত্তর:
•লোকালয়ের প্রায় সমস্ত কাজেই মাটির নীচের জল ব্যবহার করা হয়।
•কল যদি খোলা থাকে তাহলেও জল পড়ে জলের অপচয় ঘটে।
২৪৮ ) গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ রান্নার কাজে কোন জল ব্যবহার করে?
উত্তর:পুকুরের জল।
২৪৯ ) সজল ধারার জল কি কাজে ব্যবহার হয়?
উত্তর:স্নান করা এবং পান করার কাজে।
২৫০ ) কি কি কাজে পুকুরের জল ব্যবহার করা উচিৎ নয়?
উত্তর:রান্না করা, আনাজ ধোয়া, মুখ ধোয়া প্রভৃতি কাজে।
২৫১ ) আমাদের কলের জল নষ্ট করা উচিৎ নয় কেন?
উত্তর:কারণ ভবিষ্যতে জলের সংকট দেখা দেবে।
২৫২ ) টিউবওয়েলের মুখ থেকে কীভাবে জল খাওয়া উচিৎ?
উত্তর:গ্লাস অথবা মগে করে।
২৫৩ ) কল থেকে জল পড়ার পর কি হতে থাকে?
উত্তর:কিছু জল বাষ্প হয়ে যায় ও কিছু জল মাটিকে ভিজিয়ে নরম রাখে।
২৫৪ ) বৃষ্টি শুরুর প্রথম দিকে জলে কি থাকে?
উত্তর:জলে নোংরা থাকে এবং সামান্য পরিমাণে লঘু অ্যাসিড থাকে।
২৫৫) বৃষ্টির জলকে কোন কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়?
উত্তর:বৃষ্টির জলকে পানীয় হিসাবে এবং রান্নার কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়।
২৫৬) বৃষ্টির জলকে কিভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে?
উত্তর:ঘর মোছা, গাছের গোড়ায় জল দেওয়া প্রভৃতি কাজে
২৫৭) বৃষ্টির জল ধরে রাখার দুটি পদ্ধতি লেখ।
উত্তর:
•বৃষ্টির সময় বাড়ির ছাদে বালতি, জালা অথবা অন্য কোনো বড় পাত্র রেখে বৃষ্টির জল ধরে রাখা যায়।
• পুকুর বা খাল কেটেও বৃষ্টির জল ধরে রাখা যায়।
২৫৮) বৃষ্টির জল কি কি কাজে ব্যবহার করা যায়?
উত্তর:
- ঘর মোছা, কাপড় কাচার কাজে ব্যবহার হয়।
- মানুষ ও গবাদি পশুর স্নান করার কাজে ব্যবহার হয়।
- চাষবাসের কাজে ও মাছ চাষের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।
- বাথরুম পরিস্কার করার কাজে ব্যবহার হয়।
২৬০ ) এখনও অনেক গ্রামে পানের জন্য কোন জায়গার জল ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: টিউবওয়েলের জল এবং পাত কুয়োর জল।
২৬১ ) কম গভীর টিউবওয়েলের জল খাওয়া উচিত নয় কেন?
উত্তর:কম গভীর টিউবওয়েল দিয়ে তোলা জলে অধিক পরিমাণে আয়রন, বিভিন্ন খনিজ পদার্থ ও জীবাণু মিশে থাকে। এছাড়া পুকুর, নর্দমার নোংরা জল চুইয়ে মাটির কম গভীরের জলের সঙ্গে মেশে। এর ফলে ওই জল অধিক পরিমাণে দূষিত হয়। এইসব কারণে আমাদের কম গভীর টিউবওয়েলের জল খাওয়া উচিত নয়।
২৬২ ) জলাভূমি কি?
উত্তর:কোনো বিশাল দিঘি, বাঁওর ও মরা নদী ধীরে ধীরে গিয়ে সারাবছর জল ও পাঁকযুক্ত মে জলাশয় তৈরি হয়, তাকে জলাভূমি বলে।
২৬৩) জলাভূমিতে কি কি পাখি দেখা যায়?
