ইতিহাস
প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
(5 AND 3 MARKS QUESTIONS)
1. সিন্ধু সভ্যতার মানুষদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন কীরূপ ছিল
?
উত্তর- সিন্ধু সভ্যতার মানুষদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন কীরূপ ছিল তা নিম্নরূপ-
১) সামাজিক জীবন: সিন্ধু সভ্যতার নগরগুলির বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একই রকম সমাজ ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়। এখানে ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ছিল। মনে করা হয় নগরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ভিন্নভাবে বসবাস করত যা মূল বসতি থেকে খানিকটা উঁচুতে ছিল। তাদের বাড়িঘর ছিল উন্নত। অপর দিকে মূল বসতিতে ছোটো ছোটো বাড়িতে গরিবরা বাস করত। সেই সমাজ ছিল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, উন্নত জলনিকাশি ব্যবস্থা ও শৌচাগারের জন্য। সমাজে কৃষি নির্ভর মানুষ ছাড়াও অন্যান্য পেশার মানুষ বসবাস করত। গম, যব, ধান চাষের পাশাপাশি পশু পালনও হত।
২) অর্থনৈতিক জীবন: এই সভ্যতার অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল কারিগরি শিল্প ও বাণিজ্য। পাথর, ব্লেড, মাটি দিয়ে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরির পাশাপাশি কাপড়-বোনা, ইট বানানো, অলঙ্কার হিসাবে দামি-কমদামি পাথর, হাতির দাঁত প্রভৃতির ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানি ও উৎপন্ন দ্রব্যের রপ্তানির জন্য সমুদ্র বাণিজ্য উন্নতি লাভ করে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সিলমোহরের ব্যবহার উল্লেখ্য। স্থল পথে ও জল পথে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় এই সভ্যতার অর্থনীতি বিকশিত হয়েছিল।
2. টীকা লেখো : মেহেরগড়ের সমাধি
উত্তর- মেহেরগড় সভ্যতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল সবার। ক্ষেত্র। সমাধিতে মৃত দেহ সোজাসুজি বা কাত করে শুইয়ে দেওয়া হত। মৃতের সঙ্গে দেওয়া হত নানা জিনিস পত্র। যেমনঃ- শাঁক বা পাথরের গহনা, কুড়ুল প্রভৃতি। এছাড়াও সমাধিতে দেওয়া হত নানা গৃহপালিত পশুও। সমাধিতে মূল্যবান পাথরও পাওয়া গেছে। মৃত দেহকে লাল কাপড় জড়িয়ে লাল রং মাখিয়ে সমাধি দেওয়া হত।
3. ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নগরায়ন বলতে কী বোঝো?
উত্তর- হরপ্পা সভ্যতার কেন্দ্রগুলিতে খুব সুন্দর পরিকল্পনা করে রাস্তাঘাট তৈরি, জল নিকাশি ব্যবস্থা, পোড়া ইটের বাড়ি তৈরি, স্নানাগার, শস্যাগার, শৌচাগার, সিঁড়ি, এবং দক্ষ ও উন্নত শাসন ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়। তাই এখানেই প্রথম ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নগরায়ন দেখা যায়।
4. 'সিটাডেল' কী?
উত্তর- হরপ্পার নগরগুলিতে নগরের উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিকে একটি আয়তকার উঁচু ঢিবির মত এলাকা থাকত যেখান থেকে শহরে নজরদারি চালানো এবং বাইরের আক্রমণের ওপর লক্ষ্য করা যেত। এই অংশটি উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা থাকত। মনে করা হয় এখানেই সম্ভ্রান্ত বা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা থাকতেন। এর অংশকে 'সিটাডেল' বলে।
5. হরপ্পা সভ্যতায় সমাজ ব্যবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর- হরপ্পা সভ্যতার নগরগুলির বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে একই রকম সমাজ ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়। এখানে ধনী গরিবের ভেদাভেদ ছিল। মনে করা হয় নগরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা 'সিটাডেলে' বসবাস করতেন আর নিচু এলাকায় থাকত সাধারণ মানুষ। এছাড়াও পশুপালক গোষ্ঠি এবং কারিগরি শিল্পী ও বনিকরাও ছিল। সমাজ ছিল পরিষ্কার কারণ সেখানে শৌচাগার ও উন্নত জল নিকাশি ব্যবস্থা ছিল। সমভবত ধান চাষ নির্ভর মানুষ ছাড়াও পশুপালক গোষ্ঠি এবং কারিগরি শিল্পী ও বনিকরাও ছিল।
6. হরপ্পা সভ্যতার অর্থনৈতিক জীবন কেমন ছিল?
উত্তর- এই সভ্যতার অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল কারিগরি শিল্প ও বানিজ্য। পাথর ব্লেড ও মাটি দিয়ে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরির পাশাপাশি কাপড় বোনা ও সুতো বানানো, অলংকার হিসাবে দামি কম দামি পাথর, ও হাতির দাঁত প্রভৃতি লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানি ও রপ্তানি দ্রব্যের রপ্তানির জন্য সমুদ্র বাণিজ্য উন্নতি লাভ করে। বাণিজ্যের সুবিধার জন্য স্থল পথে ও জল পথে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় এই সভ্যতার অর্থনীতি বিকশিত হয়েছিল।
7. টীকা লেখো :
মহেঞ্জোদাড়োর স্নানাগার
উত্তর- স্নানাগার হলো স্নান করার জন্য একটি জায়গা। মহেঞ্জোদাড়ো নগরে একটি বড়ো স্নানাগারের খোঁজ পাওয়া গেছে । স্নানাগারটি 180 ফুট লম্বা ও 108 ফুট চওড়া। তার চারদিকে 4 ফুট উঁচু ইটের দেওয়াল দিয়ে ঘেরা। এর মাঝামাঝি অংশে ছিল একটি জল বড়ো জলাশয়। জলাশয়টিতে বাইরের জল ঢোকা বন্ধ করা হয়েছিল। আবার অতিরিক্ত জল বার করে দেওয়াও যেত। জল পরিষ্কার করার ব্যবস্থাও ছিল।
8. টীকা লেখো :
হরপ্পার সিলমোহর
উত্তর- হরপ্পা সভ্যতায় পাওয়া সিলমোহর গুলি নরম পাথরের কেটে তৈরি করা হত । তাতে নানা লিপি ও প্রতীক চিহ্ন খোদায় করা হত । বেশিরভাগ সিলমোহরে একটা উলটো নকশা খোদায় করা হত । নকশায় তিন জন্তুর সাথে একসারি লিপি খোদায় করা থাকত । ভিজে কাদামাটিতে ছাপ দিলে তা সোজা হয়ে পড়ত । সিলগুলি বানানোর পর একরকম সাদা জিনিস মাখিয়ে পুড়িয়ে শক্ত করা হত । সিলমোহরে এক শিংওলা একটি কল্পিত প্রানী ছাড়াও শিংওলা মানুষ, ষাঁড়, গাছ ও জামিতিক নকশা দেখা যায় । এগুলি থেকে হরপ্পার অর্থনীতি ও ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় ।
9. টীকা লেখো :
হরপ্পার ধর্ম
উত্তর- হরপ্পার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পাওয়া পোড়া মাটির নারীমুর্তি দেখে মনে করা হয় যে সেখানে মাতৃ পুজোর চল ছিল । মহেঞ্জোদাড়োতে পাওয়া সিলমোহরে জোড়াসনে বসে থাকা যোগী মূর্তি ও চারপাশে থাকা গন্ডার, বাঘ, হাতি ইত্যাদি দেখে মনে করা হচ্ছে যে এটি পশুপতি শিবের আদি রূপ । হরপ্পার মানুষ একশিংগুলা কাল্পনিক পশু, ষাঁড়, অশ্বত্থ গাছকেও পূজা করত । হয়তো মহেঞ্জোদাড়োর জলাশয়টি ধর্মীয় কাজে ব্যবহার হত ।
হরপ্পায় মৃত দেহ উত্তর দিকে মাথা করে শুইয়ে তার সাথে গয়না ও মাটির পাত্র রেখে সমাধি দেওয়া হত ।
10. হরপ্পা সভ্যতার ধ্বংসের কারণ গুলি ব্যাখ্যা কর ।
উত্তর- হরপ্পা সভ্যতার অস্তিত্ব খ্রিস্টপূর্ব ১৭৫০ অব্দের পরে হারিয়ে যেতে থাকে । এই সভ্যতার ধ্বংসের কারণ গুলি হল নিম্নরূপ : -
1.
