সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস বিষয়ের প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের সম্ভাব্য প্রশ্নাবলী
ক) প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দাও।
প্রশ্নের মান 5 নং
১) পাল যুগের সঙ্গে সেন যুগের পার্থক্য লেখ।
২) পাল ও সেন যুগে বাংলার শিল্প, স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
৩) ইসলাম ধর্মের প্রচারের আগে আরব দেশের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
৪) ত্রিশক্তি সংগ্রাম কী? এরপর বাংলায় কোন বংশের রাজত্ব শুরু হয়? মহম্মদ ঘুরি কবে মারা যান?
৫) শশাঙ্কের কৃতিত্বের পরিচয় দাও।
৬) বঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গের নামকরণের ইতিহাস লেখো।
৭) পাল ও সেন যুগে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন ছিল ?
৮) ত্রিশক্তি সংগ্রাম সম্পর্কে যা জানো লেখো।
৯) শশাঙ্কের সঙ্গে বৌদ্ধদের সম্পর্ক কেমন ছিল, সেই বিষয়ে তোমার মতামত দাও।
১০) মাৎস্যন্যায় বলতে কি বোঝো? পাল বংশের শাসকদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
১১) ভালো সেন যুগের সমাজ ও ধর্মের পরিচয় দাও।
১২) শশাঙ্কের আমলে বাংলার আর্থিক অবস্থা কেমন ছিল?
১৩) ভারতের সামন্ত ব্যবস্থা সংক্ষিপ্ত ধারণা দাও।
১৪) নালন্দা মহাবিহার এর পরিচয় দাও।
১৫) কর্ণসুবর্ণ নগর সম্পর্কে আলোচনা করো।
১৬) চোল শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে লেখো।
১৭) দক্ষিণ ভারতে চোল শক্তির উত্থানের পটভূমি বিশ্লেষণ করো।
খ) প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দাও।
প্রশ্নের মান ৩ নং
১)
২)
৩)
নিচে উত্তরগুলো দেওয়া হলো:
ক)
১) পাল যুগের সঙ্গে সেন যুগের পার্থক্য:
পাল যুগ:
ক) এই যুগের শাসকেরা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।
খ) এই সময় বাংলার শিল্প ও স্থাপত্যে বৌদ্ধ প্রভাব দেখা যায়।
গ) এই যুগের শাসন ব্যবস্থা ছিল তুলনামূলকভাবে উদার।
ঘ) এই সময় বাংলার অর্থনীতি ছিল কৃষি ও বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল।
সেন যুগ:
ক) এই যুগের শাসকেরা ছিলেন হিন্দু ধর্মের অনুসারী।
খ) এই সময় বাংলার শিল্প ও স্থাপত্যে হিন্দু প্রভাব দেখা যায়।
গ) এই সময় বর্ণভেদ প্রথা কঠোর ছিল।
ঘ) এই সময় সমাজে ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
২) পাল ও সেন যুগে বাংলার শিল্প, স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
পাল যুগ:
ক) এই যুগে বৌদ্ধ বিহার ও স্তূপ নির্মিত হয়।
খ) ভাস্কর্যে পাল শৈলীর বিকাশ ঘটে।
গ) নালন্দা ও বিক্রমশীলার মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
সেন যুগ:
ক) এই যুগে হিন্দু মন্দির ও মূর্তি নির্মিত হয়।
খ) ভাস্কর্যে সেন শৈলীর বিকাশ ঘটে।
গ) সাহিত্য ও দর্শনের চর্চা বৃদ্ধি পায়।
৩) ইসলাম ধর্মের প্রচারের আগে আরব দেশের সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
ক) ইসলামের পূর্বে আরব ছিল বিভিন্ন উপজাতিতে বিভক্ত।
খ) তাদের মধ্যে ক্রমাগত যুদ্ধ বিগ্রহ লেগেই থাকত।
গ) এই সময় কাবা ছিল তাদের প্রধান ধর্মীয় স্থান।
ঘ) এই সময় বাণিজ্য ছিল তাদের প্রধান জীবিকা।
৪) কনৌজ অধিকারকে কেন্দ্র করে পাল প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূট এই তিন শক্তির মধ্যে যে সংঘর্ষ হয়েছিল তাই ত্রিশক্তি সংগ্রাম নামে পরিচিত।
ত্রিশক্তি সংগ্রামের পর বাংলায় পাল বংশের রাজত্ব শুরু হয়।
১২০৬ খ্রিস্টাব্দে মহম্মদ ঘুরি মারা যান।
৫) শশাঙ্কের কৃতিত্বের পরিচয়:
ক) শশাঙ্ক ছিলেন গুপ্ত পরবর্তী বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা।
খ) তিনি গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
গ) তিনি উত্তর ভারতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ঘ) তিনি তার রাজ্যকে শক্তিশালী করে তুলেছিলেন।
৬) বঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গের নামকরণের ইতিহাস:
ক) প্রাচীনকালে এই অঞ্চল বঙ্গ নামে পরিচিত ছিল।
খ) ব্রিটিশ শাসনামলে এই অঞ্চল বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি নামে পরিচিত হয়।
গ) দেশভাগের পর এই অঞ্চলের পশ্চিম অংশ পশ্চিমবঙ্গ নামে পরিচিত হয়।