উত্তর:বক, মাছরাঙা, পানকৌড়ি, চিল, ডাহুক, কাদাখোঁচা প্ৰভৃতি পাখি।
২৬৪ ) কুবিরদহের জলাভূমিতে কি কি মাছ পাওয়া যায়?
উত্তর:শোল, বোয়াল, শিঙি, মাগুর, কই, পাঁকাল প্রভৃতি মাছ দেখা যায়।
২৬৫ ) কবিরদের জলাভূমিতে আগে কোন প্রাণী থাকত বলে অনুমান করা হয়?
উত্তর:কুমির।
২৬৬) কোন প্রাণী ধরা বেআইনি?
উত্তর:কচ্ছপ।
২৬৭ ) জলাভূমি আর কি কি নামে পরিচিত?
উত্তর: দহ, তাল, পটস, চাউরস, মোনস প্রভৃতি।
২৬৮ ) গোটা রাজ্যে ছোট বড় মিলে জলাভূমির সংখ্যা কত?
উত্তর:প্রায় এক হাজার।
২৬৯ ) জলাভূমিতে কোন সময় নানা ধরণের পাখির আগমন ঘটে?
উত্তর:শীতকালে।
২৭০ ) জলাভূমির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর:
- জলাভূমির জল কখনো শুকোয় না।
- জলাভূমিতে খুব গভীরে জল থাকে না।
২৭০) জলাভূমিগুলি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর:
• সাঁতরাগাছির ঝিল-হাওড়া।
• সাহেববাঁধ- পুরুলিয়া।
•রসিকবিল- কোচবিহার।
২৭১ ) কলকাতার ঢাল কোনদিকে ছিল ?
উত্তর : পূর্বদিকে ।
২৭২ ) কত বছর আগে ঠিক হয় কলকাতার নোংরা পূর্বদিকে ফেলা হবে ?
উত্তর : ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে অর্থাৎ প্রায় দেড়শো বছর আগে ।
২৭৩ ) তিনশো বছর আগে কলকাতার নোংরা কোথায় ফেলা হত ?
উত্তর : গঙ্গায় ।
২৭৪ ) কলকাতার নোংরা জল কোথায় পাঠানো হবে বলে ঠিক হয় ?
উত্তর : বিদ্যাধরী নদী দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পাঠানো হবে বলে ঠিক হয় ।
২৭৫ ) কোন নদী মজে গিয়ে পূর্ব কলকাতার জলাভূমি সৃষ্টি হয়েছে ?
উত্তর : বিদ্যাধরী নদী ।
২৭৬ ) কলকাতার জলাভূমিতে কি কি প্রাণী দেখতে পাওয়া যায় ?
উত্তর : শামুক , শাপ , শেয়াল প্রভৃতি প্রাণী ।
২৭৭ ) কলকাতার জলাভূমিতে কি চাষ করা হয়ে থাকে ?
উত্তর : মাছ চাষ ।
২৭৮ ) কত খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় মাছের ঘাট তৈরি হয় ?
উত্তর : ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে ।
২৭৯ ) কত খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় পাকাপাকিভাবে মাছচাষ করা শুরু হয় ?
উত্তর : ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে ।
২৮০ ) কত খ্রিষ্টাব্দে রাজ্যে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ শুরু হয় ?
উত্তর : ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে ।
২৮১ ) ভোরবেলা বাইরে বেরোলে কি দেখা যায় ?
উত্তর : নীল আকাশে সূর্য এবং চারদিকে সবুজ গাছপালা ।
২৮২ ) কি কি নিয়ে উদ্ভিদ জগৎ গড়ে উঠেছে ?
উত্তর : সূর্যের আলো , মাটি , জল ও বাতাস নিয়ে ।
২৭৩ ) মধু কারা তৈরি করে ?
