1) মানব হৃদপিন্ডের একটি চিত্র অঙ্কন করে নিম্নলিখিত অংশগুলি চিহ্নিত করো-
ক) বাম অলিন্দ খ) বাম নিলয় গ) ফুসফুসীয় শিরা ঘ) মহাধমনী
উত্তরঃ একটি মানব হৃদপিণ্ডের ছবিতে সাধারণত চারটি প্রকোষ্ঠ থাকে: উপরে দুটি অলিন্দ (atrium) এবং নিচে দুটি নিলয় (ventricle)। হৃদপিণ্ডকে মাঝ বরাবর লম্বালম্বিভাবে একটি প্রাচীর দিয়ে ভাগ করা হয়, যা এটিকে বাম এবং ডান ভাগে বিভক্ত করে।
ক) বাম অলিন্দ (Left Atrium): এটি হৃদপিণ্ডের উপরের বাম দিকের প্রকোষ্ঠ। এই প্রকোষ্ঠে ফুসফুস থেকে বিশুদ্ধ রক্ত ফুসফুসীয় শিরা দিয়ে প্রবেশ করে।
খ) বাম নিলয় (Left Ventricle): এটি হৃদপিণ্ডের নিচের বাম দিকের প্রকোষ্ঠ এবং হৃদপিণ্ডের চারটি প্রকোষ্ঠের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। বাম অলিন্দ থেকে রক্ত এই নিলয়ে আসে এবং এখান থেকে মহাধমনীর মাধ্যমে বিশুদ্ধ রক্ত সারা দেহে পাম্প হয়।
গ) ফুসফুসীয় শিরা (Pulmonary Vein): এই শিরাগুলি ফুসফুস থেকে অক্সিজেন-সমৃদ্ধ রক্ত বাম অলিন্দে নিয়ে আসে। সাধারণত, চারটি ফুসফুসীয় শিরা থাকে (প্রতি ফুসফুস থেকে দুটি)। আপনার ছবিতে এই শিরাগুলিকে বাম অলিন্দের সাথে সংযুক্ত দেখাতে হবে।
ঘ) মহাধমনী (Aorta): এটি মানবদেহের বৃহত্তম ধমনী। এটি বাম নিলয় থেকে উৎপন্ন হয়ে একটি বড় বাঁক নিয়ে শরীরের উপরের এবং নিচের অংশে বিশুদ্ধ রক্ত সরবরাহ করে। আপনার ছবিতে মহাধমনীকে বাম নিলয় থেকে বেরিয়ে উপরের দিকে বাঁকানো অবস্থায় দেখাতে হবে।
2) দেহভর সূচক কাকে বলে? তোমার বন্ধুর দেহভর সূচক ২৮.৫ , তার শারীরিক অবস্থা কীরূপ বলে তোমার মনে হয়?
উত্তরঃ দেহভর সূচক (Body Mass Index - BMI) হলো একজন ব্যক্তির উচ্চতার সাপেক্ষে তার ওজনের একটি পরিমাপ। এটি কিলোগ্রাম (kg) এককে ওজন এবং মিটার (m) এককে উচ্চতার বর্গের অনুপাত দ্বারা গণনা করা হয়:
BMI= ওজন/ উচ্চতা ²
BMI স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি মূল্যায়নে একটি সহায়ক সূচক, যদিও এটি শরীরের চর্বি শতাংশ সরাসরি পরিমাপ করে না।
আপনার বন্ধুর শারীরিক অবস্থা:
আপনার বন্ধুর BMI 28.5। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর মানদণ্ড অনুযায়ী, BMI-এর নিম্নলিখিত শ্রেণীবিভাগ রয়েছে:
* 18.5 এর কম: কম ওজন (Underweight)
* 18.5 থেকে 24.9: স্বাভাবিক ওজন (Normal Weight)
* 25.0 থেকে 29.9: অতিরিক্ত ওজন (Overweight)
* 30.0 বা তার বেশি: স্থূল (Obese)
এই মানদণ্ড অনুসারে, আপনার বন্ধুর BMI 28.5 "অতিরিক্ত ওজন (Overweight)" শ্রেণীতে পড়ে। এর মানে হলো তার ওজন তার উচ্চতার সাপেক্ষে কিছুটা বেশি। এই অবস্থায় হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তাকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে একজন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
3) রক্তে উপস্থিত বিভিন্ন রক্তকণিকা গুলোর কাজগুলো লেখো।
উত্তরঃ রক্তে প্রধানত তিন ধরনের রক্তকণিকা থাকে, যাদের প্রত্যেকেরই নির্দিষ্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে:
ক) লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cells - RBCs / Erythrocytes):
এদের প্রধান কাজ হলো অক্সিজেন পরিবহন করা। লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক একটি লোহাযুক্ত প্রোটিন থাকে, যা ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং তা শরীরের প্রতিটি কোষে পৌঁছে দেয়।
১) এরা কার্বন ডাই অক্সাইডের একটি অংশকেও ফুসফুসে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
২) এদের দ্বি-অবতল আকৃতি এবং নিউক্লিয়াসবিহীন গঠন তাদের অক্সিজেন পরিবহনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী করে তোলে।
খ) শ্বেত রক্তকণিকা (White Blood Cells - WBCs / Leukocytes):
১) এদের প্রধান কাজ হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ করা। শ্বেত রক্তকণিকা হলো দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সৈনিক।
২) এরা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক জীবাণু ও পরজীবীগুলিকে চিহ্নিত করে এবং ধ্বংস করে।
৩) বিভিন্ন ধরণের শ্বেত রক্তকণিকা (যেমন নিউট্রোফিল, লিম্ফোসাইট, মনোসাইট, ইওসিনোফিল, বেসোফিল) সম্মিলিতভাবে কাজ করে শরীরের অনাক্রম্যতা (immunity) বজায় রাখে।
গ) অনুচক্রিকা (Platelets / Thrombocytes):
১) এদের প্রধান কাজ হলো রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা (Blood Clotting)। যখন রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন অনুচক্রিকাগুলো সেই স্থানে একত্রিত হয় এবং একটি প্লাগ তৈরি করে।
২) এরা রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে, যা রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে সাহায্য করে।
4) স্পর্শহীন বল কী? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ স্পর্শহীন বল হলো এমন এক প্রকার বল যা দুটি বস্তুর মধ্যে ক্রিয়া করে যখন তারা একে অপরের সংস্পর্শে থাকে না, অর্থাৎ তাদের মধ্যে কোনো ভৌত স্পর্শ থাকে না। এই বল একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের মাধ্যমে কাজ করে।
উদাহরণসহ ব্যাখ্যা:
* মহাকর্ষ বল (Gravitational Force): এটি দুটি বস্তুর মধ্যে তাদের ভরের কারণে ক্রিয়া করে। উদাহরণস্বরূপ, পৃথিবী সূর্যকে আকর্ষণ করে এবং চাঁদকে আকর্ষণ করে, যদিও তাদের মধ্যে সরাসরি কোনো স্পর্শ নেই। যখন আপনি একটি আপেল ছেড়ে দেন, তখন এটি পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের কারণে মাটিতে পড়ে। এটি সবচেয়ে পরিচিত স্পর্শহীন বল।
* চুম্বকীয় বল (Magnetic Force): এটি চুম্বক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত বস্তুর মধ্যে কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি চুম্বক লোহা বা নিকেল জাতীয় ধাতুকে আকর্ষণ করে, এমনকি যদি তাদের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব থাকে। দুটি চুম্বকের মেরু একে অপরের কাছাকাছি আনলে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ হয়, যা স্পর্শ ছাড়াই ঘটে।
* তড়িৎচুম্বকীয় বল (Electromagnetic Force): এটি চার্জযুক্ত কণার মধ্যে ক্রিয়া করে। যেমন, একটি চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর পর কাগজের ছোট টুকরোগুলোকে আকর্ষণ করতে পারে। এখানে চিরুনি এবং কাগজের মধ্যে কোনো স্পর্শ ছাড়াই বল কাজ করে। এই বল আলো, রেডিও তরঙ্গ এবং এক্স-রের মতো তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণের জন্যও দায়ী।
এই বলগুলো দূরত্বের সাথে তাদের শক্তি পরিবর্তন করে; সাধারণত, দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে এদের শক্তি কমে যায়।
5) খাদ্য শৃঙ্খল কী? একটি বনের খাদ্য শৃঙ্খল ছকের সাহায্যে দেখাও।
উত্তরঃ খাদ্য শৃঙ্খল হলো একটি বাস্তুতন্ত্রে শক্তি স্থানান্তরের একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একটি জীব অন্য একটি জীবকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং এই প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে। সহজ কথায়, কে কাকে খায় তার একটি ধারাবাহিকতা হলো খাদ্য শৃঙ্খল। এটি দেখায় কিভাবে শক্তি উৎপাদক থেকে বিভিন্ন শ্রেণীর খাদকদের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়।
একটি সাধারণ খাদ্য শৃঙ্খলে নিম্নলিখিত স্তরগুলি থাকে:
উৎপাদক (Producers): সাধারণত সবুজ উদ্ভিদ যারা সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় নিজেদের খাদ্য তৈরি করে (যেমন ঘাস, গাছপালা)। এরা খাদ্য শৃঙ্খলের ভিত্তি তৈরি করে।
* প্রাথমিক খাদক (Primary Consumers / Herbivores): যারা উৎপাদকদের খায় (যেমন হরিণ, খরগোশ, ফড়িং)।
* দ্বিতীয় শ্রেণীর খাদক (Secondary Consumers / Carnivores or Omnivores): যারা প্রাথমিক খাদকদের খায় (যেমন সাপ, শিয়াল)।
* তৃতীয় শ্রেণীর খাদক (Tertiary Consumers / Carnivores): যারা দ্বিতীয় শ্রেণীর খাদকদের খায় (যেমন বাজপাখি, বাঘ)।
* বিয়োজক (Decomposers): মৃত জীবদেহ ও বর্জ্য পদার্থ থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে এবং তাদের পচিয়ে পরিবেশে ফিরিয়ে দেয় (যেমন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক)। এরা খাদ্য শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরের সঙ্গেই সম্পর্কিত।
একটি বনের খাদ্য শৃঙ্খল ছকের সাহায্যে:
সূর্য (শক্তির মূল উৎস)
↓
[উৎপাদক] → ঘাস / ছোট গাছপালা (সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন করে)
↓
[প্রাথমিক খাদক] → হরিণ / খরগোশ / ফড়িং (ঘাস/গাছপালা খায়)
↓
[দ্বিতীয় শ্রেণীর খাদক] → শিয়াল / সাপ / ব্যাঙ (হরিণ/খরগোশ/ফড়িং খায়)
↓
[তৃতীয় শ্রেণীর খাদক] → বাঘ / বাজপাখি (শিয়াল/সাপ খায়)
↓
[বিয়োজক] → ব্যাকটেরিয়া / ছত্রাক (মৃত বাঘ/বাজপাখি বা অন্যান্য জীবের দেহাবশেষ পচিয়ে পুষ্টি পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়)
এই শৃঙ্খলটি দেখায় কিভাবে শক্তি সূর্য থেকে উৎপাদকের মাধ্যমে, তারপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন খাদক স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং অবশেষে বিয়োজকদের দ্বারা পরিবেশে ফিরে আসে।
জীবাশ্ম কিভাবে সৃষ্টি হয়?