নদীর গতিপথ পরিবর্তন : মহেঞ্জোদাড়োর পাঁচিলের গায়ে কাদার দাগ দেখে মনে করা হয় যে সিন্ধু নদের প্রবল বন্যায় মহেঞ্জোদাড়োর ক্ষতি হয়েছিল ।
2.
জলবায়ুর পরিবর্তন: খ্রিস্টপূর্ব ২২০০ অব্দ নাগাদ থেকে বৃষ্টিপাত কমতে থাকায় শুষ্ক জলবায়ুতে কৃষিকাজ সমস্যার মুখে পড়ে । ইট পোড়ানোর জ্বালানির জন্য ব্যাপক গাছ কাটার ফলে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় খরা দেখা গিয়েছিল।
3.
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দূরাবস্থা: আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৯০০ অব্দের পরে মেসোপটেমিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে ভাটা পড়ায় অর্থনীতি সমস্যায় পড়েছিল। নগরশাসন ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
4.
বহিরাগত আক্রমণ: আর্যদের আক্রমণে হরপ্পা সভ্যতার পতন ত্বরান্বিত হয়ে গিয়েছিল।
11. হরপ্পা সভ্যতার লিপি সম্পর্কে যা জানো লেখো।
উত্তর- হরপ্পার লিপি আজ অবধি পড়া যায়নি। শুধু খানিকটা অনুমান করা যায়।
1.
এই লিপি সাংকেতিক।
2.
এতে ৩৭৫-৪০০ টার মতো চিহ্ন রয়েছে।
3.
এই লিপিতে সম্ভবত বর্ণমালা ছিলনা।
4.
এই লিপি লেখা হতো ডানদিক থেকে বামদিকে।
5.
এই লিপিগুলিতে ছোটো চিহ্ন দ্বারা সংখ্যা বোঝাতো।
6.
পাত্র, শিল, সিলমোহর ইত্যাদির উপর এই মোহর পাওয়া গেছে।
7.
হরপ্পা সভ্যতার উন্নতির নমুনা এই লিপি।
12. হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা কেমন ছিল?
উত্তর- হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা ছিল খুবই উন্নত। এখানে কয়েকটি প্রধান দিক সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
1.
পরিকল্পিত শহর: শহরগুলো দুটি অংশে ভাগ করা ছিল, উঁচু ও নিচু এলাকা।শহরগুলো গ্রিড পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছিল।
2.
রাস্তাঘাট: চওড়া ও সোজা রাস্তা, সঙ্গে উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা ছিল।রাস্তাগুলো সমান্তরালভাবে একে অপরকে ছেদ করত।
3.
বাড়িঘর: পোড়া ইটের তৈরি বাড়ি, যেখানে স্নানাগার ও কুয়োর ব্যবস্থাও ছিল।
4.
পয়ঃপ্রণালী: উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা, যা শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখত।
5.
বৃহৎ স্নানাগার: মহেঞ্জোদাড়োতে বিশাল স্নানাগার, যা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হতো।
অথবা,
হরপ্পা সভ্যতাতেই প্রথম ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নগরায়ণ দেখা গিয়ে ছিল। এই সভ্যতার নগর ছিল খুবই সুন্দর ও সাজানো গোছানো।
1.
বাড়িঘর : - হরপ্পা সভ্যতায় বাড়িগুলি 'সিটাডেল' ও প্রধান বসতি এই দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। সিটাডেলে সম্ভবত শাসকেরা বা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা থাকতেন। বসতি এলাকার বাড়িঘর গুলিতে অনেকগুলি ঘর, এবং একটির বেশি তলা, স্নানাগার ও শৌচাগার থাকত। কিন্তু ওই যৌথ পরিবারের একটিই রান্নাঘর থাকত।
2.
জলনিকাশি ব্যবস্থা : - এখানেই প্রথম উন্নতি জল নিকাশি ব্যবস্থা দেখা গিয়েছিল। প্রতিটি বাড়ি থেকে জল ছোটো নালা দিয়ে বড়ো নর্দমায় এসে মিশত। এই সমস্ত নালা নর্দমা ঢাকা দেওয়া থাকত।
3.
রাস্তাঘাট : - হরপ্পা সভ্যতায় চৌকো আকারের নগরের নকশা দেখা যায়। উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম যথাক্রমে চওড়া ও সরু রাস্তা দেখা গেছে।
4.
কুয়ো : - এই সভ্যতাতে অনেকগুলি কুয়োর খোঁজ পাওয়া গেছে, তবে হরপ্পাতে বেশি কুয়ো পাওয়া যায়নি। প্রতিটি নগরের জন্য 27-30টি করে কুয়ো ছিল।
অথবা,
উত্তর- হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত উন্নত এবং আধুনিক। এই সভ্যতার নগর পরিকল্পনা দেখে বোঝা যায় যে, সেখানকার মানুষ কতটা পরিকল্পিত জীবনযাপন করত। নিচে হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক আলোচনা করা হলো:
ক) পরিকল্পিত শহর:
১) হরপ্পা সভ্যতার শহরগুলো ছিল পরিকল্পিত। শহরগুলো সাধারণত দুটি অংশে বিভক্ত ছিল - উঁচু এলাকা (সিটাডেল) এবং নিচু এলাকা।
২) উঁচু এলাকায় শাসক শ্রেণী ও ধনী ব্যক্তিরা বাস করত, আর নিচু এলাকায় সাধারণ মানুষ ও কারিগররা থাকত।
খ) রাস্তাঘাট:
১) হরপ্পা সভ্যতার রাস্তাঘাট ছিল প্রশস্ত ও পরিচ্ছন্ন। রাস্তাগুলো সাধারণত সোজা এবং একে অপরের সাথে সমকোণে মিলিত হত।
২) রাস্তার পাশে ড্রেনের ব্যবস্থা ছিল, যা শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সাহায্য করত।
গ) বাড়িঘর:
১) হরপ্পা সভ্যতার বাড়িগুলো ছিল পোড়া ইটের তৈরি। বাড়িগুলোতে সাধারণত একাধিক ঘর, উঠান এবং স্নানাগার থাকত।
২) অনেক বাড়িতে কুয়োর ব্যবস্থাও ছিল।
ঘ) পয়ঃপ্রণালী:
১) হরপ্পা সভ্যতার পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত উন্নত। প্রতিটি বাড়িতে শৌচাগার এবং নর্দমা ছিল, যা রাস্তার ড্রেনের সাথে যুক্ত ছিল।
২) ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হতো, যা শহরের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে সাহায্য করত।
ঙ) বৃহৎ স্নানাগার:
১) মহেঞ্জোদাড়োতে একটি বিশাল স্নানাগার আবিষ্কৃত হয়েছে, যা হরপ্পা সভ্যতার স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন।
২) এই স্নানাগারটি সম্ভবত ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা হতো।
এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য থেকে বোঝা যায় যে, হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত উন্নত এবং আধুনিক।
13. আগুনের ব্যবহারের ফলে আদিম মানুষের জীবনে কী কী পরিবর্তন এসেছিল?
উত্তর- আগুনের ব্যবহার আদিম মানুষের জীবনে অনেক পরিবর্তন এনেছিল।
১) এর ফলে তারা শীত থেকে রক্ষা পেতে শুরু করে।
২) এর ফলে তারা মাংস পুড়িয়ে খেতে শেখে।
৩) এর ফলে তারা বন্য পশুদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে।
৪) এর ফলে তারা গুহার ভেতরে আলো করতে সক্ষম হয়।
14. প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষের জীবনযাত্রা কেমন ছিল?