৭) পাল ও সেন যুগে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা:
ক) পাল যুগ: এই সময় বাংলার অর্থনীতি ছিল কৃষি ও বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল। অভ্যন্তরীণ ও বহির্বাণিজ্য উন্নত ছিল।
খ) সেন যুগ: এই সময়ও বাংলার অর্থনীতি কৃষি ও বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল ছিল। তবে, এই সময় সামন্তবাদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
৮) ত্রিশক্তি সংগ্রাম: কনৌজ অধিকারকে কেন্দ্র করে পাল প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূট এই তিন শক্তির মধ্যে যে সংঘর্ষ হয়েছিল তাই ত্রিশক্তি সংগ্রাম নামে পরিচিত।
৯) শশাঙ্কের সঙ্গে বৌদ্ধদের সম্পর্ক:
ক) শশাঙ্ক ছিলেন শৈব ধর্মের অনুসারী।
খ) বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি তার বিদ্বেষ ছিল বলে জানা যায়। জানা যায় তিনি বোধি বৃক্ষ কেটে ফেলে ছিলেন।
গ) তবে, ঐতিহাসিকদের মধ্যে এই বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
১০) ক) মাৎস্যন্যায়: সপ্তম শতকের মধ্যভাগে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় এক অরাজকতার সৃষ্টি হয়। এই সময় বড় মাছ যেমন ছোটো মাছকে খেয়ে ফেলে, তেমনই শক্তিশালীরা দুর্বলদের ওপর অত্যাচার করত। এই অরাজকতাই মাৎস্যন্যায় নামে পরিচিত।
খ) পাল বংশের শাসকদের সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
* গোপাল ছিলেন পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
* ধর্মপাল ও দেবপাল ছিলেন এই বংশের উল্লেখযোগ্য শাসক।
* মহীপাল ছিলেন পাল বংশের শেষ উল্লেখযোগ্য শাসক।
১১) সেন যুগের সমাজ ও ধর্ম:
ক) সমাজ: সেন যুগে বর্ণভেদ প্রথা কঠোর ছিল। ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
খ) ধর্ম: সেন শাসকেরা ছিলেন হিন্দু ধর্মের অনুসারী। এই সময় হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা প্রচলিত ছিল।
১২) শশাঙ্কের আমলে বাংলার আর্থিক অবস্থা:
ক) শশাঙ্কের আমলে বাংলার অর্থনীতি ছিল সমৃদ্ধ।
খ) কৃষি ও বাণিজ্য ছিল অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি।
গ) এই সময় বাংলার অভ্যন্তরীণ ও বহির্বাণিজ্য উন্নত ছিল।
১৩) ভারতের সামন্ত ব্যবস্থা:
ক) সামন্ত ব্যবস্থা ছিল মধ্যযুগের ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।
খ) এই ব্যবস্থায় ভূমি ছিল ক্ষমতার প্রধান উৎস।
গ) রাজা তার অধীনস্থ সামন্তদের ভূমি প্রদান করতেন।
ঘ) সামন্তরা রাজার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতেন এবং প্রয়োজনে সৈন্য সরবরাহ করতেন।
১৪) নালন্দা মহাবিহার:
ক) নালন্দা মহাবিহার ছিল প্রাচীন ভারতের একটি বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
খ) এটি গুপ্ত যুগে প্রতিষ্ঠিত হয়।
গ) এখানে বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শনের চর্চা হতো।
ঘ) দেশ বিদেশ থেকে বহু ছাত্র এখানে শিক্ষা গ্রহণ করতে আসতেন।
১৫) কর্ণসুবর্ণ নগর:
ক) কর্ণসুবর্ণ ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী।
খ) এটি শশাঙ্কের রাজধানী ছিল।
গ) বর্তমানে এই নগরীর ধ্বংসাবশেষ মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থিত।
১৬) চোল শাসনব্যবস্থা:
ক) চোল শাসনব্যবস্থা ছিল একটি শক্তিশালী রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা।
খ) রাজা ছিলেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।
গ) প্রশাসনকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়েছিল।
ঘ) স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল।
১৭) দক্ষিণ ভারতে চোল শক্তির উত্থানের পটভূমি:
ক) দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে চোল শক্তির উত্থান ঘটে।
খ) চোল শাসকেরা শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলেন।
গ) তারা দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল জয় করে একটি বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
ঘ) তাদের দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা তাদের সাম্রাজ্য বিস্তারে সাহায্য করেছিল।
খ)
১)
২)
৩)
১) মিনিয়েচার কী ?