জীবাশ্ম (fossils) সৃষ্টির প্রক্রিয়া একটি দীর্ঘ এবং জটিল ভূ-তাত্ত্বিক ঘটনা। এটি মূলত পাললিক শিলার মধ্যেই দেখা যায়।
* দ্রুত সমাধি (Rapid Burial): কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণী মারা যাওয়ার পর যদি দ্রুত পলি, বালি বা কাদার স্তরের নিচে চাপা পড়ে যায়, তাহলে তার দেহাবশেষ পচন থেকে রক্ষা পায়। বায়ুর অনুপস্থিতি এবং পলি দ্বারা আবৃত হওয়ার কারণে অণুজীব দ্বারা দেহের ক্ষয় ধীর গতিতে হয়।
* পাললিকীকরণ (Sedimentation): সময়ের সাথে সাথে পলি স্তরগুলো একের পর এক জমা হতে থাকে এবং উপরের স্তরের চাপে নিচের পলি স্তরগুলো সংকুচিত ও কঠিন হয়ে পাললিক শিলায় পরিণত হয়।
* প্রতিস্থাপন (Replacement) বা ছাঁচ গঠন (Mold/Cast Formation): চাপা পড়া উদ্ভিদ বা প্রাণীর কঠিন অংশ (যেমন - হাড়, দাঁত, গাছের কাণ্ড) ধীরে ধীরে খনিজ পদার্থ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। অনেক সময় মূল দেহ পচে গেলেও তার ছাপ বা ছাঁচ (mold) পাথরের মধ্যে থেকে যায়। পরবর্তীতে সেই ছাঁচে খনিজ পদার্থ জমে মূল দেহের একটি প্রতিকৃতি (cast) তৈরি হয়।
* ভূ-তাত্ত্বিক সময় (Geological Time): এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে লক্ষ লক্ষ বছর সময় লাগে। এভাবে ভূ-অভ্যন্তরে উচ্চ চাপ ও তাপের প্রভাবে সুসংরক্ষিত প্রাচীন উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ বা তাদের ছাপই হলো জীবাশ্ম।
উপযুক্ত উদাহরণসহ সংকর ধাতুর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ কর।
সংকর ধাতু হলো দুই বা ততোধিক ধাতুকে (অথবা একটি ধাতু ও একটি অধাতুকে) মিশ্রিত করে তৈরি নতুন ধাতু, যার ধর্ম উপাদান ধাতুগুলোর থেকে উন্নত বা ভিন্ন হয়। এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম কারণ:
* উন্নত শক্তি ও কাঠিন্য (Increased Strength and Hardness): বিশুদ্ধ ধাতু প্রায়শই তুলনামূলকভাবে নরম হয়। সংকর ধাতু করে তাদের শক্তি এবং কাঠিন্য অনেক বাড়ানো যায়, যা বিভিন্ন নির্মাণ কাজে অপরিহার্য।
* উদাহরণ: ইস্পাত (Steel) হলো লোহা ও কার্বনের সংকর ধাতু। বিশুদ্ধ লোহার চেয়ে ইস্পাত অনেক বেশি শক্তিশালী ও কঠিন, তাই এটি সেতু, ভবন, রেললাইন এবং গাড়ির কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
* ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি (Enhanced Corrosion Resistance): অনেক সংকর ধাতু বিশুদ্ধ ধাতুর তুলনায় জারণ বা মরিচা প্রতিরোধে সক্ষম হয়।
* উদাহরণ: স্টেইনলেস স্টিল (Stainless Steel) হলো লোহা, ক্রোমিয়াম ও নিকেলের সংকর ধাতু। এটি বিশুদ্ধ লোহার মতো সহজে মরিচা ধরে না, তাই থালা-বাসন, অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম এবং স্থাপত্য নির্মাণে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
* তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতার নিয়ন্ত্রণ (Control of Thermal and Electrical Conductivity): সংকর ধাতু তৈরি করে তাদের তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানো বা কমানো যায়।
* উদাহরণ: নাইক্রোম (Nichrome) (নিকেল ও ক্রোমিয়ামের সংকর ধাতু) উচ্চ রোধযুক্ত হওয়ায় হিটিং এলিমেন্ট (যেমন - রুম হিটার, টোস্টার) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
* কম গলনাঙ্ক (Lower Melting Point): কিছু সংকর ধাতু তাদের উপাদান ধাতুগুলির চেয়ে কম গলনাঙ্কের হয়, যা ঢালাই বা ঝালাইয়ের কাজে সুবিধাজনক।
* উদাহরণ: সোল্ডার (Solder) (সীসা ও টিনের সংকর ধাতু) এর গলনাঙ্ক কম হওয়ায় ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে তার জোড়া লাগাতে ব্যবহৃত হয়।
স্টপ ওয়াচ এর দুটি ব্যবহার লেখো।
স্টপ ওয়াচ (Stopwatch) একটি সময় পরিমাপক যন্ত্র যা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সময় সঠিকভাবে পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এর দুটি ব্যবহার নিচে দেওয়া হলো:
* ক্রীড়া ক্ষেত্রে (In Sports): দৌড়, সাঁতার বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক খেলায় প্রতিযোগীদের দ্বারা একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করতে কত সময় লাগছে, তা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করতে স্টপ ওয়াচ ব্যবহৃত হয়। এটি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং রেকর্ড স্থাপনে অপরিহার্য।
* বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণায় (In Scientific Experiments and Research): পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বা জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন পরীক্ষায় নির্দিষ্ট রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময়কাল, কোনো বস্তুর গতিপথের সময় বা জীববিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণে (যেমন - গাছের বৃদ্ধির হার) সময় পরিমাপের জন্য স্টপ ওয়াচ ব্যবহৃত হয়। এটি সঠিক উপাত্ত সংগ্রহে সহায়তা করে।
লিন্ডমানের ১০% সূত্রটি লেখ।
লিন্ডমানের ১০% সূত্রটি (Lindeman's 10% Law) বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রবাহ সম্পর্কিত একটি মৌলিক নীতি।
* সূত্র: এই সূত্রানুসারে, একটি খাদ্যশৃঙ্খলে (বা ট্রফিক স্তরে) শক্তি স্থানান্তরের সময়, এক ট্রফিক স্তর থেকে পরবর্তী ট্রফিক স্তরে স্থানান্তরিত শক্তির পরিমাণ পূর্ববর্তী স্তরের মোট শক্তির মাত্র ১০% হয়। বাকি ৯০% শক্তি জীবের শ্বসন, বিপাকীয় প্রক্রিয়া, দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং অব্যবহৃত খাদ্য হিসেবে পরিবেশে তাপ শক্তি রূপে নষ্ট হয়ে যায়।
* উদাহরণ: যদি উৎপাদক স্তরে (যেমন - গাছ) ১০০০ একক শক্তি থাকে, তবে প্রাথমিক খাদক (যেমন - হরিণ) সেই শক্তির মাত্র ১০% অর্থাৎ ১০০ একক শক্তি পাবে। আবার, সেই প্রাথমিক খাদককে যদি গৌণ খাদক (যেমন - বাঘ) ভক্ষণ করে, তবে বাঘ মাত্র ১০% অর্থাৎ ১০ একক শক্তি লাভ করবে।
ঝড়ে টিনের চাল উড়ে যায় কেন?
ঝড়ে টিনের চাল উড়ে যাওয়ার কারণ হলো বার্নৌলির নীতি (Bernoulli's Principle) এবং বায়ুচাপের পার্থক্য।
* বায়ুপ্রবাহের গতি (Airflow Speed): ঝড়ের সময় টিনের চালের উপর দিয়ে বায়ু খুব দ্রুত গতিতে প্রবাহিত হয়। বার্নৌলির নীতি অনুসারে, যেখানে তরল বা গ্যাসের গতি বেশি, সেখানে চাপ কম হয়। তাই, চালের উপরের অংশের বায়ুচাপ অনেক কমে যায়।
* চাপের পার্থক্য (Pressure Difference): একই সময়ে, চালের নিচের অংশে (ঘরের ভিতরে) বায়ু স্থির বা ধীর গতিতে থাকে, ফলে সেখানকার বায়ুচাপ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
* উর্ধ্বমুখী বল (Upward Force): চালের নিচের অংশের উচ্চ চাপ এবং উপরের অংশের নিম্নচাপের কারণে একটি শক্তিশালী উর্ধ্বমুখী বল (lifting force) তৈরি হয়। এই উর্ধ্বমুখী বল যখন চালের ওজনকে অতিক্রম করে যায়, তখন টিনের চাল উপরে উঠে উড়ে যায়।
বাঁধের তলদেশ চওড়া করা হয় কেন?
বাঁধের তলদেশ চওড়া করার প্রধান কারণ হলো জলের গভীরতা বৃদ্ধির সাথে সাথে চাপ বৃদ্ধি পায়।
* চাপের প্রভাব (Effect of Pressure): আমরা জানি, তরলের চাপ তার গভীরতার উপর নির্ভরশীল। বাঁধ যত গভীর হয়, তার তলদেশের জলের চাপ তত বেশি হয় (চাপ = ঘনত্ব \\times অভিকর্ষজ ত্বরণ \\times গভীরতা)।
* চাপ সহ্য করা (Withstanding Pressure): বাঁধের তলদেশে জলের এই বিশাল চাপ সহ্য করার জন্য এবং বাঁধের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এর ভিত্তি বা তলদেশকে অনেক চওড়া ও মজবুত করা হয়। এটি চাপকে একটি বড় ক্ষেত্রফল জুড়ে বিতরণ করে এবং বাঁধ ভেঙে যাওয়া বা ফাটল ধরা থেকে রক্ষা করে। উপরের দিকের জলের চাপ কম হওয়ায় বাঁধের উপরের অংশ তুলনামূলকভাবে সরু রাখা যেতে পারে।
উপাঙ্গীয় কঙ্কালে কোন কোন অস্থি দেখা যায়?