উত্তর- প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষ প্রথমে যাযাবরের মতো জীবনযাপন করত। তারা শিকার ও ফলমূল সংগ্রহ করে খাদ্য জোগাড় করত। ধীরে ধীরে তারা কৃষিকাজ ও পশুপালন শেখে এবং স্থায়ী বসতি স্থাপন করে।
15. আদিম মানুষের জীবনযাত্রা কেমন ছিল?বা, আদিম মানুষের জীবনযাত্রার মান ধীরে ধীরে কীভাবে উন্নত হয়েছিল?
উত্তর- আদিম মানুষের জীবনযাত্রা ছিল খুবই সরল এবং প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। এখানে আদিম মানুষের জীবনযাত্রার কিছু দিক তুলে ধরা হলো:
ক) খাদ্য সংগ্রহ:
i) আদিম মানুষ মূলত খাদ্য সংগ্রহকারী ছিল। তারা ফলমূল, লতাপাতা, বন্য পশু শিকার এবং মাছ ধরে খাবার সংগ্রহ করত।
ii) তারা বিভিন্ন ধরনের পাথরের তৈরি হাতিয়ার ব্যবহার করে শিকার করত।
খ) আশ্রয়:
i) আদিম মানুষের কোনো স্থায়ী বাসস্থান ছিল না। তারা সাধারণত গুহা বা গাছের তলায় আশ্রয় নিত।
ii) তারা যাযাবরের মতো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াত।
গ) হাতিয়ার:
i) আদিম মানুষ বিভিন্ন ধরনের পাথরের তৈরি হাতিয়ার ব্যবহার করত। যেমন - ছুরি, কুঠার, তীর-ধনুক ইত্যাদি।
ii) এই হাতিয়ারগুলো তারা শিকার করা, কাঠ কাটা এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহার করত।
ঘ) সামাজিক জীবন:
i) আদিম মানুষ ছোট ছোট দলে বাস করত।
ii) তারা দলবদ্ধভাবে শিকার করত এবং নিজেদের মধ্যে খাবার ভাগ করে নিত।
ঙ) আগুন আবিষ্কার:
i) আগুন আবিষ্কার আদিম মানুষের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে।
ii) তারা আগুন ব্যবহার করে খাবার রান্না করত, শীত থেকে রক্ষা পেত এবং বন্য পশুদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করত।
16. মেহেরগড় সভ্যতার তিনটি পর্বের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর- মেহেরগড় সভ্যতা হল একটি প্রাচীন সভ্যতা যা বর্তমান পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কাচ্চি সমভূমিতে অবস্থিত। এই সভ্যতা প্রায় ৭০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৩৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। মেহেরগড় সভ্যতাকে তিনটি প্রধান পর্বে ভাগ করা যায়:
ক) প্রথম পর্ব (৭০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ - ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ):
১) এই পর্বে মানুষ যাযাবর জীবনযাপন করত এবং শিকার ও ফলমূল সংগ্রহের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করত।
২) তারা ছোট ছোট গ্রামে বাস করত এবং কাঁচা মাটির তৈরি ঘরে থাকত।
৩) এই সময়কালে কৃষিকাজের সূচনা হয় এবং মানুষ গম ও যব চাষ করতে শেখে।
৪) প্রাণী পালনও শুরু হয়, বিশেষ করে ভেড়া ও ছাগল পালন করা হতো।
খ) দ্বিতীয় পর্ব (৫০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ - ৪০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ):
১) এই পর্বে কৃষিকাজের উন্নতি ঘটে এবং মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে।
২) তারা উন্নত ধরনের মাটির তৈরি ঘর তৈরি করত এবং মৃৎশিল্পের বিকাশ ঘটে।
৩) এই সময়কালে তামার ব্যবহার শুরু হয় এবং মানুষ বিভিন্ন ধরনের তামার জিনিসপত্র তৈরি করতে শেখে।
৪) এই পর্বে লম্বা দূরত্বের বাণিজ্য শুরু হওয়ার প্রমান পাওয়া যায়।
গ) তৃতীয় পর্ব (৪৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ - ৩৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ):
১) এই পর্বে মেহেরগড় সভ্যতা উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছায়।
২) নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্যের বিকাশ ঘটে এবং বড় বড় শস্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়।
৩) এই সময়কালে ব্রোঞ্জের ব্যবহার শুরু হয় এবং মানুষ উন্নত ধরনের অস্ত্র ও সরঞ্জাম তৈরি করতে শেখে।
৪) এই পর্বে সিন্ধু সভ্যতার সাথে মেহেরগড় সভ্যতার যোগসূত্র স্থাপিত হয়।
17. ভারতীয় উপমহাদেশে পুরোনো পাথরের যুগের মানুষের জীবনযাত্রার পরিচয় দাও।
উত্তর- ভারতীয় উপমহাদেশে পুরোনো পাথরের যুগের মানুষের জীবনযাত্রা ছিল বেশ সরল। তাদের জীবনযাত্রার কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:
১) যাযাবর জীবন: পুরোনো পাথরের যুগের মানুষেরা স্থায়ীভাবে বসবাস করত না। তারা খাদ্যের খোঁজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াত।
২) শিকার ও সংগ্রহ: তারা বন্য পশুপাখি শিকার করত এবং ফলমূল, লতাপাতা, কন্দমূল ইত্যাদি সংগ্রহ করে খেত।
৩) পাথরের হাতিয়ার: তারা পাথরের তৈরি বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করত, যেমন হাতকুঠার, ছুরি, ছেঁদন যন্ত্র ইত্যাদি। এই হাতিয়ারগুলো শিকার ও খাদ্য সংগ্রহে তাদের সাহায্য করত।
৪) গুহাবাস: তারা সাধারণত পাহাড়ের গুহায় বা গাছের তলায় আশ্রয় নিত।
৫) আগুন ব্যবহার: পুরোনো পাথরের যুগের শেষের দিকে তারা আগুনের ব্যবহার শিখেছিল। আগুন তাদের শীতের হাত থেকে বাঁচাত এবং বন্য পশুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করত।
৬) গোষ্ঠীবদ্ধ জীবন: তারা ছোট ছোট দলে বা গোষ্ঠীতে বাস করত।
৭) শিল্পকলা: পুরোনো পাথরের যুগের মানুষেরা গুহার দেওয়ালে বিভিন্ন ধরনের ছবি আঁকত, যা থেকে তাদের জীবনযাত্রা ও চিন্তাভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়।
18. হরপ্পা সভ্যতার কারিগরি শিল্পের পরিচয় দাও।
উত্তর- হরপ্পা সভ্যতার অর্থনীতির অন্যতম জরুরি দিক ছিল কারিগরি শিল্প। লোহা ছাড়া তামা, কাসা ও ব্রোঞ্জের হাতিয়ার ও বাসনপত্র বানানোর পাশাপাশি পাথরের জিনিসপত্র এবং লাল পালিশ লাগানো ও কালো রঙের নকশা করা পোড়া মাটির থালা বাটি বাসন জাতীয় পত্রের ব্যবহার হত। ও পাশাপাশি সুতি ও পশমের কাপড় বোনা পোড়া ইট তৈরি এবং মালার দানা, শাঁখ, হাতির দাঁত এর ব্যবহারে গহনা তৈরির শিল্পও ছিল। সূক্ষ্ম ওজন মাপার বাটখারার পাওয়া গেছে। ধাতুর ভাস্কর্য যেমন: ব্রোঞ্জের তৈরি নারীমূর্তি এবং পাথর ও পোড়ামাটির তৈরি বিভিন্ন ভাস্কর্যের নমুনাও দেখা যায়। এই শিল্পের সাথে যুক্ত ছিল হরপ্পা ব্যবসা বানিজ্য ও সিলমোহরের ব্যবহার।
অথবা,
উত্তর- হরপ্পা সভ্যতার কারিগরি শিল্প ছিল খুবই উন্নত। এই সভ্যতার মানুষেরা বিভিন্ন ধরনের কারিগরি শিল্পে পারদর্শী ছিল। নিচে হরপ্পা সভ্যতার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কারিগরি শিল্পের পরিচয় দেওয়া হলো:
ক) ধাতু শিল্প:
১) হরপ্পা সভ্যতার মানুষেরা তামা, ব্রোঞ্জ এবং সিসার ব্যবহার জানত।