খ্রিস্টীয় একাদশ - দ্বাদশ শতকের বৌদ্ধ ধর্মের পান্ডুলিপি অলংকরণ করার জন্য যে সব ছোটো ছোটো ছবিগুলি আঁকা হতো তার থেকেও সূক্ষ্ম রেখাময় যে সব চিত্রগুলি মুঘল আমলে বইয়ের পৃষ্ঠা সাজাতে ব্যবহৃত হতো সেগুলিকে মিনিয়েচার বা অনুচিত্র বলা হয়।
২) পাল আমলের বৌদ্ধস্তূপগুলি দেখতে কেমন ছিল ?
= পাল আমল ছিল গুপ্ত যুগের শিল্পরীতির উত্তরসূরি। এই সময় প্রাচীন ভারতে বৌদ্ধরা বহুস্তুপ তৈরি করেছিলেন। এগুলো প্রথম দিকে অনেকটা গোলাকার দেখতে ছিল এবং পরবর্তি কালে অনেকটা মোচার খোলার মতো শুধু আকৃতির হয়ে পড়ে।
৩) ব্রহ্মদেয় কী ?
= দক্ষিন ভারতে চোল রাজারা অনেক সময় কৃষিজমির পরিমান বাড়ানোর জন্য ব্রাহ্মণদের জমিদান করতেন যা থেকে তারা কোনো রকম কর নিতেন না । এই জমিদানের ব্যবস্থাকে ব্রহ্মদেয় ব্যবস্থা বলে ।
৪) টিকা লেখো : বিক্রমশীল মহাবিহার ।
পাল সম্রাট ধর্মপাল খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকে মগধের উত্তর ভাগে গঙ্গার তীরে আধুনিক ভাগলপুর শহরের কাছে এই মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । ৫০০ বছর এটি টিকে ছিল । এখানে বৌদ্ধ ধর্মচর্চা ও শিক্ষার জন্য ১০০ জনের আচার্য ছিলেন । এখানে সর্বমোট তিন হাজার ছাত্রকে বিনা খরচে ব্যাকরণ , তর্কশাস্ত্র , দর্শন ইত্যাদি বিষয় পড়ানো হতো । প্রবেশিকা পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা শেষে উপাধী দানের ব্যাবস্থা ছিল । এটি ছিল বজ্রযান বৌদ্ধ মতচর্চার একটি বড়ো কেন্দ্র । অতীশ দীপঙ্কর ছিলে এখানের এক অন্যতম মহাচার্য । তুর্কি অভিযানে এটি ধবংস হয়ে যায় ।
৫) টীকা লেখো: নালন্দা মহাবিহার
খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকে বিহারে সম্ভবত গুপ্ত সম্রাটদের আমলে নালন্দা বৌদ্ধবিহার তৈরি হয়েছিল। হর্ষবর্ধন এবং পাল রাজাদের সাহায্যের পাশাপাশি স্থানীয় রাজা, জমির মালিক এবং সুমাত্রা দ্বীপের শাসকেরও দান পাওয়া গিয়েছিল। কঠিন প্রবেশিকা পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়ে দেশি ও বিদেশি ছাত্ররা বিনা পয়সায় খাবার, জামাকাপড়, শয্যাদ্রব্য, ওষুধ পত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা সুযোগ পেত। চিনের ছাত্রদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকত। হিউয়েন সাঙ এই বিহারে শিক্ষালাভ করেন। এখানে ১৫০০ জন শিক্ষক ও ৮৫০০ জন ছাত্র থাকত। তুর্কি আক্রমণে এই মহাবিহারের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
৬) চর্যাপদ কী? এর রচয়িতা কারা?