মানবদেহের উপাঙ্গীয় কঙ্কাল (Appendicular Skeleton) এমন সব অস্থি নিয়ে গঠিত যা চলন এবং বস্তুকে ধরা বা সরানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। এটি অক্ষীয় কঙ্কাল (মাথা, মেরুদণ্ড, পাঁজর) থেকে ভিন্ন। উপাঙ্গীয় কঙ্কালে নিম্নলিখিত অস্থিগুলি দেখা যায়:
* বক্ষ অস্থিচক্র (Pectoral Girdle):
* ক্ল্যাভিকল (Clavicle) / কলার বোন: বুকের উপরের অংশে অবস্থিত।
* স্ক্যাপুলা (Scapula) / কাঁধের হাড়: পিঠের উপরের অংশে অবস্থিত।
* ঊর্ধ্ববাহুর অস্থি (Bones of Upper Limbs):
* হিউমেরাস (Humerus): উপরের বাহুর একমাত্র হাড়।
* রেডিয়াস (Radius): নিচের বাহুর বাইরের দিকের হাড়।
* আলনা (Ulna): নিচের বাহুর ভেতরের দিকের হাড়।
* কারপালস (Carpals): কব্জির হাড় (৮টি)।
* মেটাকারপালস (Metacarpals): হাতের তালুর হাড় (৫টি)।
* ফ্যালাঞ্জেস (Phalanges): আঙুলের হাড় (১৪টি)।
* শ্রোণী অস্থিচক্র (Pelvic Girdle):
* কক্সাল বা হিপ বোন (Coxal or Hip Bone): শ্রোণী অঞ্চলের বড় হাড়, যা দুটি ইন্নোমিনেট অস্থির সমন্বয়ে গঠিত।
* নিম্নবাহুর অস্থি (Bones of Lower Limbs):
* ফিমার (Femur) / ঊর্বস্থি: থাই বা উরুর সবচেয়ে বড় হাড়।
* প্যাটেলা (Patella) / মালইচাকি: হাঁটুর সামনের দিকের ছোট হাড়।
* টিবিয়া (Tibia) / জঙ্ঘাস্থি: নিচের পায়ের ভেতরের দিকের বড় হাড়।
* ফিবুলা (Fibula): নিচের পায়ের বাইরের দিকের সরু হাড়।
* টারসালস (Tarsals): গোড়ালির হাড় (৭টি)।
* মেটাটারসালস (Metatarsals): পায়ের পাতার হাড় (৫টি)।
* ফ্যালাঞ্জেস (Phalanges): পায়ের আঙুলের হাড় (১৪টি)।
ঘর্ষণের ফলে বস্তুর ক্ষয় হয় - উদাহরণের সাহায্যে বুঝিয়ে দাও।
ঘর্ষণ (friction) হলো দুটি বস্তুর পৃষ্ঠের মধ্যে আপেক্ষিক গতির বাধাদানকারী বল। এই ঘর্ষণ বলের কারণে তাপ উৎপন্ন হয় এবং বস্তুর পৃষ্ঠের কণাগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
* উদাহরণ ১: জুতার তলা ক্ষয় (Wear and Tear of Shoe Soles): যখন আমরা হাঁটি বা দৌড়াই, তখন জুতার তলা এবং মাটির মধ্যে ঘর্ষণ হয়। এই ঘর্ষণের কারণে জুতার তলার উপাদান (যেমন - রাবার) ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং একসময় জুতার তলা মসৃণ হয়ে যায় বা ছিঁড়ে যায়।
* উদাহরণ ২: যন্ত্রপাতির ক্ষয় (Wear and Tear of Machine Parts): বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ঘূর্ণায়মান অংশ (যেমন - গিয়ার, বিয়ারিং) যখন একে অপরের সংস্পর্শে আসে, তখন তাদের মধ্যে ঘর্ষণ হয়। এই ঘর্ষণের ফলে যন্ত্রাংশের পৃষ্ঠ থেকে কণা ক্ষয়ে যায়, যা যন্ত্রাংশগুলির কার্যক্ষমতা হ্রাস করে এবং একসময় তাদের প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। এর জন্যই লুব্রিকেন্ট (তেল, গ্রিজ) ব্যবহার করা হয় ঘর্ষণ কমাতে।
পাললিক শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় কেন?
পাললিক শিলায় জীবাশ্ম দেখা যাওয়ার মূল কারণগুলি হলো:
* গঠন প্রক্রিয়া (Formation Process): পাললিক শিলা পলি, বালি, কাদা এবং অন্যান্য নরম উপাদান জমাট বেঁধে তৈরি হয়। উদ্ভিদ বা প্রাণী মারা যাওয়ার পর তাদের দেহাবশেষ যদি দ্রুত এই পলিস্তরের নিচে চাপা পড়ে যায়, তাহলে তারা পচন থেকে রক্ষা পায়।
* নিম্ন তাপ ও চাপ (Low Heat and Pressure): পাললিক শিলা গঠনের সময় যে তাপমাত্রা ও চাপ থাকে, তা সাধারণত জীবাশ্মগুলিকে সম্পূর্ণ নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট হয় না। আগ্নেয় শিলায় যেমন উচ্চ তাপ ও চাপে জীবাশ্ম ধ্বংস হয়ে যায়, পাললিক শিলায় তা হয় না।
* স্তরীয় গঠন (Layered Structure): পাললিক শিলা স্তরে স্তরে গঠিত হয়। জীবাশ্মগুলো এই স্তরগুলির মধ্যেই সংরক্ষিত থাকে, যা তাদের দীর্ঘকাল ধরে অক্ষত থাকতে সাহায্য করে।
* অণুজীবের প্রভাব হ্রাস (Reduced Microbial Activity): পলি দ্বারা দ্রুত আবৃত হওয়ার কারণে দেহাবশেষ বায়ুর সংস্পর্শে আসতে পারে না, ফলে পচন সৃষ্টিকারী অণুজীবের কার্যকলাপ কমে যায়, যা জীবাশ্ম সংরক্ষণে সহায়তা করে।
সৌরশক্তিকে পুনর্নবীকরণ যোগ্য শক্তি বলা হয় কেন?
সৌরশক্তিকে (Solar Energy) পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি (Renewable Energy) বলা হয় কারণ:
* অফুরন্ত উৎস (Inexhaustible Source): সূর্যের শক্তি একটি অফুরন্ত উৎস। সূর্য আগামী প্রায় ৫০০ কোটি বছর ধরে শক্তি বিকিরণ করবে বলে বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন। এটি ব্যবহার করার ফলে ফুরিয়ে যায় না বা এর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় না।
* প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া (Natural Process): এটি প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন হয় এবং প্রতিনিয়ত পৃথিবীতে উপলব্ধ থাকে। জীবাশ্ম জ্বালানির মতো এর উৎপাদনে লক্ষ লক্ষ বছর সময় লাগে না বা এর মজুদ সীমিত নয়।
* পরিবেশগত সুবিধা (Environmental Benefits): সৌরশক্তি ব্যবহার করলে কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গত হয় না, যা পরিবেশ দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ফুসফুসের সমস্যার লক্ষণ গুলি লেখ।
ফুসফুসের সমস্যার (Lung Problems) লক্ষণগুলি বিভিন্ন হতে পারে, তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ নিচে উল্লেখ করা হলো:
* শ্বাসকষ্ট (Shortness of Breath): সামান্য পরিশ্রমে বা বিশ্রামরত অবস্থায় শ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়া বা হাঁপিয়ে যাওয়া।
* ক্রমাগত কাশি (Persistent Cough): দীর্ঘস্থায়ী কাশি, যা কয়েক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়, শুষ্ক বা কফযুক্ত উভয়ই হতে পারে।
* বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি (Chest Pain or Discomfort): শ্বাস নেওয়ার সময় বা কাশির সময় বুকে তীক্ষ্ণ ব্যথা বা চাপ অনুভব করা।
* হুইজিং বা শ্বাস নেওয়ার সময় শিস ধ্বনি (Wheezing): শ্বাস নেওয়ার সময় ফুসফুস থেকে শিসের মতো আওয়াজ বের হওয়া।
* কফ বা শ্লেষ্মা উৎপাদন (Mucus Production): অতিরিক্ত কফ বা শ্লেষ্মা নির্গত হওয়া, যা পরিষ্কার, সাদা, হলুদ বা সবুজ হতে পারে।
* ক্লান্তি (Fatigue): ফুসফুসের সমস্যার কারণে শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছানোর ফলে অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করা।
* ত্বক বা ঠোঁটের নীলচে রঙ (Cyanosis): অক্সিজেনের অভাবে ত্বক, ঠোঁট বা আঙুলের ডগা নীলচে হয়ে যাওয়া।
পেট্রোলিয়াম শোধন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কাজ কেন?
পেট্রোলিয়াম (Petroleum) শোধন (refining) করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কাজ কারণ:
* বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদানে বিভাজন (Separation into Useful Components): অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম সরাসরি ব্যবহারযোগ্য নয়। এটি বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের একটি মিশ্রণ। শোধনের মাধ্যমে এই মিশ্রণ থেকে পৃথক পৃথক ও প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন - পেট্রোল (গ্যাসোলিন), ডিজেল, কেরোসিন, লুব্রিকেটিং তেল, বিটুমিন (পিচ) এবং এলপিজি (LPG) ইত্যাদি নিষ্কাশন করা হয়, যা বিভিন্ন কাজে অপরিহার্য।
* গুণগত মান বৃদ্ধি (Quality Improvement): শোধনের মাধ্যমে পেট্রোলিয়ামের অশুদ্ধিগুলি দূর করা হয় এবং এর গুণগত মান বৃদ্ধি করা হয়, যাতে এটি বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে দক্ষতার সাথে ব্যবহার করা যায় এবং ইঞ্জিনের ক্ষয় রোধ হয়।
* নিরাপত্তা ও পরিবেশগত কারণ (Safety and Environmental Reasons): অপরিশোধিত তেল দাহ্য এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শোধন প্রক্রিয়া এটি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ব্যবহারের উপযোগী করে তোলে, এবং ক্ষতিকারক উপজাত পণ্যগুলিকেও নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
লোহায় মরচে পড়লেও লোহার সংকর ধাতুর স্টেনলেস স্টিলে মরচে পড়ে না কেন?