২) তারা তামা ও ব্রোঞ্জ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার, যেমন - কুঠার, ছুরি, বর্শা, ইত্যাদি তৈরি করত।
৩) তারা সোনার অলংকারও তৈরি করত, যা তাদের উন্নত ধাতু শিল্পের পরিচয় বহন করে।
খ)
মৃৎশিল্প:
১) হরপ্পা সভ্যতার মানুষেরা পোড়ামাটির বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র তৈরি করত।
২) তারা বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র, খেলনা, এবং মূর্তি তৈরি করত।
৩) তাদের মৃৎপাত্রগুলোতে বিভিন্ন ধরনের নকশা এবং চিত্র অঙ্কিত থাকত।
গ) বয়ন শিল্প:
১) হরপ্পা সভ্যতার মানুষেরা তুলা এবং পশম দিয়ে কাপড় বুনত।
২) তারা বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করত, যা তাদের উন্নত বয়ন শিল্পের পরিচয় বহন করে।
গ) পোড়ানো ইটের ব্যবহার:
১) হরপ্পার নগরগুলোতে পোড়ানো ইটের ব্যবহার দেখা যায়। এই সভ্যতার নগরগুলো পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, এবং ঘরবাড়ি সবই পোড়ানো ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।
ঘ) অন্যান্য কারিগরি শিল্প:
১) হরপ্পা সভ্যতার মানুষেরা পাথর এবং হাতির দাঁত দিয়েও বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র তৈরি করত।
২) তারা বিভিন্ন ধরনের খেলনা, অলংকার এবং মূর্তি তৈরি করত।
৩) এই সভ্যতার মানুষেরা নৌকা তৈরি করতেও পারদর্শী ছিল, যা তাদের জলপথে বাণিজ্যের পরিচয় বহন করে।
19. সিন্ধু সভ্যতার জলনিকাশি ব্যবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর- সিন্ধু সভ্যতার জলনিকাশি ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত উন্নত এবং আধুনিক। এই সভ্যতার নগর পরিকল্পনা এবং জলনিকাশি ব্যবস্থা দেখে বোঝা যায়, তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জনস্বাস্থ্যের প্রতি কতটা সচেতন ছিল। সিন্ধু সভ্যতার জলনিকাশি ব্যবস্থার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিচে উল্লেখ করা হলো:
১) পরিকল্পিত জলনিকাশী ব্যবস্থা: সিন্ধু সভ্যতার নগরগুলোতে রাস্তার পাশে ঢাকা নর্দমা ছিল। বাড়ির ভেতর থেকে ছোটো নর্দমা এসে বড়ো নর্দমার সাথে যুক্ত হতো।
২) ইটের ব্যবহার: নর্দমাগুলো পোড়ানো ইট দিয়ে তৈরি করা হতো, যা জল চলাচলকে সহজ করত এবং নর্দমাগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী করত।
৩) নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা: নর্দমাগুলোতে মাঝে মাঝে ম্যানহোল থাকত, যা পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করা হতো।
৪) বাড়ির ভেতরের ব্যবস্থা: প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই স্নানাগার ও শৌচাগার ছিল, যা নর্দমার সাথে যুক্ত ছিল।
৫) বৃহৎ স্নানাগার: মহেঞ্জোদাড়োতে একটি বিশাল স্নানাগার আবিষ্কৃত হয়েছে, যা সম্ভবত ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা হতো।
৬) কূপের ব্যবহার: শহরগুলোতে কূপের মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক বাড়ি একটি সার্বজনীন কূপ থেকেও জল নিত।
এই উন্নত জলনিকাশি ব্যবস্থা সিন্ধু সভ্যতার মানুষের উন্নত জীবনযাত্রার প্রমাণ দেয়।
20. হরপ্পা সভ্যতায় কী ধরনের বাড়িঘর পাওয়া গেছে?
উত্তর- হরপ্পা সভ্যতার বাড়িঘরগুলো ছিল পরিকল্পিত এবং উন্নত। নিচে হরপ্পা সভ্যতার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো:
ক) পোড়ানো ইটের ব্যবহার:
1.
হরপ্পা সভ্যতার বাড়িঘরগুলো পোড়ানো ইট দিয়ে তৈরি করা হতো, যা তাদের স্থায়িত্ব বাড়িয়েছিল।
2.
এই পোড়ামাটির ইটগুলি রোদে শুকিয়েও তৈরি করা হত।
খ) বিভিন্ন আকারের বাড়ি:
1.
হরপ্পা সভ্যতায় বিভিন্ন আকারের বাড়ি দেখা যেত।
2.
ছোটো একতলা বাড়ি যেমন ছিল তেমনই বড়ো দুই বা ততোধিক তলার বাড়িও দেখা গেছে।
3.
কিছু বাড়িতে একাধিক ঘর, উঠান এবং স্নানাগার থাকত।
গ) জলনিকাশি ব্যবস্থা:
1.
হরপ্পা সভ্যতার বাড়িগুলোতে উন্নত জলনিকাশি ব্যবস্থা ছিল।
2.
প্রতিটি বাড়িতে স্নানাগার ও শৌচাগার ছিল, যা নর্দমার সাথে যুক্ত ছিল।
ঘ) কূপের ব্যবহার:
1.
শহরগুলোতে কূপের মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক বাড়ি একটি সার্বজনীন কূপ থেকেও জল নিত।
এই বৈশিষ্ট্যগুলো হরপ্পা সভ্যতার মানুষের উন্নত জীবনযাত্রার প্রমাণ দেয়।
21. মানুষের সংস্কৃতি কীভাবে তাকে যুগে যুগে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর- মানুষের সংস্কৃতি যুগে যুগে তাকে টিকে থাকতে নানাভাবে সাহায্য করেছে। নিচে কয়েকটি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হলো:
1. জ্ঞান ও দক্ষতা সঞ্চালন: সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষ তাদের জ্ঞান, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সঞ্চালন করে। যেমন, কীভাবে আগুন জ্বালাতে হয়, কীভাবে শিকার করতে হয়, কীভাবে ফসল ফলাতে হয় - এই জ্ঞানগুলো সংস্কৃতির মাধ্যমেই মানুষ শিখেছে।
2. সামাজিক বন্ধন: সংস্কৃতি মানুষকে একটি গোষ্ঠীতে একত্রিত করে এবং সামাজিক বন্ধন তৈরি করে। এই সামাজিক বন্ধন বিপদের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়াতে সাহায্য করে।
3. পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো: বিভিন্ন পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। যেমন, শীতপ্রধান অঞ্চলের মানুষ পশমের পোশাক তৈরি করতে শিখেছে, আবার মরুভূমির মানুষ জলের অভাব মেটাতে বিভিন্ন কৌশল তৈরি করেছে।
4. সমস্যা সমাধান: সংস্কৃতি মানুষকে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। যেমন, রোগের প্রতিকার, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা, ইত্যাদি।
5. সৃষ্টিশীলতা ও উদ্ভাবন: সংস্কৃতি মানুষকে সৃজনশীল হতে এবং নতুন জিনিস উদ্ভাবন করতে উৎসাহিত করে। এই সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবন মানুষকে নতুন পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে সাহায্য করে।
6. যোগাযোগ ও সহযোগিতা: ভাষা, শিল্পকলা এবং সামাজিক রীতিনীতির মতো সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো মানুষকে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে এবং সহযোগিতা করতে সক্ষম করে, যা বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।
তাই, মানুষের সংস্কৃতি শুধুমাত্র তার জীবনযাত্রার পরিচয় নয়, এটি তার টিকে থাকার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
22. পুরোনো পাথরের যুগে আদিম মানুষের জীবন কেমন ছিল?