চর্যাপদ হলো খ্রিস্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতকে লেখা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের কবিতা ও গানের সংকলন। এখানে যে ভাষা রয়েছে তা আদি বাংলা ভাষার নিদর্শন।
এর রচয়িতা দালান লুইপাদ, সবর পাল, কাহ্ন পাদ, ভুসুকু পাদ প্রমুখ বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা।
৭) রাজা বল্লালসেন স্মরণীয় কেন?
বল্লাল সেন ছিলেন বিজয় সেনের পুত্র বা পরবর্তী পাল সেন শাসক। যিনি গোবিন্দপালকে পরাস্ত করেছিলেন। তার আক্রমণে পাল রাজত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি সমাজ সংস্কারে রক্ষণশীল ও গোঁড়া ব্রাহ্মণ্য আচার আচরণকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি কৌলিন্য প্রথা প্রচলন করেন।
৮) টীকা লেখ: অতীশ দীপঙ্কর
বাঙালি বৌদ্ধ আচার্যদের মধ্যে সবথেকে বিখ্যাত এবং শ্রেষ্ঠ পন্ডিত ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর। তিনি ব্রাহ্মণ্য মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন না বলে তাঁর বাড়ি 'নাস্তিক পন্ডিতের ভিটা' নামে পরিচিত। ওদন্তপুরী বিহারে আচার্য শীলরাক্ষিতের কাছে তিনি দীক্ষা নেন। সম্ভবত তিনি বিক্রমশীল, ওদন্তপুরী ও সোমপুরী মহাবিহারে আচার্য ও অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি দুর্গম হিমালয় পার করে তিব্বতে মহাযান বৌদ্ধধর্ম প্রচার করেন। তিনি অনেক সংস্কৃত গ্রন্থ ভোট ভাষায় অনুবাদ করেন। তিনি তিব্বতে বুদ্ধের অবতার হিসাবে পূজিত হন। তিব্বতের রাজধানী লাসার কাছে তাঁর সমাধিস্থান পবিত্র তীর্থক্ষেত্র।
৯) গৌড়তন্ত্র বলতে কী বোঝ?
শশাঙ্কের শাসন কালে গৌড়ে যে ব্যাবস্থা গড়ে উঠেছিল তাকে বলা হয় গৌড়তন্ত্র। এই ব্যবস্থায় রাজ্যের কর্মচারী বা আমলারা একটা নির্দিষ্ট শাসন প্রণালী গড়ে তুলেছিল। আগে যা ছিল গ্রামের স্থানীয় লোকের কাজ শশাঙ্কের সময় সেই কাজে প্রশাসনও হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে।
১০) পঞ্চরত্ন সম্পর্কে যা জানো লেখো।
সেন যুগে লক্ষণ সেনের রাজসভায় বিখ্যাত সাহিত্যিক কবি জয়দেব ছিলেন, যিনি রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের কাহিনি নিয়ে গীতগোবিন্দম্ রচনা করেন। কবি ধোয়ী পবনদূত কাব্য লেখেন। এছাড়াও আরো তিনজন বিখ্যাত কবি ছিলেন গোবর্ধন, উমাপতিধর এবং শরণ। এই পাঁচ জন কবিদের একসঙ্গে পঞ্চরত্ন বলা হয়।
১১) টীকা লেখো: চক্রপাণিদণ্ড
চক্রপাণিদত্ত ছিলেন পাল যুগের একজন নামকরা চিকিৎসা-বিজ্ঞানী। তাঁর বাড়ি ছিল সম্ভবতে বীরভূম জেলায়। প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত চিকিৎসা-বিজ্ঞানী চরক ও সুশ্রুতের রচনার উপর তিনি টীকা লেখেন। এছাড়া ভেষজ গাছ-গাছড়া, ওষুধ ও ওষুধের উপাদান, পথ্য নিয়েও তিনি বই লেখেন। তাঁর লেখা সেরা বই হলো চিকিৎসা-সংগ্রহ।
১২) শশাঙ্ক ছিলেন সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভে গৌড়ের রাজা। তিনি ছিলেন প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে একজন গুরুত্বপূর্ণ শাসক। শশাঙ্কের কৃতিত্বগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা: শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম উল্লেখযোগ্য রাজা যিনি বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলকে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। তিনি গৌড়, মগধ এবং উড়িষ্যার কিছু অংশ সহ একটি বিস্তৃত অঞ্চল শাসন করতেন।
২. রাজনৈতিক বিচক্ষণতা: শশাঙ্ক ছিলেন একজন দক্ষ প্রশাসক এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতাসম্পন্ন শাসক। তিনি তার রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করেছিলেন।
৩. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: শশাঙ্ক তার রাজ্যের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি কৃষি, বাণিজ্য এবং শিল্পের উন্নয়নে মনোযোগ দিয়েছিলেন, যার ফলে তার রাজ্যের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।