লোহায় মরচে (rust) পড়া একটি জারণ প্রক্রিয়া যেখানে লোহা (Fe) বায়ু ও জলের উপস্থিতিতে ফেরিক অক্সাইড (Fe₂O₃.nH₂O) তৈরি করে। কিন্তু লোহার সংকর ধাতু স্টেইনলেস স্টিলে মরচে পড়ে না কারণ:
* ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি (Presence of Chromium): স্টেইনলেস স্টিলে প্রায় ১০.৫% বা তার বেশি ক্রোমিয়াম থাকে। ক্রোমিয়াম অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে লোহার উপর একটি অত্যন্ত পাতলা, নিশ্ছিদ্র এবং অত্যন্ত স্থিতিশীল ক্রোমিয়াম অক্সাইডের (Cr₂O₃) একটি স্তর তৈরি করে।
* নিষ্ক্রিয় স্তর (Passive Layer): এই ক্রোমিয়াম অক্সাইডের স্তরটি একটি 'নিষ্ক্রিয় স্তর' হিসেবে কাজ করে, যা লোহার পৃষ্ঠকে বায়ু ও জলের সংস্পর্শে আসতে বাধা দেয়। এই স্তরটি লোহাকে আরও জারিত হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং মরিচা পড়া প্রতিরোধ করে। যদি এই স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে এটি দ্রুত পুনরায় গঠিত হতে পারে। অন্যদিকে, বিশুদ্ধ লোহায় এমন কোনো প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি হয় না, তাই এটি সহজেই জারিত হয়ে মরিচা ধরে।
একটি পরীক্ষার সাহায্যে দেখাও যে, তরলের গভীরতা বাড়লে চাপ বাড়ে।
উপকরণ: একটি লম্বা প্লাস্টিকের বোতল (যেমন - জলের বোতল), ধারালো পেরেক বা সূঁচ, টেপ বা সেলোটেপ, এবং জল।
পরীক্ষা পদ্ধতি:
* ছিদ্র তৈরি: প্লাস্টিকের বোতলের একপাশে, উল্লম্বভাবে একে অপরের থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে তিনটি ছোট ছিদ্র তৈরি করো। সবচেয়ে উপরের ছিদ্রটি থেকে নিচের ছিদ্রটির দূরত্ব বেশি হবে।
* ছিদ্র বন্ধ করা: টেপ বা সেলোটেপ দিয়ে এই তিনটি ছিদ্র ভালোভাবে ঢেকে দাও, যাতে জল না বের হয়।
* জল দ্বারা পূর্ণ করা: বোতলটিকে সম্পূর্ণভাবে জল দিয়ে ভর্তি করো।
* পর্যবেক্ষণ (১ম ধাপ): প্রথমে সবচেয়ে উপরের ছিদ্রের টেপটি সরিয়ে দাও। লক্ষ্য করো, জল একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিটকে পড়ছে।
* পর্যবেক্ষণ (২য় ধাপ): এরপর মাঝের ছিদ্রের টেপটি সরিয়ে দাও। লক্ষ্য করো, এই ছিদ্র থেকে জল প্রথমটির চেয়ে বেশি দূরত্বে ছিটকে পড়ছে।
* পর্যবেক্ষণ (৩য় ধাপ): সবশেষে সবচেয়ে নিচের ছিদ্রের টেপটি সরিয়ে দাও। তুমি দেখতে পাবে যে এই ছিদ্র থেকে জল সবচেয়ে বেশি দূরত্বে ছিটকে পড়ছে।
সিদ্ধান্ত: এই পরীক্ষা থেকে বোঝা যায় যে, বোতলের নিচের দিকের ছিদ্র থেকে জল বেশি জোরে এবং বেশি দূরে যাচ্ছে। এর কারণ হলো, তরলের গভীরতা যত বাড়ে, তার উপর জলের স্তম্ভের ওজন তত বাড়ে, ফলে ওই নির্দিষ্ট বিন্দুতে জলের চাপও বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ, তরলের গভীরতা বাড়লে চাপ বাড়ে।
মানব হৃদপিন্ডের মধ্যে কিভাবে রক্ত সংবাহিত হয় তা উল্লেখ কর।
মানব হৃদপিণ্ড একটি পাম্পের মতো কাজ করে এবং রক্তনালীর মাধ্যমে সারা শরীরে রক্ত সংবহন করে। রক্ত সংবহন প্রক্রিয়াটি দ্বিচক্রাকার (double circulation)।
* অক্সিজেনবিহীন রক্ত প্রবেশ (Deoxygenated Blood Entry):
* সারা শরীর থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ (অক্সিজেনবিহীন) রক্ত উর্ধ্ব মহাসিরা (Superior Vena Cava) এবং নিম্ন মহাসিরা (Inferior Vena Cava) দিয়ে ডান অলিন্দে (Right Atrium) প্রবেশ করে।
* ডান অলিন্দ থেকে ডান নিলয়ে (From Right Atrium to Right Ventricle):
* ডান অলিন্দ থেকে রক্ত ট্রাইকাসপিড কপাটিকা (Tricuspid Valve) অতিক্রম করে ডান নিলয়ে (Right Ventricle) যায়।
* ফুসফুসে রক্ত পাম্প (Pumping to Lungs):
* ডান নিলয় সংকুচিত হলে রক্ত পালমোনারি কপাটিকা (Pulmonary Valve) পেরিয়ে ফুসফুসীয় ধমনী (Pulmonary Artery) দিয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করে। ফুসফুসে এই অক্সিজেনবিহীন রক্ত অক্সিজেনযুক্ত হয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড মুক্ত হয়।
* অক্সিজেনযুক্ত রক্ত প্রবেশ (Oxygenated Blood Entry):
* ফুসফুস থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ফুসফুসীয় শিরা (Pulmonary Veins) দিয়ে বাম অলিন্দে (Left Atrium) প্রবেশ করে।
* বাম অলিন্দ থেকে বাম নিলয়ে (From Left Atrium to Left Ventricle):
* বাম অলিন্দ থেকে রক্ত মাইট্রাল কপাটিকা (Mitral Valve) অতিক্রম করে বাম নিলয়ে (Left Ventricle) যায়। বাম নিলয় হৃদপিণ্ডের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রকোষ্ঠ।
* সারা শরীরে রক্ত পাম্প (Pumping to Body):
* বাম নিলয় সংকুচিত হলে রক্ত অ্যাওর্টিক কপাটিকা (Aortic Valve) পেরিয়ে মহাধমনী (Aorta) দিয়ে সারা শরীরে পাম্প হয়, যার মাধ্যমে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান বিভিন্ন কোষে পৌঁছায়।
* পুনরাবৃত্তি (Repetition): এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ক্রমাগত চক্রাকারে চলতে থাকে।
'পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস সূর্য'- ব্যাখ্যা কর।
'পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস সূর্য' - এই উক্তিটি প্রায় সর্বতোভাবে সত্য, কারণ পৃথিবীর বেশিরভাগ শক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সূর্য থেকে আসে।
* সরাসরি সৌরশক্তি (Direct Solar Energy):
* সালোকসংশ্লেষ (Photosynthesis): সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোকশক্তি ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় নিজেদের খাদ্য (গ্লুকোজ) তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে উদ্ভিদের মধ্যে সঞ্চিত হয়। বাস্তুতন্ত্রের সকল জীবের জন্য এটিই মূল খাদ্য ও শক্তির উৎস।
* সৌর প্যানেল (Solar Panels): বর্তমানে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি সৌরশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়।
* জলবায়ু ও আবহাওয়া (Climate and Weather): সূর্যের তাপ পৃথিবীর পৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে, যা বায়ু এবং জলের চলাচল সৃষ্টি করে। এর ফলেই বাতাস (বায়ু শক্তি), জলচক্র (জলবিদ্যুৎ) এবং সমুদ্র স্রোতের (জোয়ার-ভাটা শক্তি পরোক্ষভাবে) মতো প্রাকৃতিক শক্তিগুলি সৃষ্টি হয়।
* পরোক্ষ সৌরশক্তি (Indirect Solar Energy):
* জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels): কয়লা, পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস হলো জীবাশ্ম জ্বালানি। এগুলি লক্ষ লক্ষ বছর আগে জীবিত উদ্ভিদ ও প্রাণীর (যারা সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে সূর্যের শক্তি সঞ্চয় করেছিল) দেহাবশেষ থেকে তৈরি হয়েছে। তাই, জীবাশ্ম জ্বালানির সঞ্চিত শক্তি আদতে সূর্যেরই প্রাচীন শক্তি।
* বায়ু শক্তি (Wind Energy): সূর্যের অসম তাপনের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বায়ুচাপের পার্থক্য হয়, যা বায়ুর গতি সৃষ্টি করে। এই বায়ু প্রবাহের শক্তিকে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।
* জলবিদ্যুৎ (Hydroelectric Power): সূর্যের তাপে জল বাষ্পীভূত হয়ে মেঘ তৈরি করে এবং বৃষ্টিপাত ঘটায়। এই বৃষ্টিপাত নদী ও জলাধারগুলিতে জল ভরে তোলে, যা জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য।
* ব্যতিক্রম (Exceptions): যদিও বেশিরভাগ শক্তি সূর্য থেকে আসে, কিছু ক্ষুদ্র উৎস সৌরশক্তির উপর নির্ভরশীল নয়। যেমন:
* ভূ-তাপীয় শক্তি (Geothermal Energy): পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপ থেকে উৎপন্ন হয়।
* পারমাণবিক শক্তি (Nuclear Energy): পরমাণুর নিউক্লিয়াস বিভাজন বা সংযোজন থেকে আসে।
* জোয়ার-ভাটা শক্তি (Tidal Energy): চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় টানের কারণে সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা থেকে আসে।
তবে, এই ব্যতিক্রমগুলি মোট বৈশ্বিক শক্তি সরবরাহের একটি ছোট অংশ।
এই কারণে, সূর্যকে পৃথিবীর সমস্ত শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়।
কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার লেখ।
কয়লা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ জীবাশ্ম জ্বালানি, যাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে:
কয়লার ব্যবহার:
* বিদ্যুৎ উৎপাদন (Electricity Generation): তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লা পুড়িয়ে জলকে বাষ্পীভূত করা হয়, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এটি বিশ্বের বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রধান উৎস।
* শিল্প কারখানায় জ্বালানি (Industrial Fuel): বিভিন্ন শিল্পে যেমন সিমেন্ট কারখানা, ইঁটভাটা এবং কাগজের শিল্পে তাপ উৎপাদনের জন্য কয়লা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
* ধাতু নিষ্কাশন (Metallurgy): ইস্পাত শিল্পে কোক কয়লা (কয়লার একটি পরিশোধিত রূপ) লোহা আকরিক থেকে লোহা নিষ্কাশন এবং ইস্পাত তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
* গৃহস্থালীর জ্বালানি (Domestic Fuel): গ্রামাঞ্চলে এবং কিছু ক্ষেত্রে শহরাঞ্চলে রান্নার কাজে বা ঘর গরম রাখার জন্য কয়লা ব্যবহার করা হয়।
* রাসায়নিক শিল্প (Chemical Industry): কয়লা থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ যেমন - অ্যামোনিয়া, বেঞ্জিন, তার (tar) ইত্যাদি তৈরি হয়।
প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার:
* বিদ্যুৎ উৎপাদন (Electricity Generation): প্রাকৃতিক গ্যাস গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি কয়লার চেয়ে কম দূষণকারী।
* গৃহস্থালীর জ্বালানি (Domestic Fuel): এটি সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং রান্না, জল গরম করা ও ঘর গরম রাখার জন্য ব্যবহার করা হয় (যেমন - PNG)।
* যানবাহনের জ্বালানি (Vehicle Fuel): সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (CNG) এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা পেট্রোল বা ডিজেলের চেয়ে কম দূষণ সৃষ্টি করে।
* রাসায়নিক শিল্প (Chemical Industry): প্রাকৃতিক গ্যাস অ্যামোনিয়া, ইউরিয়া, মিথানল এবং অন্যান্য রাসায়নিক সার উৎপাদনে একটি কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
* শিল্প কারখানায় জ্বালানি (Industrial Fuel): বিভিন্ন শিল্পে (যেমন - কাঁচ শিল্প, সিরামিক শিল্প) উচ্চ তাপমাত্রার জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
রেখাচিত্রের সাহায্যে একটি জলাভূমির খাদ্যজালের উদাহরণ দাও।
একটি জলাভূমির খাদ্যজালের উদাহরণ নিচে একটি রেখাচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো। এই চিত্রে তীর চিহ্নগুলি শক্তির প্রবাহের দিক নির্দেশ করে (অর্থাৎ, তীর যার দিকে যাচ্ছে, সে শক্তি গ্রহণ করছে)।
সূর্য
↓
জলাশয়ের উদ্ভিদ (উৎপাদক)
/ ↓ \
/ ↓ \
ছোট মাছ পোকামাকড় শৈবাল
\ ↓ /
\ ↓ /
বড় মাছ
↓
বক
↓
মানুষ
ব্যাখ্যা:
* উৎপাদক (Producers): সূর্যের আলো ব্যবহার করে জলাশয়ের উদ্ভিদ এবং শৈবাল নিজেদের খাদ্য তৈরি করে, যা খাদ্যজালের ভিত্তি।
* প্রাথমিক খাদক (Primary Consumers):
* ছোট মাছ এবং পোকামাকড় জলাশয়ের উদ্ভিদ ও শৈবালকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
* গৌণ খাদক (Secondary Consumers):
* বড় মাছ ছোট মাছ এবং পোকামাকড়কে খায়।
* ব্যাঙ পোকামাকড় খায় (যদিও চিত্রে সরাসরি দেখানো হয়নি, এটি একটি সাধারণ সম্পর্ক)।
* প্রগৌণ খাদক (Tertiary Consumers):
* বক ছোট মাছ এবং ব্যাঙ খায়।
* মানুষ বড় মাছ এবং বককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
এই রেখাচিত্রে দেখা যাচ্ছে যে, একটি জীব একাধিক উৎস থেকে খাদ্য গ্রহণ করতে পারে (যেমন - বড় মাছ ছোট মাছ ও পোকামাকড় উভয়ই খায়), এবং নিজেও একাধিক শিকারীর খাদ্য হতে পারে, যা একটি জটিল খাদ্যশৃঙ্খল বা খাদ্যজাল তৈরি করে। এটি বাস্তুতন্ত্রের স্থায়িত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- জীবাশ্ম কিভাবে সৃষ্টি হয়?
