প্রশ্ন: মোঘল স্থাপত্য শিল্পের বিবরণ দাও। ৫ নং এর প্রশ্ন
উত্তর: মুঘল স্থাপত্য শিল্প মূলত ১৬শ থেকে ১৮শ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশে সম্রাটদের রাজত্বকালে বিকাশ লাভ করেছিল। এটি ইসলামী স্থাপত্যের প্রভাব ও স্থানীয় ভারতীয় স্থাপত্যের সংমিশ্রণ। মুঘল স্থাপত্যকে আমরা সঙ্গীত, চিত্রকলা, বাগান এবং স্থাপত্যের একত্রিত রূপ হিসেবে দেখতে পাই।
বৈশিষ্ট্য:
১)উঁচু গম্বুজ ও মিনার – মুঘল স্থাপত্যে বড় বড় গম্বুজ এবং লম্বা মিনারের ব্যবহার দেখা যায়। যেমন– তাজমহল।
২) সিমেট্রি (সমমিতি) – মুঘল স্থাপত্যে প্রায় সবকিছু সমমিতি অনুযায়ী নকশা করা হয়।
৩) বাগান ও জলাধার – মুঘলরা প্রায়ই চার ভাগের বাগান (Charbagh) বানাতো, যেখানে জলাধার ও পাথরের চ্যানেল থাকত।
৪) মোটা ও সূক্ষ্ম নকশা – প্রাচীর, দরজা, এবং গম্বুজে সুন্দর খোদাই, পাথরের কাজ, ও মরক্কো বা জাফরানি পাথরের ইনলে (inlay) করা হতো।
৫) ইসলামী প্রভাব – মিনার, অর্নামেন্টাল তোরণ, কৌশিক নকশা এবং আরবেস্ক শৈলী লক্ষ্য করা যায়।
প্রখ্যাত স্থাপনাবলী:
তাজমহল (আগ্রা) – শ্বেত পাথরের মহত্ত্ব ও সুন্দরী গম্বুজের উদাহরণ।
লালকিলা (দিল্লি) – কংক্রিট ও লাল বালু পাথরের দারুণ উদাহরণ।
ফাতেপুর সিক্রি – প্রশাসনিক ও ধর্মীয় স্থাপনার মিশ্রণ।
জামা মসজিদ (দিল্লি) – বিশাল আয়তনের মসজিদ, সুন্দরের সঙ্গে ফাংশনাল।
উপসংহার:
মুঘল স্থাপত্য শিল্প শুধুমাত্র সৌন্দর্য ও শিল্পের প্রদর্শনী নয়, এটি ঐ সময়ের রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় চিন্তার প্রতিফলন। এতে স্থায়িত্ব, সৌন্দর্য ও সমমিতি—এই তিনটিরই মিল রয়েছে।