উত্তর : মৌমাছি ।
২৮৪ ) উদ্ভিদ ও প্রাণী কে কার উপর বেশি নির্ভর করে ?
উত্তর : প্রাণীরা উদ্ভিদের উপর ।
২৮৫ ) তৃণভোজী প্রাণী কাদের বলে ?
উত্তর : যে সকল প্রাণীরা উদ্ভিদকে খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে বেঁচে থাকে , তাদের তৃণভোজী প্রাণী বলে । যেমন- গরু , ছাগল , হরিণ , খরগোশ প্রভৃতি ।
২৮৬ ) মাংসাশী প্রাণী কাদের বলে ?
উত্তর : যে সকল প্রাণীরা অন্য প্রাণীদের খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে , তাদের মাংসাশী প্রাণী বলে । যেমন- বাঘ , সিংহ প্রভৃতি ।
২৮৭ ) সর্বভুক কাদের বলে ?
উত্তর : যে সকল প্রাণীরা উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয়কেই খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে , তাদের সর্বভুক বলে । যেমন- মানুষ ।
২৮৮ ) তৃণভোজী প্রাণীরা কি খেয়ে বেঁচে থাকে ?
উত্তর : ঘাস , পাতা , গাছ , ফুল , ফল প্রভৃতি ।
২৮৯ ) কারা তৃণভোজী প্রাণীদের খেয়ে বেঁচে থাকে ?
উত্তর : বিভিন্ন মাংসাশী প্রাণী যেমন- বাঘ , সিংহ , নেকড়ে প্রভৃতি প্রাণী ।
২৯০ ) উদ্ভিদ প্রাণীদের উপর কীভাবে নির্ভরশীল ?
উত্তর :
• উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য যে কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করে তা প্রাণীদের শ্বাসকার্যের ফলেই উৎপন্ন হয় ।
• বিভিন্ন কীটপতঙ্গ , বাদুড় , পাখি প্রভৃতি প্রাণী উদ্ভিদের পরাগ সংযোগে সাহায্য করে ।
•উদ্ভিদের বীজ ও ফলের বিস্তারেও বহু প্রাণী সাহায্য করে।
২৯১) প্রাণীরা উদ্ভিদের উপর কীভাবে নির্ভরশীল?
উত্তর:প্রাণীদের খাদ্যের প্রধান উৎস হল উদ্ভিদ। তৃণভোজী প্রাণীরা সরাসরি উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে। আবার মাংসাশী প্রাণীরা তৃণভোজী প্রাণীদের খায়।
বিভিন্ন কীটপতঙ্গ, পাখি, কাঠবিড়ালি প্রভৃতি প্রাণীরা উদ্ভিদে আশ্রয় গ্রহণ করে।
২৯২) সাঁতরাগাছি ঝিলে পাখিগুলো কখন আসে?
উত্তর:শীতকালে।
২৯৩) হাঁস পুষলে কি কি পাওয়া যেতে পারে ?
উত্তর:ডিম, মাংস প্রভৃতি।
২৯৪) লাল বনমোরগ, বাইসন দেখতে পাওয়া যায় এমন একটি অরণ্যের নাম লেখো।
উত্তর:জলদাপাড়ার অরণ্য।
২৯৫) গৌর বা বাইসন কি?
উত্তর:জলদাপাড়ার জঙ্গলে একধরণের কালো গরুর মতো দেখতে জন্তু দেখা যায়। এদের গৌর বা বাইসন বলে।
২৯৬) আমাদের দেশি গরুরা আগে কাদের মতো ছিল?
উত্তর:গৌর বা বাইসনদের মতো।
২৯৭) প্রথম কোন প্রাণী পোষ মেনেছিল?
উত্তর:কুকুর।
২৯৮) সাঁতরাগাছি ঝিলে শীতকালে পরিযায়ী পাখিরা আসে কেন?