- উপযুক্ত উদাহরণসহ সংকর ধাতুর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ কর।
- স্টপ ওয়াচ এর দুটি ব্যবহার লেখো।
- লিন্ডমানের ১০% সূত্রটি লেখ।
- ঝড়ে টিনের চাল উড়ে যায় কেন?
- বাঁধের তলদেশ চওড়া করা হয় কেন?
- উপাঙ্গীয় কঙ্কালে কোন কোন অস্থি দেখা যায়?
- ঘর্ষণের ফলে বস্তুর ক্ষয় হয় - উদাহরণের সাহায্যে বুঝিয়ে দাও।
- পাললিক শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় কেন?
- সৌরশক্তিকে পুনর্নবীকরণ যোগ্য শক্তি বলা হয় কেন?
- ফুসফুসের সমস্যার লক্ষণ গুলি লেখ।
- পেট্রোলিয়াম শোধন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কাজ কেন?
- লোহায় মরচে পড়লেও লোহার সংকর ধাতুর স্টেনলেস স্টিলে মরচে পড়ে না কেন?
- একটি পরীক্ষার সাহায্যে দেখাও যে,তরলের গভীরতা বাড়লে চাপ বাড়ে।
- মানব হৃদপিন্ডের মধ্যে কিভাবে রক্ত সংবাহিত হয় তা উল্লেখ কর।
- 'পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস সূর্য'- ব্যাখ্যা কর।
- কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার লেখ।
- রেখাচিত্রের সাহায্যে একটি জলাভূমির খাদ্যজালের উদাহরণ দাও।
২ নং
Here are the answers to your questions, structured with headings and bullet points for clarity, keeping in mind that each answer is worth 2 marks:
পাললিক শিলা ও আগ্নেয় শিলার তুলনা
* পাললিক শিলা (Sedimentary Rocks):
* গঠন: আবহবিকার ও ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট পলি, বালি, কাদা ইত্যাদি জমাট বেঁধে স্তর স্তরে তৈরি হয়।
* বৈশিষ্ট্য: নরম, ভঙ্গুর, সাধারণত স্তরায়ণ দেখা যায় এবং জীবাশ্ম থাকতে পারে।
* উদাহরণ: বেলেপাথর, চুনাপাথর, কাদা পাথর।
* আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks):
* গঠন: ম্যাগমা বা লাভা শীতল ও কঠিন হয়ে গঠিত হয়।
* বৈশিষ্ট্য: কঠিন, দানাদার, স্ফটিকাকার এবং এতে সাধারণত জীবাশ্ম থাকে না।
* উদাহরণ: গ্রানাইট, ব্যাসল্ট।
ম্যাগমা, লাভা ও আগ্নেয় শিলার সম্পর্ক
* ম্যাগমা: ভূ-অভ্যন্তরে উত্তপ্ত, গলিত শিলা এবং গ্যাস মিশ্রিত পদার্থই হলো ম্যাগমা।
* লাভা: ম্যাগমা যখন ভূপৃষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে লাভা বলে।
* আগ্নেয় শিলা: ম্যাগমা বা লাভা শীতল ও কঠিন হয়ে যে শিলার সৃষ্টি করে, তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
* সম্পর্ক: ম্যাগমা ভূ-অভ্যন্তরে বা লাভা ভূপৃষ্ঠে শীতল ও কঠিন হয়ে আগ্নেয় শিলা তৈরি করে। অর্থাৎ, আগ্নেয় শিলার উৎস হলো ম্যাগমা ও লাভা।
সংকর ধাতু কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
* সংকর ধাতু (Alloy): দুই বা ততোধিক ধাতুকে (বা একটি ধাতু ও একটি অধাতুকে) গলিয়ে মিশ্রিত করে যে নতুন ধাতু তৈরি করা হয়, যার নিজস্ব মৌলিক বৈশিষ্ট্য থাকে, তাকে সংকর ধাতু বলে।
* উদাহরণ: পিতল (দস্তা ও তামা)।
জীবাশ্ম জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা কী?
* বিদ্যুৎ উৎপাদন: পৃথিবীর মোট বিদ্যুতের একটি বড় অংশ জীবাশ্ম জ্বালানি (যেমন কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস) পুড়িয়ে উৎপাদিত হয়।
* যানবাহন ও শিল্প: পরিবহন, শিল্পকারখানা এবং গৃহস্থালীর কাজে তাপ ও শক্তি উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানি অপরিহার্য। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অপরিহার্য শক্তির উৎস।
অনবীকরণযোগ্য শক্তি কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
* অনবীকরণযোগ্য শক্তি (Non-renewable Energy): যে শক্তির উৎসগুলি একবার ব্যবহার করলে নিঃশেষ হয়ে যায় এবং পুনরায় উৎপাদিত হতে বহু বছর (ভূ-তাত্বিক সময়) সময় লাগে, তাদের অনবীকরণযোগ্য শক্তি বলে।
* উদাহরণ: কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস।
কয়লা কীভাবে তৈরি হয় তার একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
* লক্ষ লক্ষ বছর আগে, ভূপৃষ্ঠের গভীরে প্রচুর গাছপালা ও বনভূমি চাপা পড়ে গিয়েছিল।
* ভূ-গর্ভের উচ্চ চাপ ও তাপের প্রভাবে, এই গাছপালার দেহাবশেষ ধীরে ধীরে পচে ও পরিবর্তিত হয়ে কার্বন-সমৃদ্ধ শক্ত পদার্থে রূপান্তরিত হয়, যা আমরা কয়লা নামে চিনি। এই প্রক্রিয়াকে কার্বনিফিকেশন বলে।
পেশির দুটি সমস্যা লেখ।
* পেশি টান বা ক্র্যাম্প (Muscle Cramps): হঠাৎ করে পেশিতে তীব্র ব্যথা বা সংকোচন অনুভব করা, যা সাধারণত অতিরিক্ত পরিশ্রম বা জল স্বল্পতার কারণে হয়।
* পেশি ছিঁড়ে যাওয়া (Muscle Strain/Tear): পেশি বা এর সঙ্গে সংযুক্ত টেন্ডনে আংশিক বা সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যাওয়া, যা সাধারণত হঠাৎ করে বেশি চাপ পড়লে হয়।
প্রদত্ত ঘটনা দুটিতে কোন শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়:
* ক) সৌর কুকার চালু করা হলো: সৌর শক্তি \rightarrow তাপ শক্তি।
* খ) দেশলাই কাঠি জ্বালানো হলো: রাসায়নিক শক্তি \rightarrow তাপ শক্তি + আলোক শক্তি।
বার্নৌলির নীতিটি উল্লেখ কর।
* বার্নৌলির নীতি অনুসারে, কোনো তরল বা গ্যাসের প্রবাহে, যদি তরলের গতি বাড়ে, তাহলে তার চাপ কমে যায় এবং বিভবশক্তি কমে যায়, এবং যদি গতি কমে, তাহলে তার চাপ ও বিভবশক্তি বেড়ে যায়। সহজ কথায়, যেখানে তরল বা গ্যাস দ্রুত চলে, সেখানে চাপ কম হয়।
জীবাশ্ম বলতে কী বোঝায়?
* লক্ষ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে বসবাসকারী উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ বা তাদের ছাপ (যেমন - পায়ের ছাপ, গাছের পাতার ছাপ) যা পাথরের স্তরে সংরক্ষিত থাকে, তাদের জীবাশ্ম বলে। এরা সাধারণত পাললিক শিলায় পাওয়া যায়।
ব্রিজ কেন ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হয়?
* উচ্চ শক্তি ও নমনীয়তা: ইস্পাত অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এটি অনেক বেশি চাপ ও টান সহ্য করতে পারে। একইসাথে এটি নমনীয় হওয়ায় বাঁকানো বা ডিজাইন করা সহজ হয়।
* স্থায়িত্ব ও ভূমিকম্প প্রতিরোধ: ইস্পাত দীর্ঘস্থায়ী, সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না এবং এর নমনীয়তার কারণে ভূমিকম্পের সময় এটি কম্পন শোষণ করে সেতুকে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
ম্যাগমা কাকে বলে?
* ভূ-অভ্যন্তরের অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং গলিত শিলা, খনিজ পদার্থ, এবং গ্যাস মিশ্রিত সান্দ্র অবস্থাকে ম্যাগমা বলে। এটি চাপ এবং তাপের প্রভাবে পৃথিবীর ভূত্বকের নীচে বা ম্যান্টেলের উপরের অংশে তৈরি হয়।
বেগের একক প্রাথমিক না লব্ধ ব্যাখ্যা কর।
* বেগের একক লব্ধ একক (Derived Unit)।
* ব্যাখ্যা: বেগ হলো সরণ পরিবর্তনের হার, অর্থাৎ সরণ/সময়। সরণের একক হল দৈর্ঘ্য (মিটার) এবং সময়ের একক হল সময় (সেকেন্ড)। এই উভয়ই মৌলিক একক। যেহেতু বেগের একক (মিটার/সেকেন্ড) দুটি মৌলিক একক থেকে গঠিত হয়েছে, তাই এটি একটি লব্ধ একক।
খাদ্য পিরামিড কী?
* খাদ্য পিরামিড হলো একটি চিত্রভিত্তিক উপস্থাপনা যা একটি বাস্তুতন্ত্রে বিভিন্ন ট্রফিক স্তরের (খাদ্য স্তর) মধ্যে শক্তির প্রবাহ এবং জীবসংখ্যার সম্পর্ককে দেখায়। এর সর্বনিম্ন স্তরে উৎপাদকরা থাকে, এবং উপরের স্তরে প্রাথমিক খাদক, গৌণ খাদক ও প্রগৌণ খাদকরা ক্রমান্বয়ে অবস্থান করে, যেখানে প্রতি স্তরে শক্তি ও জীবসংখ্যা হ্রাস পায়।
ঝামা পাথরে ছিদ্র দেখা যায় কেন?