উত্তর- পুরোনো পাথরের যুগে আদিম মানুষের জীবন ছিল বেশ কঠিন। এই যুগে মানুষের জীবনযাত্রার প্রধান কিছু বৈশিষ্ট্য নিচে উল্লেখ করা হলো:
1.
যাযাবর জীবন:
·
পুরোনো পাথরের যুগের আদিম মানুষ স্থায়ীভাবে কোনো জায়গায় বাস করত না।
·
তারা খাদ্যের খোঁজে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে বেড়াত।
2.
শিকার ও খাদ্য সংগ্রহ:
·
তারা বন্য পশু শিকার করত এবং ফলমূল, লতাপাতা, কন্দমূল ইত্যাদি সংগ্রহ করে খেত।
·
শিকার করার জন্য তারা পাথরের তৈরি বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করত।
3.
পাথরের হাতিয়ার:
·
এই যুগের মানুষেরা পাথর দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করত, যেমন হাতকুঠার, ছুরি, ছেঁদন যন্ত্র ইত্যাদি।
·
এই হাতিয়ারগুলি মূলত শিকার ও খাদ্য সংগ্রহে তাদের সাহায্য করত।
4.
গুহাবাস:
·
তারা সাধারণত পাহাড়ের গুহায় বা গাছের তলায় আশ্রয় নিত।
5.
আগুন ব্যবহার:
·
পুরোনো পাথরের যুগের শেষের দিকে তারা আগুনের ব্যবহার শিখেছিল।
·
আগুন তাদের শীতের হাত থেকে বাঁচাত এবং বন্য পশুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করত।
6.
গোষ্ঠীবদ্ধ জীবন:
·
তারা ছোট ছোট দলে বা গোষ্ঠীতে বাস করত।
7.
শিল্পকলা:
·
পুরোনো পাথরের যুগের মানুষেরা গুহার দেওয়ালে বিভিন্ন ধরনের ছবি আঁকত, যা থেকে তাদের জীবনযাত্রা ও চিন্তাভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়।
এইভাবে, পুরোনো পাথরের যুগে আদিম মানুষের জীবন ছিল প্রকৃতির সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।
23. পুরোনো পাথরের যুগ ও নতুন পাথরের যুগের পার্থক্য লেখো।
উত্তর- পুরোনো পাথরের যুগ ও নতুন পাথরের যুগের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি নিচে সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
1.
জীবনযাত্রা:
·
পুরোনো পাথরের যুগ: যাযাবর জীবন, শিকার ও সংগ্রহ।
·
নতুন পাথরের যুগ: স্থায়ী বসবাস, কৃষি ও পশুপালন।
2.
হাতিয়ার:
·
পুরোনো পাথরের যুগ: বড়, অমসৃণ পাথর।
·
নতুন পাথরের যুগ: ছোট, ধারালো, মসৃণ পাথর, হাড় ও কাঠ।
3.
খাদ্য উৎপাদন:
·
পুরোনো পাথরের যুগ: খাদ্য সংগ্রহ।
·
নতুন পাথরের যুগ: খাদ্য উৎপাদন (কৃষি)।
4.
বাসস্থান:
·
পুরোনো পাথরের যুগ: গুহা, গাছের তলা।
·
নতুন পাথরের যুগ: মাটির ঘর।
5.
সমাজ:
·
পুরোনো পাথরের যুগ: ছোট ও যাযাবর।
·
নতুন পাথরের যুগ: বড়ো ও জটিল।
অথবা,
পুরোনো পাথরের যুগ এবং নতুন পাথরের যুগের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। নিচে এই দুটি যুগের প্রধান পার্থক্যগুলো আলোচনা করা হলো:
১.
জীবনযাত্রা:
v
পুরোনো পাথরের যুগ: এই যুগের মানুষেরা ছিল যাযাবর। তারা খাদ্যের জন্য শিকার এবং ফলমূল সংগ্রহের উপর নির্ভরশীল ছিল।
v
নতুন পাথরের যুগ: এই যুগে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে। তারা কৃষি এবং পশুপালন শুরু করে, ফলে খাদ্যের নিশ্চয়তা বাড়ে।
২. হাতিয়ার:
v
পুরোনো পাথরের যুগ: এই যুগের হাতিয়ারগুলি ছিল মূলত বড় এবং অমসৃণ পাথরের তৈরি।
v
নতুন পাথরের যুগ: এই যুগের হাতিয়ারগুলি ছিল ছোট, ধারালো এবং মসৃণ। তারা পাথরের পাশাপাশি হাড় এবং কাঠেরও ব্যবহার করত।
৩. খাদ্য উৎপাদন:
v
পুরোনো পাথরের যুগ: এই যুগে মানুষ খাদ্য উৎপাদন করতে পারত না, তারা সম্পূর্ণরূপে প্রকৃতি থেকে খাদ্য সংগ্রহ করত।
v
নতুন পাথরের যুগ: এই যুগে মানুষ কৃষি এবং পশুপালন শুরু করে, ফলে তারা নিজেরাই খাদ্য উৎপাদন করতে পারত।
৪. বাসস্থান:
v
পুরোনো পাথরের যুগ: এই যুগের মানুষ সাধারণত গুহায় বা গাছের তলায় আশ্রয় নিত।
v
নতুন পাথরের যুগ: এই যুগে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য মাটির তৈরি ঘর তৈরি করতে শুরু করে।
৫. সমাজ:
v
পুরোনো পাথরের যুগ: এই যুগের সমাজ ছিল ছোট এবং যাযাবর।
v
নতুন পাথরের যুগ: এই যুগে স্থায়ী বসতি স্থাপনের ফলে সমাজ বড় এবং জটিল হতে শুরু করে।
৬.
অন্যান্য:
v
পুরোনো পাথরের যুগ: এই যুগে আগুনের ব্যবহার শুরু হলেও নতুন পাথরের যুগে আগুনের ব্যবহার আরও উন্নত হয়।
v
নতুন পাথরের যুগ
:
এই যুগে মৃৎশিল্পের বিকাশ ঘটে।
24. হরপ্পা সভ্যতায় শস্য মজুত রাখার ব্যবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর- হরপ্পা সভ্যতায় খাদ্যশস্য মজুত রাখার জন্য পাকা ইটের তৈরি বাড়ীর মতো বড়ো জায়গা ছিল। বাড়িটির ভেতরে ছিল দুই সারিতে ভাগ করা মোট ১২টি বড় তাক। সেখানে হাওয়া চলাচলের জন্য ফুটোগুলিও ছিল। ফলে খাদ্য শস্য শুকনো ও তাজা রাখা সম্ভব হত। তাছাড়া শস্য ঝাড়াই বাছাই-এর ব্যাবস্থা ছিল।
25. হরপ্পা সভ্যতার প্রতিটি কেন্দ্র কোন নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল ?