উত্তর:পরিযায়ী পাখিরা যেখানে বসবাস করে সেখানে শীতকালে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। তাই ঠাণ্ডার হাত থেকে বাঁচতে এইসব পাখিরা কম শীতের দেশে চলে আসে এবং প্রায় দুইমাস কাটিয়ে নিজের দেশে ফিরে যায়। সাঁতরাগাছি ঝিল কম শীতযুক্ত অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় পরিযায়ী পাখিরা শীতকালে এখানে আসে।
৩০০) পশুপাখিদের পোষ মানালে মানুষের কি সুবিধা হয়?
উত্তর: চাষের কাজে বা যানবাহন হিসাবে এদের ব্যবহার করা যেতে পারে।এদের থেকে আমরা দুধ, ডিম, মাংস প্রভৃতি খাদ্য পেয়ে থাকি। কে বন্যকে পোষা
৩০১) পাখি ভালো লাগলে পাখিকে না পুষে কি করা উচিৎ?
উত্তর:গাছের ডালে খাবার ঝুলিয়ে রাখবো। পাখিরা যখন খুশি এসে খেয়ে যাবে। তখন পাখিকে দেখব৷
৩০২) কয়েকটি পালিত পাখির নাম লেখো।
উত্তর:টিয়া, ময়না, কাকাতুয়া প্রভৃতি পাখি ৷
৩০৩) কয়েকটি বন্য পশুর নাম লেখ।
উত্তর:বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক প্রভৃতি।
৩০৪) আমরা টিয়াপাখি কেন পুষি?
উত্তর:টিয়াপাখি দেখতে ভালো এবং খুব ভালো ডাকতে পারে। তাই আমরা টিয়া পুষি ।
৩০৫) পোষা টিয়া এবং হাঁসের মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তর: হাঁস সারাদিন জলে চরে বেড়ায়। কিন্তু সন্ধ্যাবেলা ডাক না দিলেও তারা ঠিক তাদের বাসায় ফিরে আসে। অন্যদিকে টিয়াপাখিকে যতই পোষ মানানো হোক না কেন কোনোভাবে খাঁচার দরজা খোলা পেলে সে আকাশে উড়ে যায়, আর ফিরে আসে না।
৩০৬) বন্যপ্রাণীরা অন্যদের আক্রমণ করে কেন?
উত্তর: কোনো বন্যপ্রাণী অকারনে কারো ক্ষতি করে না। কেউ তাদের ক্ষতি করতে এলে বা তাদের খাদ্য ও থাকার জায়গা কেড়ে নিতে চাইলে বন্যপ্রাণীরা তাদের উপর আক্রমণ করে।
৩০৭) বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে আমাদের কেমন আচরণ করা উচিত?
উত্তর: বন্য প্রাণীরা স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে ভালোবাসে। প্রকৃতির নিয়মে তারা খাদ্য সংগ্রহ করে এবং অনুকূল বাসস্থান খুঁজে নেয়। তাই আমাদের উচিত তাদের এই স্বাধীন জীবনযাপনে কোনোপ্রকার বাধা সৃষ্টি না করা। এছাড়া আমাদের চারপাশে যে সকল বন্যপ্রাণীরা আছে তারা যাতে তাদের প্রাকৃতিক খাদ্য ও বাসস্থান থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।
৩০৮) জলাশয়ে জন্মায় এমন তিনটি উপকারী শাকের নাম লেখ।
উত্তর:হেলেঞ্চা, কুলেখাড়া ও ব্রাহ্মী শাক।
৩০৯ ) গাছ চেনা সহজ কেন?
উত্তর:গাছ ছুটে পালাতে পারবে না। অনেকক্ষণ ধরে গাছকে দেখা যাবে।
৩১০ ) ঢেকি শাক আসলে কি?
উত্তর:একধরণের ফার্ন
৩১১ ) হেলেঞ্চা শাকের স্বাদ কেমন?