* ঝামা পাথর হলো এক প্রকার আগ্নেয় শিলা যা আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত লাভা দ্রুত শীতল ও কঠিন হওয়ার সময় গঠিত হয়।
* লাভার মধ্যে থাকা গ্যাসীয় পদার্থগুলি দ্রুত ঠান্ডা হওয়ার সময় লাভা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পায় না। ফলে, এই গ্যাসগুলি বুদবুদের আকারে লাভায় আটকে যায় এবং পাথর কঠিন হওয়ার পর ছিদ্রযুক্ত পৃষ্ঠ তৈরি করে।
সৌর দিন কী?
* পৃথিবীর যেকোনো নির্দিষ্ট স্থান থেকে সূর্যকে পরপর দুবার মধ্যাহ্ন অবস্থানে (সর্বোচ্চ অবস্থানে) আসতে যে সময় লাগে, তাকে সৌর দিন বলে। এর গড় সময় প্রায় ২৪ ঘণ্টা।
দুটি শ্বাস পেশির নাম লেখ।
* মধ্যচ্ছদা (Diaphragm): এটি একটি প্রধান শ্বাস পেশি যা ফুসফুসের নিচে অবস্থিত এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
* পাঁজরের মধ্যবর্তী পেশি (Intercostal Muscles): এই পেশিগুলি পাঁজরগুলির মধ্যে অবস্থিত এবং শ্বাস নেওয়ার সময় পাঁজরগুলিকে উপরে ও বাইরে তুলতে সাহায্য করে।
দুটি জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ দাও।
* কয়লা
* পেট্রোলিয়াম (বা খনিজ তেল)
হৃদস্পন্দন বলতে কী বোঝো?
* হৃদস্পন্দন বলতে বোঝায় হৃৎপিণ্ডের ছন্দবদ্ধ সংকোচন ও প্রসারণ। প্রতিবার সংকোচনে (সিস্টোল) হৃৎপিণ্ড রক্ত পাম্প করে এবং প্রতিবার প্রসারণে (ডায়াস্টোল) হৃৎপিণ্ড রক্ত দ্বারা পূর্ণ হয়। এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়াটিই হৃদস্পন্দন।
রক্তের কাজ কী?
* অক্সিজেন ও পুষ্টি পরিবহন: রক্ত ফুসফুস থেকে অক্সিজেন এবং পরিপাকতন্ত্র থেকে পুষ্টি উপাদান দেহের বিভিন্ন কোষে পরিবহন করে।
* বর্জ্য অপসারণ: এটি কোষ থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ সংগ্রহ করে ফুসফুস ও বৃক্কের (কিডনি) মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়।
* রোগ প্রতিরোধ: রক্তের শ্বেত রক্তকণিকাগুলি রোগ-জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরকে রক্ষা করে।
* হরমোন পরিবহন: হরমোন ও এনজাইম পরিবহনে সাহায্য করে।
* শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: রক্ত শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
দেশলাই কাঠির বারুদের দিকটা বাক্সের গায়ে ঘষলে আগুন জ্বলে ওঠে কেন?
* দেশলাই কাঠির বারুদে রাসায়নিক পদার্থ (যেমন পটাশিয়াম ক্লোরেট) থাকে এবং দেশলাই বাক্সের ঘষা অংশে লাল ফসফরাস ও কাঁচের গুঁড়ো থাকে।
* যখন কাঠি ঘষা হয়, তখন ঘর্ষণজনিত তাপ উৎপন্ন হয়। এই তাপ লাল ফসফরাসকে সাদা ফসফরাসে রূপান্তরিত করে, যা সহজেই আগুন ধরে যায়। এই আগুন বারুদে লেগে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে দহন শুরু হয় এবং আগুন জ্বলে ওঠে।
স্বাভাবিক পুষ্টির জন্য আমাদের খাদ্য গ্রহণ করা উচিত কেন?
* শক্তি উৎপাদন: খাদ্য আমাদের শরীরে শক্তি সরবরাহ করে, যা দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং শারীরিক কার্যকলাপের জন্য অপরিহার্য।
* বৃদ্ধি ও মেরামত: খাদ্য শরীর বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান (প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ) সরবরাহ করে।
* রোগ প্রতিরোধ: সুষম খাদ্য গ্রহণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং অসুস্থতা থেকে রক্ষা করে।
* শারীরিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ: খাদ্য শরীরে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়া ও কার্যকারিতা (যেমন – এনজাইম ও হরমোন তৈরি) নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
বৃদ্ধির হার বলতে কী বোঝায়?
* বৃদ্ধির হার বলতে বোঝায় একটি নির্দিষ্ট সময়কালে কোনো জীব বা বস্তুর আকার, ভর বা সংখ্যায় যে পরিবর্তন হয়, তার গতি। এটি প্রতি একক সময়ে বৃদ্ধির পরিমাণ নির্দেশ করে। যেমন – উচ্চতার বৃদ্ধির হার (সেমি/বছর) বা কোষ বিভাজনের হার।
মৌলিক বা প্রাথমিক রাশি কাকে বলে?
* যেসব ভৌত রাশি স্বাধীন এবং অন্য কোনো রাশির উপর নির্ভরশীল নয়, অর্থাৎ যাদের প্রকাশ করার জন্য অন্য কোনো রাশির সাহায্য লাগে না, তাদের মৌলিক বা প্রাথমিক রাশি বলে।
* উদাহরণ: দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎ প্রবাহ, দীপন প্রাবল্য, পদার্থের পরিমাণ।
১৫০ নিউটন মানের বল ১৫ প্যাস্কাল চাপ উৎপন্ন করে। ওই বলের ক্রিয়াশীল অঞ্চলের ক্ষেত্রফল কত?
* আমরা জানি, চাপ (P) = বল (F) / ক্ষেত্রফল (A)
* এখানে, চাপ (P) = ১৫ প্যাস্কাল
* বল (F) = ১৫০ নিউটন
* সুতরাং, ক্ষেত্রফল (A) = বল (F) / চাপ (P)
* A = ১৫০ নিউটন / ১৫ প্যাস্কাল
* A = ১০ বর্গমিটার (10 \text{ m}^2)
* অতএব, বলের ক্রিয়াশীল অঞ্চলের ক্ষেত্রফল হলো ১০ বর্গমিটার।
এক ট্রফিক লেভেল থেকে অন্য ট্রফিক লেভেলে শক্তির স্থানান্তরের সময় শক্তির অপচয় হয় কেন?
* শক্তির অপচয় হয় কারণ:
* তাপ শক্তি হিসেবে ব্যয়: প্রতিটি ট্রফিক স্তরে জীবেরা তাদের দৈনন্দিন শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলী (যেমন - শ্বসন, চলন, পরিপাক) সম্পাদনের জন্য শক্তি ব্যবহার করে, যার বেশিরভাগই তাপ শক্তি হিসেবে পরিবেশে মুক্ত হয়।
* অব্যবহৃত অংশ: উৎপাদিত খাদ্যের সমস্ত অংশ খাদক গ্রহণ করে না এবং গৃহীত খাদ্যের সমস্ত শক্তি হজম হয় না বা ব্যবহারযোগ্য হয় না। কিছু অংশ বর্জ্য হিসেবে নিষ্কাশিত হয় বা অব্যবহৃত থেকে যায়।
* সাধারণত, এক ট্রফিক স্তর থেকে পরবর্তী ট্রফিক স্তরে প্রায় ৯০% শক্তি নষ্ট হয় এবং মাত্র ১০% শক্তি স্থানান্তরিত হয় (১০% সূত্র)।
আমরা যদি ফিতের স্কেল দিয়ে দৈর্ঘ্য না মেপে সবাই হাত দিয়ে দৈর্ঘ্য মাপতাম, তাহলে কি হতো বলে তোমার মনে হয়?
* যদি সবাই হাত দিয়ে দৈর্ঘ্য মাপত, তাহলে পরিমাপে সামঞ্জস্য থাকত না এবং বড় ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতো।
* অসামঞ্জস্য: কারণ প্রতিটি মানুষের হাতের দৈর্ঘ্য ভিন্ন, তাই একই বস্তুর দৈর্ঘ্য মাপলে ভিন্ন ভিন্ন মান পাওয়া যেত।
* যোগাযোগে সমস্যা: কোনো জিনিসের দৈর্ঘ্য বোঝাতে গেলে তা সঠিকভাবে বোঝানো যেত না, কারণ সবার মাপ ভিন্ন।
* ব্যবসায় ও বিজ্ঞানে অসুবিধা: নির্মাণ কাজ, বিজ্ঞান গবেষণা বা বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সঠিক এবং মানসম্মত পরিমাপ সম্ভব হতো না, যা ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি করত।
পেরেক, বঁটি ইত্যাদি যন্ত্র ধারালো হলে ব্যবহার করতে সুবিধা হয় কেন?
* পেরেক, বঁটি ইত্যাদি যন্ত্র ধারালো হলে ক্রিয়াশীল ক্ষেত্রফল খুব ছোট হয়।
* ব্যাখ্যা: আমরা জানি, চাপ = বল / ক্ষেত্রফল। যখন ক্ষেত্রফল খুব ছোট হয়, তখন একই পরিমাণ বল প্রয়োগ করেও অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি করা যায়। এর ফলে পেরেক সহজে কোনো তলে প্রবেশ করতে পারে বা বঁটি সহজে কিছু কাটতে পারে।
তোমার দেহে জল ও খাবারের মধ্যে দিয়ে জীবাণু ঢুকলে, জীবাণুকে মারার জন্য তোমার শরীরে কি কি ব্যবস্থা আছে?
* আমাদের দেহে জল ও খাবারের মাধ্যমে জীবাণু প্রবেশ করলে সেগুলোকে মারার জন্য শরীরের একাধিক ব্যবস্থা আছে:
* পাকস্থলীর অ্যাসিড: পাকস্থলীর হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) বেশিরভাগ জীবাণুকে মেরে ফেলে।
* শ্বেত রক্তকণিকা: রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা (যেমন - ম্যাক্রোফেজ, নিউট্রোফিল) জীবাণুগুলিকে ভক্ষণ করে বা মেরে ফেলে।
* অন্ত্রের প্রতিরক্ষা: অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া এবং শ্লেষ্মা (mucus) জীবাণুদের প্রবেশে বাধা দেয় এবং তাদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।
* প্রদাহ: জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে শরীর প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় করে জীবাণুগুলিকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে।
একটি বাঁকা দাগের দৈর্ঘ্য কিভাবে একটি সুতো ও একটি রুলারের সাহায্যে মাপা যাবে?