৪. ধর্মীয় সহনশীলতা: শশাঙ্ক ছিলেন একজন শৈব রাজা, তবে তিনি অন্যান্য ধর্ম বিশেষ করে বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি তার রাজ্যে ধর্মীয় সহনশীলতা বজায় রেখেছিলেন।
৫. হর্ষবর্ধনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: শশাঙ্ক কনৌজের শাসক হর্ষবর্ধনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, যা তার রাজনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দেয়।
শশাঙ্কের কৃতিত্বের কারণে তিনি প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছেন।
অথবা,
শশাঙ্ক ছিলেন সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভে গৌড়ের রাজা। তার কৃতিত্বগুলো হলো:
* বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলকে একত্রিত করে শক্তিশালী রাজ্য প্রতিষ্ঠা।
* দক্ষ প্রশাসক এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয়।
* কৃষি, বাণিজ্য ও শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়ন।
* ধর্মীয় সহনশীলতা বজায় রাখা।
* হর্ষবর্ধনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
১৩) শশাঙ্ক ছিলেন সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভে গৌড়ের রাজা। তাঁর শাসনামলে বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি তাঁর মনোভাব নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন যে তিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি বিদ্বেষী ছিলেন, আবার অনেকে মনে করেন যে তিনি ধর্মীয় সহনশীলতা বজায় রেখেছিলেন।
বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি শশাঙ্কের কথিত বিদ্বেষের কারণ:
* শশাঙ্ক ছিলেন শৈব ধর্মের অনুসারী। তাই, কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন যে তিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি বৈরী মনোভাব পোষণ করতেন।
* চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং-এর লেখায় শশাঙ্কের বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি অত্যাচারের কিছু বিবরণ পাওয়া যায়। যেমন, তিনি কুশীনগরের বৌদ্ধ বিহার থেকে বৌদ্ধদের তাড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং বৌদ্ধ ধর্ম ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিলেন।
* বানভট্ট তাঁর 'হর্ষচরিত' গ্রন্থে শশাঙ্ককে 'গৌড়ভুজঙ্গ' বা 'গৌড়াধম' বলে অভিহিত করেছেন।
শশাঙ্কের ধর্মীয় সহনশীলতার প্রমাণ:
* হিউয়েন সাং-এর বিবরণীতে শশাঙ্কের রাজ্যে বহু বৌদ্ধ বিহার ও ভিক্ষুর উপস্থিতির কথা উল্লেখ রয়েছে। যদি শশাঙ্ক সত্যিই বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি বিদ্বেষী হতেন, তাহলে এই বিহার ও ভিক্ষুদের অস্তিত্ব থাকত না।
* কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন যে, হিউয়েন সাং এবং বানভট্ট ছিলেন হর্ষবর্ধনের অনুগামী, এবং হর্ষবর্ধন ছিলেন শশাঙ্কের প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই, তাদের লেখা পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে।
* আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, শশাঙ্কের শাসনামলে বৌদ্ধ ধর্মের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি।
উপসংহার:
শশাঙ্কের বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি মনোভাব নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও, এটা স্পষ্ট যে তিনি একজন শক্তিশালী শাসক ছিলেন। তাঁর শাসনামলে গৌড় একটি শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত হয়েছিল।