উত্তর:তেতো।
৩১২) কুলেখাড়া গাছ কেমন দেখতে?
উত্তর:এই গাছ কাঁটাযুক্ত এবং এর পাতা সরু ও লম্বা।
৩১৩ ) কুলেখাড়া শাক আমাদের কি উপকার করে?
উত্তর:কুলেখাড়ার রস রক্তাল্পতা প্রতিরোধ করে।
৩১৪ ) কোন শাক আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে?
উত্তর:ব্রাহ্মী শাক
৩১৫ ) গন্ধগোকুল বা ভাম বেড়াল দেখতে কেমন?
উত্তর:অনেকটা হুলো বেড়ালের মতো। রং কালো, মুখটা কুকুরের মতো সরু। লেজটা লম্বা আর লোমশ।
৩১৬ ) এমন কয়েকটি বন্যপ্রাণীর নাম লেখ যারা তাড়ালেও বাড়িতে থাকতে চায়?
উত্তর:মশা, মাছি, আরশোলা, টিকটিকি, মাকড়সা প্রভৃতি।
৩১৭ ) বাড়িতেও থাকে আবার ঝোপে ঝাড়ে থাকে এমন দুটি প্রাণীর নাম লেখ।
উত্তর: গিরগিটি, মাকড়সা
৩১৮ ) কোন প্রাণী খাবারের খোঁজে বাড়িতে আসে?
উত্তর: ইঁদুর, ছুঁচো।
৩১৯) সাপের সম্পর্কে কোন ধারণাটি ভুল?
উত্তর:সাপ মানুষ দেখলেই কামড়ায় এবং মানুষের মৃত্যু হয়। শিখব সবাই মিলে, চিনব সবাইকে
৩২০ ) কোন প্রাণীর পা গুণে শেষ করা যায় না?
উত্তর:কেন্নোর।
৩২১) কোন প্রাণীর পা নেই?
উত্তর:কেঁচো, সাপ প্রভৃতি প্রাণীর।
৩২২) সাপকে দেখতে কেমন?
উত্তর:সাপের গায়ে লোম নেই। কিন্তু ওদের গায়ে আঁশ ভর্তি থাকায় গা চকচক করে।
৩২৩) কোন প্রাণীর গায়ে হাত লাগলে চুলকানি হয় এবং কেন?
উত্তর:শুঁয়োপোকার গায়ে। কারণ এদের গায়ে শুঁয়ো ভর্তি থাকে।
৩২৪) শুঁয়োপোকাগুলি পরে কিসে পরিণত হয়?
উত্তর:প্রজাপতিতে।
৩২৫) প্রজাপতির কয়টি ডানা থাকে?
উত্তর:দুটি।
৩২৬) জলে থাকে এমন দুটি প্রাণীর নাম লেখ।
উত্তর:মাছ, ব্যাঙ।
৩২৭) দুটি শিকারি প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর:বাঘ, সিংহ।
৩২৮) নিশাচর প্রাণী কাদের বলে?
উত্তর:যে সকল প্রাণী দিনের পরিবর্তে রাতে শিকার করতে বের হয়, তাদের নিশাচর প্রাণী বলে। যেমন- পেঁচা।
৩২৯) কয়েকটি আঁশযুক্ত ও কয়েকটি আঁশবিহীন মাছের নাম লেখ।
আঁশবিহীন- শিঙি, মাগুর, ট্যাংরা।
আঁশযুক্ত- রুই, কাতলা, কই।
৩৩০) রুই ও ট্যাংরা মাছের মোট কয়টি পাখনা?
উত্তর:সাতটি।
৩৩১) কাঁটা নেই এমন একটি মাছের নাম লেখো।
উত্তর:চিংড়ি।
৩৩২) জলের পোকা কাকে বলা হয়?