উত্তর- হরপ্পা সভ্যতার উল্লেখযোগ্য কিছু কেন্দ্র এবং তাদের নিকটবর্তী নদীগুলির তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. হরপ্পা: রাভি নদী।
২. মহেঞ্জোদাড়ো: সিন্ধু নদ।
৩. লোথাল: ভোগাবর নদী।
৪. কালিবঙ্গান: ঘাগর নদী।
৫. ধোলাভিরা: লুনি নদী।
৬. চানহুদাড়ো: সিন্ধু নদ।
৭. সুরকোটডা: সরস্বতী নদী।
৮. বানওয়ালি: সরস্বতী নদী।
৯. রাখিগড়ি: ঘাগর-হাকরা নদী।
১০. রোজদি: ভদ্র নদী।
১১. কোট দিজি: সিন্ধু নদ।
১২. বালকোট: উইন্ডার নদী।
১৩. আলমগীরপুর: হিন্দন নদী।
এই সভ্যতা সিন্ধু নদ এবং তার আশেপাশের অঞ্চল জুড়ে গড়ে উঠেছিল, তাই একে সিন্ধু সভ্যতাও বলা হয়।
26. টীকা লেখো :
লুসি
উত্তর- লুসি আফ্রিকা মহাদেশের ইথিওপিয়ায় হাদার নামে একটা জায়গা আছে। সেখানে ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে একটা অস্ট্রালোপিথেকাসের কঙ্কালের কিছু অংশ পাওয়া গেছে। কঙ্কালটি প্রায় ৩২ লক্ষ বছর আগের একটি ছোটো মেয়ের। কঙ্কালটির নাম দেওয়া হয়েছিল লুসি। লুসির মস্তিষ্ক অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় বেশ বড়ো ছিল। যদিও ধীরে ধীরে আদিম মানুষের মস্তিষ্ক আরও বড়ো হতে থাকে।
(1 AND 2 MARKS QUESTIONS)
1. আদিম মানুষের প্রথম হাতিয়ার ছিল-
(a) গাছের ডাল, (b) ভোঁতা পাথর,
(c) ছুঁচালো পাথর,
(d) কুঠার
উত্তর- (a) গাছের ডাল
2. শস্য পেষাইয়ের মতো জাঁতা পাওয়া গেছে উত্তরপ্রদেশের-
(a) মহাদহাতে,
(b) আদমগড়ে, (c) সরাই নহর রাইতে,
(d) সোয়ান উপত্যকায়
উত্তর- মহাদহাতে
3. মেহেরগড় সভ্যতার আবিষ্কারে জাঁ ফ্রাঁসোয়া জারিজকে সাহায্য করেন-
(a) আলেকজান্ডার কানিংহাম,
(b) জন মার্শাল, (c) ই ম্যাকে,
(d) রিচার্ড মেডো
উত্তর- রিচার্ড মেডো
4. প্রথম কোন্ পর্বের মানুষ পাথরকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করত?
উত্তর- প্রাচীন প্রস্তর যুগ
5. লুসির কঙ্কাল আফ্রিকার কোথায় পাওয়া গিয়েছিল?
উত্তর- ইথিওপিয়া
6. হরপ্পা কেন্দ্রটি কবে আবিষ্কৃত হয়?
উত্তর- ১৯২১ সালে
7. হরপ্পার লিপির অন্যতম বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
উত্তর- চিত্রলিপি বা সাংকেতিক লিপি
8. আদিম মানুষের জীবনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হল
____।
উত্তর- আগুন
9. হরপ্পার নগরগুলির উঁচু এলাকা
____ নামে পরিচিত ছিল।
উত্তর- সিটাডেল
10. এপ থেকে বিবর্তিত হওয়া প্রথম মানুষের নাম হোমো ইরেকটাস।
উত্তর- ভূল
11. হরপ্পার নগর সভ্যতাকে ভারতের প্রথম নগরায়ণ বলা হয়।
উত্তর- ঠিক
12. হোমো হাবিলিস (দক্ষ মানুষ)-দের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তর- i)এরা প্রথম পাথর দিয়ে হাতিয়ার তৈরি করেছিল।
ii) এদের মস্তিষ্কের আকার অস্ট্রালোপিথেকাসের তুলনায় বড় ছিল।
13. নতুন পাথরের যুগের মানুষ কোন্ কোন্ দিক থেকে নতুন ছিল?
উত্তর- কৃষিকাজের সূচনা
14. হরপ্পা সভ্যতাকে প্রায়-ইতিহাস যুগের সভ্যতা বলা হয় কেন?
উত্তর- হরপ্পা সভ্যতার লিখিত উপাদান অর্থাৎ লিপি পাওয়া গেলেও সেগুলো পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
15. দাবানল কাকে বলে?
উত্তর- শুষ্ক অঞ্চলে গাছের ডালপালায় ঘর্ষণের ফলে বা বজ্রপাতের কারণে সৃষ্ট আগুনকে দাবানল বলে।
16. হরপ্পা সভ্যতার ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছিল-
(a) পাথর দিয়ে, (b) পোড়া ইট দিয়ে,
(c) কাঠ দিয়ে
উত্তর- পোড়া ইট দিয়ে
17. আদিম কথার অর্থ -
(a) খুব পুরোনো, (b) নতুন,
(c) ইতিহাস
উত্তর- খুব পুরোনো
18. আদিম মানুষ প্রথমে
(a) রান্না করা খাবার,
(b) কাঁচা মাংস ও ফলমূল, (c) পোড়া মাংস খেত
উত্তর- কাঁচা মাংস ও ফলমূল খেত
19. বুদ্ধিমান মানুষের প্রজাতিটির নাম হল -
(a) হোমো হাবিলিস, (b) হোমো ইরেকটাস,
(c) হোমো স্যাপিয়েন্স
উত্তর- হোমো স্যাপিয়েন্স
20. মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কৃত হয় -
(a) ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে, (b) ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে,
(c) ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর- ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে
21. সিন্ধু সভ্যতার সব থেকে বড়ো কেন্দ্র হল -
(a) ধোলাবিরা, (b) হরপ্পা,
(c) মহেন-জো-দারো
উত্তর- হরপ্পা
22. লেজবিহীন বড়ো বানরকে বলা হত
____।
উত্তর- এপ
23. উত্তরপ্রদেশের
____ দু-দিকে ধারওয়ালা ছুরি পাওয়া যায়।
উত্তর- সরাই নহর রাইতে
24. ভীমবেটকা কোথায় অবস্থিত?
উত্তর- মধ্যপ্রদেশে
25. হুন্সগি উপত্যকা কোথায় অবস্থিত?
উত্তর- কর্ণাটকে
26. আদিম মানুষ যাযাবর ছিল কেন?
উত্তর- আদিম মানুষেরা খাদ্যের জন্য শিকার এবং ফলমূলের উপর নির্ভরশীল ছিল। এক জায়গায় খাবার শেষ হয়ে গেলে তারা অন্য জায়গায় যেত।
27. ইতিহাসের যে সমস্ত লেখা আজ পর্যন্ত পড়া যায়নি সেই সময়কে বলে -
(a) ঐতিহাসিক যুগ,
(b) প্রাগৈতিহাসিক যুগ,
(c) প্রায় ইতিহাসের যুগ।
উত্তর- প্রায় ইতিহাসের যুগ
28. ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম গ্রামকেন্দ্রিক সভ্যতা হল -
(a) সিন্ধু সভ্যতা,
(b) মেহেরগড় সভ্যতা,
(c) মেসোপটেমিয়া সভ্যতা।
উত্তর- মেহেরগড় সভ্যতা
29. ক-স্তম্ভের সঙ্গে খ-স্তম্ভ মেলাও:
ক-স্তম্ভ
খ-স্তম্ভ
কর্ণাটক
----- মেসোপটেমিয়া
কৃষিকাজ
----- হুন্সগি
হরপ্পার সিলমোহর
----- নতুন পাথরের যুগ
উত্তর-
ক-স্তম্ভ
খ-স্তম্ভ
কর্ণাটক
------
হুন্সগি
কৃষিকাজ
------ নতুন পাথরের যুগ
হরপ্পার সিলমোহর
------ মেসোপটেমিয়া
30. মস্তিষ্কের আকার অনুযায়ী আদিম মানুষের ভাগগুলির নাম লেখো।
উত্তর- অস্ট্রালোপিথেকাস,হোমো হাবিলিস, হোমো ইরেকটাস, হোমো স্যাপিয়েন্স।
31. একটি সভ্যতা হতে গেলে তার কী কী বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত বলে তুমি মনে করো?