* একটি বাঁকা দাগের দৈর্ঘ্য মাপার জন্য:
* বাঁকা দাগটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি সুতো বরাবর ধীরে ধীরে সুতোটিকে বসিয়ে যাও, যাতে সুতোটি বাঁকা দাগের প্রতিটি বিন্দুকে অনুসরণ করে।
* বাঁকা দাগের শেষ প্রান্তে সুতোটিকে কেটে দাও বা একটি চিহ্নিত করে নাও।
* এবার সুতোটিকে সোজা করে একটি রুলার বা স্কেলের উপর রাখো।
* সুতোটির চিহ্নিত অংশ পর্যন্ত রুলার দিয়ে মেপে নিলে বাঁকা দাগটির দৈর্ঘ্য পাওয়া যাবে।
একটি স্প্রিং- এর স্থিতিশক্তি কীভাবে বৃদ্ধি করবে?
* একটি স্প্রিং-এর স্থিতিশক্তি (Potential Energy) বৃদ্ধি করার জন্য:
* স্প্রিংকে সংকুচিত করে: স্প্রিংকে তার স্বাভাবিক দৈর্ঘ্যের চেয়ে বেশি পরিমাণে সংকুচিত করলে তার স্থিতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে।
* স্প্রিংকে প্রসারিত করে: স্প্রিংকে তার স্বাভাবিক দৈর্ঘ্যের চেয়ে বেশি পরিমাণে প্রসারিত করলে তার স্থিতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে।
* ভর যুক্ত করে: যদি স্প্রিংটিকে উল্লম্বভাবে ঝুলিয়ে তাতে কোনো ভর যোগ করা হয়, তবে অভিকর্ষীয় স্থিতিশক্তিও বৃদ্ধি পাবে।
নীলের ওজন ৪০ কেজি এবং উচ্চতা ১২২ সেমি হলে, নীলের দেহভর সূচক নির্ণয় কর।
* দেহভর সূচক (BMI) নির্ণয়ের সূত্র: BMI = ওজন (কেজি) / [উচ্চতা (মিটার)]²
* এখানে, ওজন = ৪০ কেজি
* উচ্চতা = ১২২ সেমি = ১.২২ মিটার
* BMI = ৪০ / (১.২২ × ১.২২)
* BMI = ৪০ / ১.৪৮৮৪
* BMI \approx ২৬.৮৭
* সুতরাং, নীলের দেহভর সূচক প্রায় ২৬.৮৭।
বল কাকে বলে?
* বল হলো একটি বাহ্যিক কারণ যা কোনো স্থির বস্তুর উপর প্রয়োগ করলে তাকে গতিশীল করতে চেষ্টা করে বা গতিশীল করে, অথবা কোনো গতিশীল বস্তুর গতির পরিবর্তন ঘটাতে চেষ্টা করে বা পরিবর্তন ঘটায়। বলের মান ও দিক উভয়ই আছে, তাই এটি একটি ভেক্টর রাশি।
তাপ বিদ্যুৎ কী?
* তাপ বিদ্যুৎ হলো এক প্রকার বিদ্যুৎ যা জীবাশ্ম জ্বালানি (যেমন কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস বা পেট্রোলিয়াম) পুড়িয়ে উৎপন্ন তাপশক্তিকে ব্যবহার করে তৈরি হয়। এই তাপে জলকে ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
দুহাতের তালুকে ঘষো, কি অনুভব করবে এবং কেন?
* দুহাতের তালুকে ঘষলে উষ্ণতা বা তাপ অনুভব করবে।
* কারণ: যখন হাতের তালু দুটিকে একসাথে ঘষা হয়, তখন ঘর্ষণ বলের সৃষ্টি হয়। এই ঘর্ষণ বল গতিশক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত করে, যার ফলে তালুতে উষ্ণতা অনুভব হয়।
বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা, সংকর ধাতু ব্যবহারের সুবিধা গুলি লেখো।
* সংকর ধাতু ব্যবহারের সুবিধাগুলি হলো:
* শক্তি ও কাঠিন্য বৃদ্ধি: সংকর ধাতু বিশুদ্ধ ধাতুর চেয়ে বেশি শক্তিশালী ও কঠিন হয় (যেমন ইস্পাত লোহার চেয়ে শক্তিশালী)।
* ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা: সংকর ধাতুগুলি প্রায়শই বিশুদ্ধ ধাতুর চেয়ে ক্ষয় বা মরিচা প্রতিরোধে ভালো হয় (যেমন স্টেইনলেস স্টিল)।
* নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য অর্জন: সংকর ধাতু তৈরি করে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য (যেমন - নমনীয়তা, বিদ্যুৎ পরিবাহিতা, গলনাঙ্ক) নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যা বিশুদ্ধ ধাতুতে সম্ভব নয়।
* কম ব্যয়বহুল: কিছু ক্ষেত্রে সংকর ধাতুগুলি উৎপাদন ও ব্যবহারে বিশুদ্ধ ধাতুর চেয়ে বেশি সাশ্রয়ী হতে পারে।
ব্যাং, ফড়িং, ময়ূর, সাপ, গাছ ও সূর্যকে ঠিক ঠিক বসিয়ে একটি খাদ্য শৃঙ্খল তৈরি কর।
* সূর্য \rightarrow গাছ \rightarrow ফড়িং \rightarrow ব্যাং \rightarrow সাপ \rightarrow ময়ূর
গভীর সমুদ্রে মাছ চ্যাপ্টা আকৃতির হয় কেন?
* গভীর সমুদ্রে মাছ চ্যাপ্টা আকৃতির হওয়ার কারণ হলো উচ্চ জলীয় চাপ।
* গভীর সমুদ্রে জলের চাপ অত্যন্ত বেশি হয়। চ্যাপ্টা বা সমতল শরীর এই উচ্চ চাপকে শরীরের পৃষ্ঠজুড়ে সমানভাবে বিতরণ করতে সাহায্য করে, যার ফলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না এবং মাছ চাপকে ভালোভাবে সহ্য করতে পারে। এই আকৃতি তাদের এই চরম পরিবেশে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।
পরিবর্তিত শিলা কীভাবে তৈরি হয়?
* পরিবর্তিত শিলা বা রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rock) তৈরি হয় যখন কোনো বিদ্যমান শিলা (যেমন - আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা বা অন্য রূপান্তরিত শিলা) উচ্চ তাপ (Heat), চাপ (Pressure) এবং রাসায়নিকভাবে সক্রিয় তরলের প্রভাবে তার মৌলিক খনিজ গঠন, গঠনতন্ত্র এবং রাসায়নিক সংমিশ্রণ পরিবর্তন করে। এই প্রক্রিয়া ভূগর্ভে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে বা ম্যাগমার সংস্পর্শে আসার ফলে ঘটে।
আন্তর্জাতিক প্রমাণ মিটার কাকে বলে?
* আন্তর্জাতিক প্রমাণ মিটার (International Prototype Meter) হলো দৈর্ঘ্যের SI একক মিটারের মূল সংজ্ঞা।
* মূলত, এটি প্লাটিনাম ও ইরিডিয়াম সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি একটি দণ্ডের উপর দুটি নির্দিষ্ট বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব হিসাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছিল, যা প্যারিসের আন্তর্জাতিক ওজন ও পরিমাপ ব্যুরোতে (BIPM) সংরক্ষিত আছে। বর্তমানে, ১ মিটারকে শূন্যস্থানে আলোর ১৬৫০০৭৬৩.৭৩টি তরঙ্গদৈর্ঘ্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, যা আরও সুনির্দিষ্ট।
এলপিজি ও সিএনজির মধ্যে পার্থক্য গুলি লেখ।
| বৈশিষ্ট্য | এলপিজি (LPG - Liquefied Petroleum Gas) | সিএনজি (CNG - Compressed Natural Gas) |
|---|---|---|
| গঠন | প্রধানত প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসের মিশ্রণ। | প্রধানত মিথেন গ্যাস। |
| সঞ্চয় | তরল অবস্থায় উচ্চ চাপে সিলিন্ডারে সঞ্চিত থাকে। | উচ্চ চাপে গ্যাসীয় অবস্থায় সিলিন্ডারে সঞ্চিত থাকে। |
| উৎপাদন | অপরিশোধিত তেল শোধন বা প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র থেকে। | প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র থেকে। |
| ব্যবহার | গৃহস্থালীর জ্বালানি, ছোট যানবাহনে। | প্রধানত যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে। |
| ঘনত্ব (বায়ুর সাপেক্ষে) | বায়ুর চেয়ে ভারী। | বায়ুর চেয়ে হালকা। |
CGS পদ্ধতি ও SI- তে বলের একক লেখ।
* CGS পদ্ধতিতে বলের একক: ডাইন (Dyne)
* SI পদ্ধতিতে বলের একক: নিউটন (Newton)
মেয়েদের এবং ছেলেদের শারীরিক বৃদ্ধির গতি থেমে যায় কত বছর বয়সে?
* মেয়েদের এবং ছেলেদের শারীরিক বৃদ্ধির গতি প্রায় ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সের মধ্যে থেমে যায়।
* মেয়েদের ক্ষেত্রে সাধারণত ১৪-১৬ বছর বয়সে দ্রুত বৃদ্ধি হয় এবং ১৬-১৮ বছর বয়সে তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে ও প্রায় ১৮-১৯ বছর বয়সে থেমে যায়।
* ছেলেদের ক্ষেত্রে সাধারণত ১৬-১৮ বছর বয়সে দ্রুত বৃদ্ধি হয় এবং ১৯-২১ বছর বয়সে তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে ও প্রায় ২১ বছর বয়সে থেমে যায়।
যে কোনো দুটি অস্থিসন্ধির অবস্থান ও কাজ লেখো।
* ক) কব্জা সন্ধি (Hinge Joint):
* অবস্থান: কনুই, হাঁটু, আঙুলের গাঁট।
* কাজ: এটি দরজার কব্জার মতো শুধু একটি দিকে (সামনে-পেছনে) নড়াচড়ার অনুমতি দেয়। যেমন - কনুই ভাঁজ করা বা সোজা করা।
* খ) বল ও সকেট সন্ধি (Ball and Socket Joint):
* অবস্থান: কাঁধ, নিতম্ব।
* কাজ: এই সন্ধি সকল দিকে (ঘোরা, ভাঁজ করা, প্রসারিত করা) নড়াচড়ার অনুমতি দেয়। যেমন - হাত বা পা ঘোরানো।
জলের গভীরতা চাপের উপর নির্ভরশীল - প্রমাণ কর।
* প্রমাণ:
* একটি প্লাস্টিকের বোতলে একই উচ্চতায় তিনটি ছিদ্র করো এবং টেপ দিয়ে ঢেকে দাও।
* বোতলটিকে জল দিয়ে ভর্তি করো।
* এবার বোতলের উপরের টেপটি সরাও, দেখবে জল অল্প দূরত্বে পড়ছে।
* এরপর মাঝের টেপটি সরাও, দেখবে জল আরও কিছুটা দূরে পড়ছে।
* সবশেষে নিচের টেপটি সরাও, দেখবে জল সবচেয়ে বেশি দূরে পড়ছে।
* পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যা: এই পরীক্ষা প্রমাণ করে যে জলের গভীরতা যত বাড়ে, তার চাপ তত বৃদ্ধি পায়। নিচের ছিদ্র দিয়ে জল সবচেয়ে বেশি দূরে পড়ার কারণ হলো ওই বিন্দুতে জলের চাপ সবচেয়ে বেশি।
বায়ুর যে চাপ আছে তা প্রমাণ কর।
* প্রমাণ:
* একটি গ্লাসকে জল দিয়ে পুরোপুরি ভর্তি করো।
* একটি শক্ত কার্ডবোর্ডের টুকরো গ্লাসের মুখে এমনভাবে রাখো যাতে গ্লাসের মুখ পুরোপুরি ঢাকা পড়ে।
* এবার গ্লাসটিকে উল্টে দাও এবং এক হাত দিয়ে কার্ডবোর্ডটি ধরে রাখো।
* ধীরে ধীরে হাত সরিয়ে নাও। দেখবে কার্ডবোর্ডটি নিচে পড়ছে না এবং জলও পড়ছে না।
* পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যা: কার্ডবোর্ডটি নিচে না পড়ার কারণ হলো, নিচের দিক থেকে বায়ু গ্লাসের উপর চাপ সৃষ্টি করে, যা ভেতরের জলের ওজনের কারণে সৃষ্ট চাপকে প্রতিহত করে। এটি প্রমাণ করে যে বায়ুর চাপ আছে।
১০০০ ঘন সেন্টিমিটার = কত মিলিমিটার?