উত্তর:চিংড়ি মাছকে।
৩৩৩) অমেরুদণ্ডী প্রাণী কাদের বলে?
উত্তর:যে সকল প্রাণীদের দেহে হাড় বা কাঁটা কিছুই থাকে না, তাদের অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলে।
৩৩৪) মেরুদণ্ডী প্রাণী কাদের বলে?
উত্তর:যেসব প্রাণীদের মাথা থেকে শরীরের শেষ ভাগ পর্যন্ত একটিই হাড় থাকে, তাদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলে।
৩৩৫) কয়েকটি মেরুদণ্ডী ও কয়েকটি অমেরুদণ্ডী প্রাণীর নাম লেখ।
উত্তর:মেরুদণ্ডী- মানুষ, কুকুর প্রভৃতি।
অমেরুদণ্ডী- কেঁচো, শামুক, প্রজাপতি প্রভৃতি।
৩৩৬) দেহের বাইরে শক্ত কাটা আছে এমন দুটি মাছের নাম লেখো।
উত্তর:শিঙি মাছ ও ট্যাংরা মাছ।
৩৩৭) কয়েকটি মেরুদণ্ডী ও কয়েকটি অমেরুদণ্ডী মাছের নাম লেখ।
উত্তর: মেরুদণ্ডী- রুই, কাতলা, ট্যাংরা প্রভৃতি।
অমেরুদণ্ডী- চিংড়ি।
৩৩৮) আকর্ষ কি?
উত্তর:অনেক লতানো গাছের গা থেকে সবুজ সুতোর মতো পাতা বের হয়। একেই বলে আকর্ষ।
৩৩৯) লতানো গাছে আকর্ষ হয় কেন?
উত্তর:লতানো গাছ নিজে খাড়া হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তাই পাশের শক্ত কিছুকে ধরে বেড়ে ওঠার জন্য এই গাছের আকর্ষ বের হয়।
৩৪০) কয়েকটি লতানো গাছের নাম লেখ।
উত্তর:লাউ, কুমড়ো, করলা প্রভৃতি।
৩৪১) কোন গাছ ঝুরি নামায়?
উত্তর:বটগাছ। কারণ বটগাছের চারপাশে ডাল থাকে। অত্যাধিক ভারের কারণে মোটা ডালগুলি ভেঙে যেতে পারে। তাই সেগুলির ভর দেওয়ার জন্য বটগাছ ঝুরি নামায়।
৩৪২) কাকেরা খাবার লুকিয়ে রাখে কেন?
উত্তর:খিদে না থাকলে পরে খাওয়ার জন্য কাকেরা খাবার লুকিয়ে রাখে।
৩৪৩) বৃষ্টির আগে পিঁপড়েরা কি সরায় এবং কেন?
উত্তর:বৃষ্টির আগে পিঁপড়েরা মুখে করে নিজেদের ডিম সরিয়ে কোনো উঁচু জায়গায় রাখে। কারণ পিঁপড়েরা বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা আগে থেকে বুঝাতে পারে।
৩৪৪) কোন প্রাণীর লেজ খসে গেলে আবার গজায়?
উত্তর:টিকটিকির৷
৩৪৫) শিকারি মাছ কাদের বলে?
উত্তর:যে সকল মাছ অন্য ছোট মাছেদের ধরে খায়, তাদের শিকারি মাছ বলে। যেমন- শোল, শাল, ল্যাটা, চ্যাং প্রভৃতি মাছ
৩৪৬) মাছ ছাড়া কয়েকটি আধ চেনা প্রাণীর নাম লেখ।
উত্তর: সাপ, ব্যাঙ, বাদুড়, কাঁকড়া, প্রজাপতি প্রভৃতি।
৩৪৭) কোন প্রাণীর নাম শুনলেই সকলে ভয় পায়?