১৪) ভারতের সামন্ত ব্যবস্থা বলতে মূলত মধ্যযুগে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কাঠামোকে বোঝায়। এই ব্যবস্থায় জমি ছিল ক্ষমতার মূল উৎস। রাজা বা সম্রাটের অধীনে বিভিন্ন স্তরের সামন্ত শাসক ছিলেন, যারা জমির মালিকানা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ভোগ করতেন।
সামন্ত ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য:
* জমিভিত্তিক ক্ষমতা:
* এই ব্যবস্থায় জমি ছিল ক্ষমতার প্রধান উৎস। রাজা বা সম্রাট জমি দান করতেন সামন্তদের, যারা সেই জমির রাজস্ব আদায় এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতেন।
* স্তরায়িত সমাজ:
* সামন্ত ব্যবস্থায় সমাজ ছিল স্তরায়িত। রাজা ছিলেন শীর্ষে, এবং তার নিচে বিভিন্ন স্তরের সামন্ত শাসক, যেমন মহাসামন্ত, সামন্ত, এবং ক্ষুদ্র সামন্তরা ছিলেন।
* সাধারণ কৃষক এবং ভূমিদাসরা ছিলেন সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে।
* রাজনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ:
* সামন্ত ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় রাজার ক্ষমতা সীমিত ছিল। সামন্তরা তাদের নিজ নিজ অঞ্চলে প্রায় স্বাধীনভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
* অর্থনৈতিক ব্যবস্থা:
* কৃষি ছিল অর্থনীতির মূল ভিত্তি। সামন্তরা কৃষকদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করতেন।
* বাণিজ্য এবং শিল্প তেমন উন্নত ছিল না।
* সামরিক ব্যবস্থা:
* সামন্তরা তাদের নিজস্ব সামরিক বাহিনী রাখতেন, যা প্রয়োজনে রাজাকে সরবরাহ করতেন।
* এই ব্যবস্থায় ভূমিদাস প্রথা প্রচলিত ছিল।
সামন্ত ব্যবস্থার প্রভাব:
* এই ব্যবস্থা ভারতীয় সমাজের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কাঠামোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
* রাজনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের কারণে কেন্দ্রীয় রাজার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
* কৃষকদের উপর সামন্তদের শোষণ অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি করেছিল।
* তবে, এই ব্যবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ে শাসনকার্য পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
অথবা,
ভারতের সামন্ত ব্যবস্থা বলতে মূলত মধ্যযুগে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কাঠামোকে বোঝায়। এই ব্যবস্থায় জমি ছিল ক্ষমতার মূল উৎস। রাজা বা সম্রাটের অধীনে বিভিন্ন স্তরের সামন্ত শাসক ছিলেন, যারা জমির মালিকানা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ভোগ করতেন।
সামন্ত ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য:
* জমিভিত্তিক ক্ষমতা: এই ব্যবস্থায় জমি ছিল ক্ষমতার প্রধান উৎস। রাজা বা সম্রাট জমি দান করতেন সামন্তদের, যারা সেই জমির রাজস্ব আদায় এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতেন।
* স্তরায়িত সমাজ: সামন্ত ব্যবস্থায় সমাজ ছিল স্তরায়িত। রাজা ছিলেন শীর্ষে, এবং তার নিচে বিভিন্ন স্তরের সামন্ত শাসক, যেমন মহাসামন্ত, সামন্ত, এবং ক্ষুদ্র সামন্তরা ছিলেন। সাধারণ কৃষক এবং ভূমিদাসরা ছিলেন সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে।
* রাজনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ: সামন্ত ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় রাজার ক্ষমতা সীমিত ছিল। সামন্তরা তাদের নিজ নিজ অঞ্চলে প্রায় স্বাধীনভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
* অর্থনৈতিক ব্যবস্থা: কৃষি ছিল অর্থনীতির মূল ভিত্তি। সামন্তরা কৃষকদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করতেন। বাণিজ্য এবং শিল্প তেমন উন্নত ছিল না।
* সামরিক ব্যবস্থা: সামন্তরা তাদের নিজস্ব সামরিক বাহিনী রাখতেন, যা প্রয়োজনে রাজাকে সরবরাহ করতেন। এই ব্যবস্থায় ভূমিদাস প্রথা প্রচলিত ছিল।
১৫)
বাকি প্রশ্ন উত্তর শীঘ্রই আসছে।