উত্তর- স্থায়ী বসতি, কৃষিকাজ, উন্নত কারিগরি শিল্প, লিপি।
32. মেহেরগড় সভ্যতার সময় অনুযায়ী বিভিন্ন পর্যায়গুলি লেখো।
উত্তর- প্রথম পর্ব, দ্বিতীয় পর্ব ও শেষ পর্ব
33. কে, কত সালে মহেন-জো-দারো সভ্যতা আবিষ্কার করেন?
উত্তর- রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, ১৯২২ সালে।
34. হরপ্পা সভ্যতা কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল?
উত্তর- উত্তর-পশ্চিমে আফগানিস্তান থেকে দক্ষিণে গুজরাট পর্যন্ত।
35. ভারতীয় উপমহাদেশে হরপ্পাতেই—
(a) প্রথম নগর, (b) প্রথম গ্রাম,
(c) দ্বিতীয় নগর,
(d) দ্বিতীয় গ্রাম দেখা গিয়েছিল।
উত্তর- প্রথম নগর দেখা গিয়েছিল
36. হরপ্পা সভ্যতার ইতিহাস জানার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান—
(a) মুদ্রা, (b) লিপি,
(c) সিলমোহর, (d) মূর্তি।
উত্তর- সিলমোহর
37. সর্বপ্রথম আদিম মানুষের নিদর্শন কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর- পূর্ব আফ্রিকায়।
38. হরপ্পার কোন্ কেন্দ্রে কোনো সিটাডেল ছিল না?
উত্তর- চানহুদাড়ো
39. ভারতীয় উপমহাদেশের কোথায় মানুষ প্রথম সভ্যতা গড়ে তুলেছিল ?
উত্তর- মেহেরগড়ে
40. পাথরের যুগকে সাধারণভাবে কটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়? এই ভাগগুলি কী কী?
উত্তর- তিনটি পর্যায়। যথা: প্রাচীন প্রস্তর যুগ, মধ্য প্রস্তর যুগ ও নব্য প্রস্তর যুগ।
41. হরপ্পা সভ্যতায় কীভাবে মৃতদেহ সমাধি দেওয়া হত?
উত্তর- মৃতদেহকে মাটির নিচে কবর দিয়ে সমাধি দেওয়া হত।
42. হরপ্পা সভ্যতার কৃষিজ ফসল এবং গৃহপালিত পশুর নামগুলি লেখো।
উত্তর- হরপ্পা সভ্যতার কৃষিজ ফসল ছিল গম, যব, তুলা, এবং গৃহপালিত পশু ছিল গরু, ছাগল, ভেড়া।
43. বর্শা জাতীয় পাথরের অস্ত্র বানাতে পারত—
(a) সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারা মানুষরা,
(b) বুদ্ধিমান মানুষরা,
(c) দক্ষ মানুষরা।
উত্তর- বুদ্ধিমান মানুষরা
44. হরপ্পা সভ্যতায় পরিবার ছিল—
(a) যৌথ, (b) একক,
(c) গোষ্ঠী নির্ভর।
উত্তর- যৌথ।
45. হরপ্পা সভ্যতা কোন যুগের সভ্যতা ছিল?—
(a) তাম্র ও ব্রোঞ্জ যুগের,
(b) পাথরের যুগের,
(c) লোহার যুগের।
উত্তর- তাম্র ও ব্রোঞ্জ যুগের
46. মধ্যপ্রদেশের ভীমবেটকাতে কোন্ যুগের মানুষের জীবনযাপনের চিত্র পাওয়া গেছে?
উত্তর- মধ্য প্রস্তর যুগের।
47. কীসের ব্যবহারের ফলে আদিম মানুষের খাবারের অভ্যাস বদলে গিয়েছিল?
উত্তর- আগুনের ব্যবহারের ফলে।
48. পৃথিবীর সব থেকে পুরোনো কার্পাস চাষের নমুনা কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর- মেহেরগড়ে
49. হরপ্পা সভ্যতার লিপিতে কতগুলি চিহ্ন রয়েছে? এই লিপি কীভাবে লেখা হত?
উত্তর- হরপ্পা সভ্যতার লিপিতে প্রায় ৩৭৫ থেকে ৪০০টি চিহ্ন রয়েছে। এই লিপি ডানদিক থেকে বাঁদিকে লেখা হত।
50. মানুষ নিজেদের যে-কোনো পরিবেশে মানিয়ে নিতে পেরেছে তার—
(a) চলাফেরার জন্য,
(b) আদবকায়দার জন্য,
(c) সংস্কৃতির জন্য,
(d) বাসস্থানের জন্য।
উত্তর- সংস্কৃতির জন্য
51. ভারতীয় উপমহাদেশের সব থেকে পুরোনো পাথরের অস্ত্র পাওয়া গেছে—
(a) কাশ্মীরের সোয়ান উপত্যকায়,
(b) কর্ণাটকের হুন্সগি উপত্যকায়,
(c) মধ্যপ্রদেশের নর্মদা উপত্যকায়,
(d) মহারাষ্ট্রের নেভাসাতে।
উত্তর- কর্ণাটকের হুন্সগি উপত্যকায়
52. ভীমবেটকা বিখ্যাত -
(a) গুহায় আঁকা ছবির, (b) কৃষিকাজের,
(c) পশুপালনের, (d) কারিগরি শিল্পের জন্য।
উত্তর- গুহায় আঁকা ছবির জন্য
53. মহেন-জো-দাড়ো কথার অর্থ -
(a) অগ্নিস্তূপ, (b) মৃতের স্তূপ,
(c) কাঠের স্তূপ, (d) বন্দর।
উত্তর- মৃতের স্থান।
54. সবচেয়ে বড়ো স্নানাগার দেখতে পাওয়া যায় -
(a) হরপ্পায়, (b) মেহেরগড়ে,
(c) মহেন-জো-দারোয়, (d) হুন্সগিতে।
উত্তর- মৃতের স্তূপ
55. হোমো হাবিলিস-এর অর্থ
____ মানুষ।
উত্তর- দক্ষ
56. বেমানান শব্দটি খুঁজে বের করো: কর্ণাটক, আফ্রিকা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান।
উত্তর- রাজস্থান
57. আদিম মানুষের প্রথম ও সর্বশেষ গৃহপালিত পশুর নাম কী?
উত্তর- কুকুর ও গরু।
58. এপ কাদের বলা হয়?
উত্তর- লেজবিহীন বড়ো বানরকে।
59. আলতামিরা গুহাটি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর- স্পেনে
60. মেহেরগড় সভ্যতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর- কৃষিকাজ ও পশুপালন।
61. কোন সভ্যতায় সূক্ষ্ম ওজন মাপার বাটখারার প্রচলন ছিল?
উত্তর- সিন্ধু সভ্যতায়
62. হরপ্পা সভ্যতায় জলপথে যাতায়াতের সুবিধা ছিল কেন?
উত্তর- নদীপথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও মাল পরিবহনের সুবিধা ছিল।
63. মহেন-জো-দাড়োর নীচু এলাকায় অন্তত কটি কুয়ো ছিল?
উত্তর- মহেন-জো-দাড়োর নীচু এলাকায় অন্তত ৭০টি কুয়ো ছিল।
64. পুরোনো পাথরের যুগের মানুষ ছিল -
(a) গুহাবাসী, (b) গৃহবাসী,
(c) শহরবাসী।
উত্তর- গুহাবাসী।
65. লক্ষ লক্ষ বছর ধরে আদিম মানুষ হাতিয়ার বানাত -
(a) লোহা, (b) তামা,
(c) পাথর দিয়ে।
উত্তর- পাথর দিয়ে।
66. একটি নদীমাতৃক সভ্যতার নাম লেখো।
উত্তর- হরপ্পা সভ্যতা।
67. মাঝের পাথরের যুগে হাতিয়ারের কী পরিবর্তন হয়েছিল?
উত্তর- মাঝের পাথরের যুগে ছোট ও ধারালো পাথরের হাতিয়ার তৈরি হয়।
68. মেহেরগড় কোথায় অবস্থিত?