উত্তর:সাপ।
৩৪৮) দুটি বিষধর এবং দুটি বিষহীন সাপের নাম লেখো।
উত্তর:
বিষধর সাপ- গোখরো, কেউটে।
বিষহীন সাপ- জলঢোঁড়া, ময়াল।
৩৪৯) মাছের আঁশ এবং সাপের আঁশ এর মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তর:মাছের আঁশ পিচ্ছিল হয় এবং সাপের আঁশ হয় শুষ্ক প্রকৃতির।
৩৫০) কোন কোন মাছের চাষ করা হয়?
উত্তর:রুই, কাতলা, বাটা, গ্রাসকার্প প্রভৃতি মাছ
৩৫১) ছোট ডোবা পুকুরে কোন কোন মাছ থাকত?
উত্তর:শোল, শাল, চ্যাং প্রভৃতি।
৩৫২) সাধারণত চাষ করা হয় না এমন কয়েকটি মাছের নাম লেখো।
উত্তর:বেলে, পুঁটি, মৌরলা প্রভৃতি।
৩৫৩) শকুন কীভাবে পরিবেশকে পরিষ্কার রাখে?
উত্তর:মরা জীবজন্তুর মাংস খেয়ে।
৩৫৪) শকুনরা কীভাবে মারা যাচ্ছে?
উত্তর:গরুদের ব্যাথা কমানোর ওষুধ দেওয়ার ফলে গরুর মাংসেও বিষ মিশছে। এই মাংস খাওয়ার ফলে শকুনের মৃত্যু হচ্ছে।
৩৫৫) কোন কোন ঔষধি গাছের বিলুপ্তি ঘটেছে?
উত্তর:সর্পগন্ধা, মেহেন্দি, মুক্তোঝুড়ি প্রভৃতি গাছের।
৩৫৬) সর্পগন্ধা গাছ থেকে কি ওষুধ তৈরি হয়?
উত্তর:উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধ রেসারপিন।
৩৫৭) সিঙ্কোনা গাছ থেকে কি ওষুধ তৈরি হয়?
উত্তর:ম্যালেরিয়ার ওষুধ কুইনাইন।
৩৫৮) মেহেন্দি গাছ থেকে কি ওষুধ তৈরি হয়?
উত্তর:মাথা যন্ত্রণা ও চর্মরোগের ওষুধ।
৩৫৯) মুক্তোঝুড়ি গাছের রস কি কাজে ব্যবহার হয়?
উত্তর:বাতের ব্যাথা কমাতে, পোড়া বা ক্ষত সারাতে, পেটের যন্ত্রণা দূর করতে ব্যবহার হয়।
৩৬০) জীববৈচিত্র্য কাকে বলে?
উত্তর:আমরা আমাদের চারপাশে যে প্রাণী ও উদ্ভিদ দেখি তাদের একত্রে জীববৈচিত্র্য বলে।
৩৬১) কোনো অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য কেন সংরক্ষণ করা উচিত?
উত্তর:বিভিন্ন কারণে কোনো অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা উচিত।
• মানুষ সহ বিভিন্ন প্রাণীদের খাদ্যের প্রধান উৎস হল সবুজ উদ্ভিদ। এছাড়া উদ্ভিদ জ্বালানি হিসাবেও ব্যবহার হয়। তাই কোনো অঞ্চলের উদ্ভিদের সংখ্যা কমে গেলে খাদ্য ও জ্বালানির সংকট দেখা দেবে।
•পরিবেশে অনেক প্রকার ভেষজ উদ্ভিদ পাওয়া যায় যা প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ নিরাময় করতে সক্ষম। তাই এই সকল উদ্ভিদকে সংরক্ষণ না করলে ভবিষ্যতে তা আমাদের জন্যই বিপদজনক হবে।
•বর্তমানে অনেক মাছ বিলুপ্তির পথে। তাই এইসব মাছগুলিকে সংরক্ষণ করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এগুলি অজানাই থেকে যাবে।
• সর্বোপরি বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য আমাদের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা উচিত।

.png)