* ১০০০ ঘন সেন্টিমিটার = ১,০০,০০,০০,০০০ (একশত কোটি) ঘন মিলিমিটার
* ব্যাখ্যা:
* ১ সেন্টিমিটার = ১০ মিলিমিটার
* ১ ঘন সেন্টিমিটার = (১ সেন্টিমিটার)³ = (১০ মিলিমিটার)³ = ১০০০০ মিলিমিটার
* অতএব, ১০০০ ঘন সেন্টিমিটার = ১০০০ × (১০ মিলিমিটার × ১০ মিলিমিটার × ১০ মিলিমিটার)
* = ১০০০ × ১০০০ ঘন মিলিমিটার
* = ১,০০,০০,০০০ ঘন মিলিমিটার
খাদ্যজাল কাকে বলে?
* একটি বাস্তুতন্ত্রে যখন একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত বা সংযুক্ত থাকে, তখন তারা সম্মিলিতভাবে একটি জটিল জালিকা তৈরি করে, যাকে খাদ্যজাল বলে। খাদ্যজালে একটি জীব একাধিক খাদ্যশৃঙ্খলের অংশ হতে পারে, যা বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা বাড়ায়।
পার্থক্য লেখ : উৎপাদক ও খাদক।
| বৈশিষ্ট্য | উৎপাদক (Producers) | খাদক (Consumers) |
|---|---|---|
| সংজ্ঞা | যে জীবেরা সালোকসংশ্লেষ বা রসায়নিক সংশ্লেষের মাধ্যমে নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। | যে জীবেরা খাদ্য উৎপাদনের জন্য অন্য জীবের উপর নির্ভরশীল। |
| খাদ্য | অজৈব পদার্থ থেকে নিজেদের খাদ্য তৈরি করে (যেমন - সূর্যালোক, জল, কার্বন ডাই অক্সাইড)। | উৎপাদক বা অন্য খাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। |
| উদাহরণ | সবুজ উদ্ভিদ, কিছু ব্যাকটেরিয়া, শৈবাল। | তৃণভোজী (গরু, ছাগল), মাংসাশী (বাঘ, সিংহ), সর্বভুক (মানুষ)। |
| ট্রফিক স্তর | প্রথম ট্রফিক স্তর। | দ্বিতীয়, তৃতীয় বা উচ্চতর ট্রফিক স্তর। |
নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস কী?
* নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস (Renewable Energy Source) হলো এমন শক্তি উৎস যা প্রকৃতিতে দ্রুত পুনরায় পূরণ হয় বা অফুরন্ত। এই উৎসগুলি ব্যবহার করলেও নিঃশেষ হয় না বা খুব ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়।
* উদাহরণ: সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি, জলবিদ্যুৎ শক্তি, বায়োমাস শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি।
অস্থিসন্ধির বিভিন্ন সমস্যা গুলি লেখো।
* অস্থিসন্ধির বিভিন্ন সমস্যাগুলি হলো:
* আর্থ্রাইটিস (বাত): অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, ব্যথা এবং ফোলাভাব। এটি অস্টিওআর্থ্রাইটিস (হাড়ের ক্ষয়) বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (স্বয়ংক্রিয় রোগ) হতে পারে।
* মচকে যাওয়া (Sprain): লিগামেন্টের অতিরিক্ত টান বা ছিঁড়ে যাওয়া।
* স্থানচ্যুতি (Dislocation): অস্থিসন্ধি থেকে হাড়ের স্থান সরে যাওয়া।
* বুরসাইটিস (Bursitis): অস্থিসন্ধির কাছাকাছি থাকা তরলপূর্ণ থলি (বার্সা) তে প্রদাহ।
* টেন্ডিনাইটিস (Tendinitis): টেন্ডনে প্রদাহ।
জাহাজ জলে ভাসে কেন?
* জাহাজ জলে ভাসে আর্কিমিডিসের নীতির কারণে।
* একটি জাহাজ তার ওজনের সমান জল অপসারিত করে। অপসারিত জলের ওজন যদি জাহাজের মোট ওজনের চেয়ে বেশি বা সমান হয়, তবে জাহাজটি জলে ভেসে থাকে। জাহাজের ভিতরের অংশ ফাঁপা হওয়ায় এর গড় ঘনত্ব জলের ঘনত্বের চেয়ে কম হয়, ফলে এটি যথেষ্ট পরিমাণে জল অপসারিত করতে পারে এবং প্লোবতা বল এর ওজনকে সমর্থন করে।
গতিশীল বস্তু কাকে বলে?
* যে বস্তু সময়ের সাথে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে তার অবস্থার পরিবর্তন করে, তাকে গতিশীল বস্তু বলে।
* উদাহরণ: চলমান গাড়ি, উড়ন্ত পাখি, চলন্ত ট্রেন।
শক্তি সংকট কী?
* শক্তি সংকট হলো এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোনো দেশ বা বিশ্বে শক্তির চাহিদা শক্তির সহজলভ্যতার চেয়ে বেশি হয়। এর কারণ হতে পারে জীবাশ্ম জ্বালানির মতো অনবীকরণযোগ্য উৎসের দ্রুত ক্ষয়, শক্তি উৎপাদনের উচ্চ খরচ, পরিবেশগত উদ্বেগ বা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা। এর ফলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদির অভাব দেখা দেয় এবং অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
- পাললিক শিলা ও আগ্নেয় শিলার তুলনা করো।
- ম্যাগমা, লাভা ও আগ্নেয় শিলার সম্পর্ক কী?
- সংকর ধাতু কাকে বলে ? একটি উদাহরণ দাও।
- জীবাশ্ম জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা কী?
- অনবীকরণযোগ্য শক্তি কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
- কয়লা কীভাবে তৈরি হয় তার একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
- পেশির দুটি সমস্যা লেখ।
- প্রদত্ত ঘটনা দুটিতে কোন শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়: ক) সৌর কুকার চালু করা হলো, খ) দেশলাই কাঠি জ্বালানো হলো।
- বার্নৌলির নীতিটি উল্লেখ কর।
- জীবাশ্ম বলতে কী বোঝায়?
- ব্রিজ কেন ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হয়?
- ম্যাগমা কাকে বলে?
- বেগের একক প্রাথমিক না লব্ধ ব্যাখ্যা কর।
- খাদ্য পিরামিড কী?
- ঝামা পাথরে ছিদ্র দেখা যায় কেন?
- সৌর দিন কি?
- দুটি শ্বাস পেশির নাম লেখ।
- দুটি জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ দাও।
- হৃদস্পন্দন বলতে কী বোঝো?
- রক্তের কাজ কী?
- দেশলাই কাঠির বারুদের দিকটা বাক্সের গায়ে ঘষলে আগুন জ্বলে ওঠে কেন?
- স্বাভাবিক পুষ্টির জন্য আমাদের খাদ্য গ্রহণ করা উচিত কেন?
- বৃদ্ধির হার বলতে কী বোঝায়?
- মৌলিক বা প্রাথমিক রাশি কাকে বলে?
- ১৫০ নিউটন মানের বল ১৫ পাক্কাল চাপ উৎপন্ন করে। ওই বলের ক্রিয়াশীল অঞ্চলের ক্ষেত্রফল কত?
- এক ট্রফিক লেভেল থেকে অন্য ট্রফিক লেভেলে শক্তির স্থানান্তরের সময় শক্তির অপচয় হয় কেন?
- আমরা যদি ফিতের স্কেল দিয়ে দৈর্ঘ্য না মেপে সবাই হাত দিয়ে দৈর্ঘ্য মাপতাম, তাহলে কি হতো বলে তোমার মনে হয়?
- পেরেক, বঁটি ইত্যাদি যন্ত্র ধারালো হলে ব্যবহার করতে সুবিধা হয় কেন?
- তোমার দেহে জল ও খাবারের মধ্যে দিয়ে জীবাণু ঢুকলে, জীবাণুকে মারার জন্য তোমার শরীরে কি কি ব্যবস্থা আছে?
- একটি বাঁকা দাগের দৈর্ঘ্য কিভাবে একটি সুতো ও একটি রুলারের সাহায্যে মাপা যাবে?
- একটি স্প্রিং- এর স্থিতিশক্তি কীভাবে বৃদ্ধি করবে?
- নীলের ওজন ৪০ কেজি এবং উচ্চতা ১২২ সেমি হলে, নীলের দেহভর সূচক নির্ণয় কর।
- বল কাকে বলে?
- তাপ বিদ্যুৎ কী?
- দুহাতের তালুকে ঘষো, কি অনুভব করবে এবং কেন?
- বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা, সংকর ধাতু ব্যবহারের সুবিধা গুলি লেখো।
- ব্যাং, ফড়িং, ময়ূর, সাপ, গাছ ও সূর্যকে ঠিক ঠিক বসিয়ে একটি খাদ্য শৃঙ্খল তৈরি কর।
- গভীর সমুদ্রে মাছ চ্যাপ্টা আকৃতির হয় কেন?
- পরিবর্তিত শিলা কীভাবে তৈরি হয়?
- আন্তর্জাতিক প্রমাণ মিটার কাকে বলে?
- এলপিজি ও সিএনজির মধ্যে পার্থক্য গুলি লেখ।
- CGS পদ্ধতি ও SI- তে বলের একক লেখ।
- মেয়েদের এবং ছেলেদের শারীরিক বৃদ্ধির গতি থেমে যায় কত বছর বয়সে?
- যে কোন দুটি অস্থিসন্ধির অবস্থান ও কাজে লেখো।
- জলের গভীরতা চাপের উপর নির্ভরশীল - প্রমাণ কর।
- বায়ুর যে চাপ আছে তা প্রমাণ কর।
- ১০০০ ঘন সেন্টিমিটার = কত মিলিমিটার?
- খাদ্যজাল কাকে বলে?
- পার্থক্য লেখ : উৎপাদক ও খাদক।
- নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস কী?
- অস্থিসন্ধির বিভিন্ন সমস্যা গুলি লেখ।।
- জাহাজ জলে ভাসে কেন?
- গতিশীল বস্তু কাকে বলে?
- শক্তি সংকট কী?