উত্তর- মেহেরগড় পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে অবস্থিত।
69. চাকা আবিষ্কার হয়-
(a) প্রাচীন প্রস্তর যুগে,
(b) মধ্য প্রস্তর যুগে,
(c) নব্য প্রস্তর যুগে।
উত্তর- নব্য প্রস্তর যুগে।
70. বেমানান শব্দটির তলায় দাগ দাও: তামা, কাঁসা, পাথর, লোহা।
উত্তর- লোহা
71. নর্মদা উপত্যকার আদমগড়ে কোন্ কোন্ পশুর হাড় মিলেছে?
উত্তর- বুনো শুয়োর, হাতি, হরিণ, ষাঁড়।
72. হরপ্পা সভ্যতার মানুষ কোন্ ধাতুর ব্যবহার জানত না?
উত্তর- লোহার ব্যবহার জানত না।
73. কোথায় কাঠের লাঙলের ফলার দাগ পাওয়া গেছে?
উত্তর- কালিবঙ্গানে
74. 'লোথাল' শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর- মৃতের স্তূপ।
75. দয়ারাম সাহানি কেন ইতিহাস খ্যাত?
উত্তর- হরপ্পা সভ্যতা আবিষ্কারের জন্য।
76. আদিম মানুষ বস্ত্র হিসেবে প্রথমে কী কী ব্যবহার করত?
উত্তর- গাছের ছাল, পশুর চামড়া, পাতা।
78. সিন্ধুলিপির সঙ্গে কোন্ ভাষার মিল পাওয়া যায়?
উত্তর- দ্রাবিড়
79. আদিম মানুষের প্রথম হাতিয়ার ছিল
(a) ভোঁতা পাথর, (b) হালকা ছুঁচোলো পাথর,
(c) পাথরের কুঠার,
(d) পাথরের কাস্তে।
উত্তর- ভোঁতা পাথর।
80. আদিম মানুষের প্রথম রান্না করা খাবার হল
(a) পোড়া মাংস, (b) সেদ্ধ মাংস,
(c) কাঁচা মাংস, (d) রোদে শুকানো মাংস।
উত্তর- পোড়া মাংস
81. প্রথম সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারা মানুষ হল-
(a) অস্ট্রালোপিথেকাস, (b) হোমো হাবিলিস,
(c) হোমো ইরেকটাস, (d) হোমো স্যাপিয়েন্স।
উত্তর- হোমো ইরেকটাস
82. মেহেরগড়ে মৃতদেহকে সমাধি দেওয়া হত
(a) লাল কাপড়, (b) চাদর,
(c) শাল, (d) সাদা কাপড় জড়িয়ে।
উত্তর- লাল কাপড় জড়িয়ে।
83. সভ্যতার সবচেয়ে বড়ো মাপকাঠি কী?
উত্তর- স্থায়ী বসতি, কৃষিকাজ, উন্নত কারিগরি শিল্প, লিপি।
84. আদিম মানুষ জোট বেঁধেছিল কেন?
উত্তর- আদিম মানুষ শিকার ও আত্মরক্ষার জন্য জোট বেঁধেছিল।
85. জোটবাঁধার কী সুফল হয়েছিল বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর- জোটবাঁধার ফলে তারা দলবদ্ধভাবে শিকার করতে পারত, বন্য জন্তুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেত, এবং খাদ্য সংগ্রহে সুবিধা হত।
86. হরপ্পার লোকজন কেমন পোশাক পরত?
উত্তর- সুতি ও পশমের বস্ত্র।
87. হরপ্পা সভ্যতায় কোথায় ধান চাষের চিহ্ন পাওয়া গেছে?
উত্তর- গুজরাটের রংপুর ও লোথালে।
88. কোন নগরের 'সিটাডেল' এলাকায় একটি জলাধার দেখতে পাওয়া যায়?
উত্তর- ঢোলাভিরা নগরে।
89. কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের নাম লেখো?
উত্তর- হরপ্পা, মহেঞ্জোদাড়ো, ঢোলাভিরা, কুনতাসি, চানহুদাড়ো, বানাওয়ালি, লোথাল, সুরকোটাডা।
90. প্রায়
________ বর্গ কিলোমিটার জুড়তে ছড়িয়ে ছিল হরপ্পা সভ্যতা।
উত্তর- ৭০০০০০
91. কোন সময় কালকে হরপ্পা সভ্যতার উন্নতির সময় কাল হিসাবে ধরা হয়?
উত্তর- খ্রিস্টপূর্ব 2600 অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব 1800 অব্দ পর্যন্ত।
92. হরপ্পা সভ্যতার সময়কালটি লেখো?
উত্তর- খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দ পর্যন্ত।
93. কে প্রথম হরপ্পা সভ্যতা অঞ্চলে খোঁড়াখুঁড়ি করে কিছু জিনিসপত্র পেয়েছিলেন?
উত্তর- 1850 সালে আলেকজান্ডার কানিংহাম।
94. সিন্ধু সভ্যতাকে হরপ্পা সভ্যতা বলা হয় কেন?
উত্তর- সিন্ধু উপত্যকার বাইরেও অনেকগুলো কেন্দ্রের খোঁজ পাওয়া যায়। আর হরপ্পা কেন্দ্রটি ছিল সবথেকে বড় এবং প্রথম আবিষ্কৃত। তাই এই সভ্যতাকে সিন্ধু সভ্যতা না বলে হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়।
95. হরপ্পার মৃত দেহকে কেমন ভাবে সমাধি দেওয়া হতো?
উত্তর- i) হরপ্পায় মৃত দেহকে মাথা উত্তর দিকে করে রাখা হতো।
ii) সমাধির ভেতরে তাঁর ব্যবহৃত গয়না ও মাটির পাত্র রাখা হতো।
96. কোথায় ইটের তৈরি সমাধি পাওয়া গেছে?
উত্তর- কালিবঙ্গানে।
97. লোথাল কথাটির অর্থ কী?
উত্তর- মৃতের স্থান।
98. কোথায় বোতাম আকারের সিলমোহর পাওয়া গেছে?
উত্তর- লোথালে।
99. হরপ্পা সভ্যতার লিপি কোন দিক থেকে কোন দিকে লেখা হতো?
উত্তর- ডান দিক থেকে বাঁ দিকে।
100. হরপ্পা সভ্যতার প্রধান জীবিকা কি ছিল?
উত্তর- কৃষি।
101. হরপ্পা সভ্যতার প্রধান বন্দরের নাম কি?
উত্তর- লোথাল।
102. হরপ্পা সভ্যতার রাস্তাগুলি কেমন ছিল?
উত্তর- চওড়া এবং সোজা, যা একে অপরকে সমকোণে ছেদ করত।
103. কোন নদীর তীরে হরপ্পা সভ্যতা গড়ে উঠেছিল?
উত্তর- সিন্ধু নদ ও তার উপনদীগুলির তীরে।
104. হরপ্পা সভ্যতায় ব্যবহৃত শিলগুলির আকার কেমন ছিল?
উত্তর- প্রায় বর্গাকার।
105. মেহেরগড় সভ্যতার সময়কাল আনুমানিক কত ছিল?
উত্তর- খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০ থেকে ২০০০ অব্দ পর্যন্ত।
106. হরপ্পা সভ্যতায় কোন কোন পশুর মূর্তি পাওয়া গেছে?
উত্তর- ষাঁড়, হাতি, গন্ডার, বাঘ।
107. হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীরা কি ধরনের অলংকার ব্যবহার করত?
উত্তর- সোনা, রুপা, তামা, এবং বিভিন্ন ধরনের পাথরের তৈরি অলংকার।
108. সিন্ধু নদের উপনদীগুলির নাম লেখো।
উত্তর- ঝিলাম নদী, চন্দ্রভাগা নদী (চেনাব), ইরাবতী নদী (রাভি), বিপাশা নদী (বিয়াস), শতদ্রু নদী (সাতলুজ)

.png)